তাজা খবর:

বগুড়ায় উপুর্যূপরি ছুরিকাঘাতে দম্পতি খুন                    নিবন্ধনের আশায় দক্ষিণ চট্টগ্রাম ছাড়ছে রোহিঙ্গারা                    দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে পারের অপেক্ষায় শত শত যানবাহন                    অভয়নগরে ভৈরব নদে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত                    যশোরের অজ্ঞাত পরিচয় তরুণীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার                    বিশ্ব জনমত ঘুরছে: কৃষিমন্ত্রী                    নকলা উপজেলা চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার                    কাহারোলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাইভেট কারের চালক সহ নিহত ৩                    গৌরীপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সম্ভ্রমের মূল্য দুই কাঠা জমি!                    বিষমুক্ত সবজির হাট মনোয়ারা বেগমের বাড়ি                    
  • রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৭, ৭ কার্তিক ১৪২৪

বলিভিয়ার গোলকিপারের প্রশংসায় ব্রাজিল কোচ

বলিভিয়ার গোলকিপারের প্রশংসায় ব্রাজিল কোচ

আর্জেন্টিনার মত দুরাবস্থায় না পড়লেও বাছাইপর্বের ম্যাচে একটা ধাক্কা খেয়েছে শিরোপার অন্যতম

চিংড়ির বহু গুণ

চিংড়ির বহু গুণ

চিংড়ি শুধু সুস্বাদু খাবারই নয়, এর বহু গুণও রয়েছে। কিন্তু অনেকেরই চিংড়ির এসব গুণের কথা

তরমুজের বীজ খেলে পাবেন এই বিস্ময়কর উপকারিতাগুলো!

তরমুজের বীজ খেলে পাবেন এই বিস্ময়কর উপকারিতাগুলো!

আচ্ছা কে আমাদের শিখিয়েছে বলুন তো এটা ভাল নয়, ওটা ভাল নয়!

মাংশের টুকরোত আল্লাহর নাম

মাংশের টুকরোত আল্লাহর নাম

কোন কাল্পনিক গল্প নয়, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য পাবনার আটঘরিয়ায় কোরবানির মাংশের একটি টুকরোও

ভ্যালেন্টাইন ডে, আজন্ম পাপ এবং হলুদ গোলাপ

ডা. উজ্জল কুমার রায়

13 Feb 2017   07:56:42 PM   Monday BdST
A- A A+ Print this E-mail this
 ভ্যালেন্টাইন ডে, আজন্ম পাপ এবং হলুদ গোলাপ

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে প্রায় প্রতিটি দিনই কোনো না কোনো দিবস হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে। কিন্তু সেই দিবস ঘোষনা নামেই সার, বাস্তবে চার-পাঁচটা দিবস ছাড়া কোনো দিবস মানুষকে স্পর্শ করেনি । সব থেকে বেশি জনপ্রিয় বোধ হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে বা প্রেমিক- প্রেমিকা দিবস । আসলে প্রেম নিরন্তন ও চির নবীন। সে মানে না স্থান-কাল -পাত্র, ভূ-খন্ড।
যুদ্ধের রক্তভূমিতেও দুটি বিপরীত লিঙ্গের মানুষ একে অপরকে খুজতে থাকে দৃঢ়বদ্ধভাবে বাঁচার স্বপ্œে । তাই এই দিনটি জনপ্রিয় হয়েছে সন্দেহ নেই। এই প্রেমের সাথে শরীরী একটা সম্পর্ক আছে বলেই এই দিনটি নিয়ে বিতর্কও কম নেই। অনেকের মতে এই দিনটি যুবসমাজের সর্বনাশ ডেকে আনছে। অবশ্য এই ধারনাটি ও মিথ্যে নয়। কারন এই দিনটিতে  যতটা না হৃদয়ের আকর্ষণ থাকে, তার চেয়ে বেশি শরীরী আহ্বান ও বানিজ্যিক উপহারের লেনাদেনা। তার প্রমাণ এই ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে সপ্তাহ ব্যাপি এত অদ্ভুত ডে-এর ঘোষনা। যার কোন উদ্দেশ্য  নেই ,সমাজে সার্থকতাও নেই। ৭ই ফেব্রুয়ারী ‘রোজ’ ডে , ৮ই ফেব্রুয়ারী ‘প্রোপোজ ডে’,৯ই ফেব্রুয়ারী ‘চকলেট ডে’১০ই ফেব্রুয়ারী ‘টেডি ডে’১১ই ফেব্রুয়ারী ‘প্রমিস ডে’ ১২ ফেব্রুয়ারী ‘কিস ডে’, ১৩ই ফেব্রুয়ারী  ‘হাগ ডে’, ১৪ই ফেব্রুয়ারী ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’।
এই দিনগুলি অর্থাৎ ৭ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারী পড়লেই বোঝা যায় দিনগুলির সেই অর্থে সামাজিক তাৎপর্য নেই। কিন্তু ১৪ই ফেব্রুয়ারীর কথা সম্পূর্ন আলাদা। এর সাথে জড়িয়ে আছে এক মর্মান্তিক মানববতার ইতিহাস-বিশ্ব প্রেমের ইতিহাস। একঝলক দেখে নেওয়া যাক সেই ইতিহাসের প্রেক্ষাপট-এই ঘটনার সময়কাল আজ থেকে দু’হাজার বছর আগে ২৬৯ খ্রীষ্টাব্দের সমসাময়িক। তখন রোমে ‘জুনো’ দেবীর  আরাধনা উপলক্ষে এক উৎসব ছিল যার নাম লিউপার কেলিয়া। ‘জুনো’ ছিলেন প্রেমের দেবী। লিউপার কেলিয়া ছিল সেই প্রেমের বন্ধনের উৎসব। উৎসবটি মজার।একটা কাঁচের জারে অবিবাহিত মেয়েরা তাদের নাম কাগজে মুড়ে রেখে দিতেন । অবিবাহিত পুরুষেরা সেই জার থেকে একটি করে নাম তুলে নিয়ে ওই মেয়ের সাথে এক সপ্তাহ মেলামেশার সুযোগ পেত। যদি তাদের মনের মিলন হত তাহলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হত, না হলে আবার পরবর্তী বছরের জন্য অপেক্ষা। এই আনন্দময় উৎসবের সূচনাকাল ছিল ১৪ই ফেব্রুয়ারী।
এই জনপ্রিয় উৎসবে এক সময় নেমে এল রাজতন্ত্রের কালো ছায়া। রোমান সম্্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস সব দেবদেবীর আরাধনা বন্ধ করে নিজের ধর্মই রাষ্ট্রধর্ম বলে ফতোয়া জারি করেন। ্এই সম্রাট ছিলেন খুবই যুদ্ধপ্রিয়। তাই এই লিউপার কেলিয়া উৎসবের ওপর তাঁর বিশেষ রোষানল ছিল । কারন অধিকাংশ যুবক বিবাহিত জীবন বেছে নেওয়ার যুদ্ধে যেতে চাইতো না । ফলে সেনার অভাব পূরন করতে তিনি বিবাহও নিষিদ্ধ করেন। এর অবমাননায় চরম শাস্তি পেতে হত। যে কোনো করাল ছায়া আসে তখনই আবির্ভাব হয় মহা মানবের । এখনো  একজন ধর্মযাজক  আবিভূর্ত হলেন যার নাম সন্ত
ভ্যালেন্টাইন ।  তিনি রাজধর্মের তীব্র বিরোধিতা করেন। আমি আগেই বলেছি, রক্তভূমিতে দাড়িয়েও জন্ম নেয় প্রেম। এখানেও তাঁর ব্যতিক্রম হয়নি। প্রেমিক-প্রেমিকারা গোপনে এই্ ধর্ম যাযকের কাছে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ  হতেন স্থানীয় গীর্জায় । এভাবে যুব সমাজের একটা বিরাট অংশ সন্ত ভ্যালেন্টাইনের অনুগামী হয়ে পড়ে তরুন বয়স্ক ধর্ম যাযক ভ্যালেন্টাইনের অনুগামিদের দেখে ক্লাডিয়াস রাগে জ্বলে ওঠেন। অন্তরে ভয়ও দেখা দেয়। তাই তাকে গ্রেপ্তারের ফতোয়াজারি করা হয়। আচমকাই এদিন এক যুবক-যুবতিকে বিবাহ দেবার সময় ধরা পড়ে যান  সন্ত ভ্যালেন্টাইন। তাঁর বন্দীতে যুব সমাজের মধ্যে চাপা অসন্তোষ দেখা দেয়। সেই অসন্তোষ যাতে না ছড়ায় সেজন্য সন্ত ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদন্ড জারি করা হয়। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামীকে এক নির্জন কুঠুরিতে কড়া প্রহরায় রাখা হয় যাতে তার সাথে কেউ দেখা না করতে পারে। এখানেই ঘটে এক আশ্চর্য ঘটনা। ভ্যালেন্টাইনকে যিনি পাহারা দিতেন তার মেয়ে প্লাতিনা ছিলেন জন্মান্ধ। তাছাড়াও মাঝে মধ্যে তীব্র মাথা যন্ত্রনায় কষ্ট পেতেন । এমনই প্রহরাকালে প্রহরির বাড়ি থেকে খবর আসে মৃত্যুসম যন্ত্রনায় কষ্ট পাচ্ছে প্লাতিনা। প্রহরী একবার তাকায় সন্ত ভ্যালেন্টাইনের দিকে। তিনি নাকি অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। প্রহরী  একজন পিতা। ভুলে যায় রাজ নির্দেশ। গোপনে যন্ত্রণাগ্রস্ত মেয়েকে নিয়ে আসে সন্ত ভ্যালেন্টাইনের কাছে। সন্ত ভ্যালেনন্টাইন প্লাতিনার কপালে হাত রাখতেই মাথা যন্ত্রনা নিমেষে উধাও হয়ে যায়। কী হয়েছে প্রহরী জানতে পারে না প্লাতিনা যখন ফিরে আসে তার মুখ তখন এক দিব্য হাসি। এরপর প্লাতিনাকে প্রায় প্রতিদিন সন্ত ভ্যালেন্টাইনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়্। নিভূতে কী কথা হয়, কেউ জানতে পারে না। মাথা যন্ত্রণাও চিরতরে ঠিক হয়ে যায়। এদিকে সম্ম্রাট ক্লডিয়াস ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যু দিন ধার্য করে ফেলেছেন। সেই লিউপার কেলিয় উৎসবের দিনটি অর্থাৎ ১৪ই ফেব্রুয়ারী সন্ত ভ্যালেন্টাইন একটা ছোট্ট চিঠি প্রহরীর হাতে দিয়ে বলেন, তাঁর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পর সেটি প্লাটিনার হাতে দিতে। ১৪ই ফেব্রুয়ারী ভ্যালেন্টাইনকে বধ্যভূমিতে আনা হয়। বড়ই মর্মান্তিক মৃত্যুদন্ড। দিনের আলোয় জনসমক্ষে প্রথমে মুগুর দিয়ে মাথা থেঁতলে তারপর শিরোচ্ছদ করা হয়। এই ভাবে এই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। মৃত্যুদন্ডের পর প্লাতিনাকে দেওয়া হলো সেই চিঠি। অবাক বিস্ময়ে প্রহরী দেখলেন তার মেয়ে দৃষ্টিশক্তি পেয়েছে। চিঠিতে লেখা ‘উইথ লাভ ফ্রম ইওর ভ্যালেন্টাইন’। চিঠিটি খুলতেই ঝরে পড়ল একটি হলুদ ফুল। সবাই বুঝতে পারল সন্ত ভ্যালেন্টাইনের সাথে প্লাটিনার এক মধুর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সন্ত ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুতে বিদ্রোহ চরমে উঠে। সম্রাট দ্বিতীয় ক্লোসিয়াসও মারা যায়। সম্রাটের মৃত্যুর সাথে সাথে সেই রাষ্ট্রধর্মের পতন হয়। আবার পূর্বের মতো মেতে ওঠে সবাই লিউপার কেলিয়া উৎসব। সন্ত ভ্যালেন্টাইনের নামে ১৪ই ফেব্রুয়ারী  দিনটিকে উৎসর্গ করা হয়। দিনটি প্রেম দিন হিসেবে সার্থকতা পায়। বদলায় সময়,বদলায় দিন, বদলায় না ইতিহাস। সুতরাং যারা ভাবছেন এই দিনটি যুব সমাজকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে তা কিন্তু চরম ভূল। জেনে রাখা দরকার, এই দিনটি শুধু একজন প্রেমিক-প্রেমিকার মত্যুদিন নয়, সেই প্রেম ছিল হৃদয়ের, সমগ্র একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে। ইতিহাস তো বড়ই মর্মান্তিক। আসলে আজকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া হয়েছে বলেই এই দিনটি খারাপ মনে হচ্ছে। বিজ্ঞাপনগুলো দেখলেই বোঝা যায় দিনটি হৃদয়ের মিলন নয়, শরীরী চাহিদা ও উপহরের জন্যই যেন নির্দিষ্ট। এখন হৃদয়ের মিলন বড়ই দুষ্প্রাপ্য। সকালের প্রেম বিকেলে ভেঙ্গে যাচ্ছে। শুরুতেই শরীরী হাতছানি। যার পাঁকে জড়িয়ে খুন, ব্লাকমেইল। ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি নেটের দৌলতে ছড়িয়ে পড়ছে সারা বিশ্বে। এর জন্যই কী সন্ত ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগ? অনেকেই বলেন প্রেমের পড়ার  দিন হয় না -বাস্তবে সত্য কথাই। কিন্তু মনে রাখা দরকার ‘ডে’ ঘোষনা মানে সমাজের উন্নয়ন। ২১শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ৮ই মার্চ নারী দিবস ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস , ১৪ই নভেম্বর শিশুদিবস, ১৬ই ডিসেম্বর দেশ রক্ষার শপথ নিই অর্থাৎ বিজয় দিবস, ইত্যাদি-ইত্যাদি ‘দিবস’ গুলি বিশেষ কর্মসূচির জন্য। আজ ভেঙেছে সমাজ,ভাঙছে পরিবার, ভাঙছে দাম্পত্য। তাই ১৪ই ফেব্রুয়ারীর মহান দিনটির আত্মত্যাগ বুকে নিয়ে কোনো উপহার নয়, প্রেমিক-প্রেমিকারা দু’জনের হাত ধরে শপথ নিন, সুখে-দুঃখে সবসময় একে-অপরের হয়ে থাকবেন। কোনোদিন কোনোমতেই সেই বন্ধন যেন শিথিল না হয়। সেই বন্ধন বুকে নিয়ে তবেই ডুব দিতে হবে প্রেমের গোপন সাগরে। দেখবেন সেই প্রেমের সুখই আলাদা। আর সেই প্রেম যারা সফল করতে পারবেন তাদের কাছেই সার্থক হবে দিনটির মর্যাদা।

লেখক ঃ চিকিৎসক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
 
A- A A+ Print this E-mail this
আপনার পছন্দের এলাকার সংবাদ
পড়তে চাই:
Fairnews24.com, starting the journey from 2010, one of the most read bangla daily online newspaper worldwide. Fairnews24.com has the highest journalist among all the Bangladeshi newspapers. Fairnews24.com also has news service and providing hourly news to the highest number of online and print edition news media. Daily more then 1, 00,000 readers read Fairnews24.com online news. Fairnews24.com is considered to be the most influencing news service brand of Bangladesh. The online portal of Fairnews24.com (www.fairnews24.com) brings latest bangla news online on the go.
৪৮/১, উত্তর কমলাপুর, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন : +৮৮ ০২ ৯৩৩৫৭৬৪
E-mail: info@fns24.com
fnsbangla@gmail.com
Maintained by : fns24.net