তাজা খবর:

আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ                    দক্ষিন চট্টগ্রামে ৬০গ্রামে ঈদ উৎসব পালিত                    পুরাতন কাপড়েই ঈদ হবে কান্দুলী আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের                    দৌলতখানে চাল বিতরণ নিয়ে ইউএনও লাঞ্চিত                    দাকোপের আলোচিত আত্মহত্যা: পরিকল্পিত হত্যার দাবী পুত্রের                    কেশবপুরে দেশজনতার কথা’পত্রিকার দোয়া ও ইফতার মাহফিল                    মান্দায় সামাজিক সংগঠন অর্পণ’র ঈদ বস্ত্র বিতরণ                    মুন্সীগঞ্জে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮ টায়                    রাণীনগরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু                    রাণীনগরে একাধিক মামলার আসামী মুক্তার গ্রেফতার                    
  • বুধবার, ২৮ জুন ২০১৭, ১৫ আষাঢ় ১৪২৪

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন শাবানা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন শাবানা

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী অভিনেত্রী শাবানা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সোমবার দেখা করেছেন। সামাজিক

ঈদে ১৮ নাটকে ঊর্মিলা

ঈদে ১৮ নাটকে ঊর্মিলা

প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে নানা চরিত্রে অভিনয় নিয়ে একাধিক টিভি চ্যানেলে উপস্থিত হন

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেরা একাদশে তামিম

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেরা একাদশে তামিম

আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে প্রথম বারের মতো বাংলাদেশকে সেমি-ফাইনালে তুলতে বড় অবদান রাখা তামিম

র‌্যাঙ্কিংয়ে মাশরাফি, উন্নতি তামিমের

র‌্যাঙ্কিংয়ে মাশরাফি, উন্নতি তামিমের

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পারফরম্যান্সে আইসিসি ওয়ানডে বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ এগিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

অর্থনৈতিক মুক্তির স্লোগান ও বিষাদের কালো ছায়া

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু

19 Mar 2017   08:05:42 PM   Sunday BdST
A- A A+ Print this E-mail this
 অর্থনৈতিক মুক্তির স্লোগান ও বিষাদের কালো ছায়া

অর্থনৈতিক মুক্তির সাথে দেশের মানুষের সুখ, দুঃখ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর বাহিরে যাওয়া যেমন দেশের সরকার থেকে শুরু করে কারো পক্ষেই সম্ভব নয়, তেমনি এটাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও পরাহত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্য ও প্রত্যাশাতেই শুরু হয়। ৯ মাসের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে এই প্রত্যাশা ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে ৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশাল ত্যাগের মাধ্যমে অপরাহ্ন থেকে স্বাধীনতার মধ্যদিয়ে নতুন যাত্রা শুরু হয়।   

                 মূলত তদানীন্তন পাকিস্তানের শাসক ও শোষক গোষ্টির ২৩ বছরে একতরফা শোষণ, লুন্ঠন, নির্যাতন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে পাহাড় পর্বত সম অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণেই এর সূত্রপাত। যার জন্য আন্দোলন, প্রতিবাদ করতে যেয়ে দেশের অজস্র রাজনৈতিক নেতা কর্মি, ছাত্র, শ্রমিক, জনতা, খেটে খাওয়া মানুষ যেমনি জেল জরিমানার শিকার হয়েছে, তেমনিভাবে পাকিস্তানী শোষকদের বুলেট, বেয়নেট, লাঠিপেটা, বুটের লাথি, কাঁদানো গ্যাসের জ্বালায় রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছে। তারপরও অর্থনৈতিক মুক্তির স্লোগান থেকে দুরে সরে যায়নি। তাদের একটাই লক্ষ্য ছিল, শোষণ থেকে মুক্তি। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও দেশে স্কুল কলেজের ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, দেশের সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, পেশাজীবি, রাজনৈতিক নেতা কর্মি, বুদ্ধিজীবি, শিক্ষক ও আপামর জনতা রাজপথে শ্লোগান দিয়েছে পাটের দাম বাড়াতে হবে, সারের দাম কমাতে হবে, বই পুস্তক কাগজের দাম কমাতে হবে, চাকরিতে বৈষম্য প্রথা তুলতে হবে, উন্নয়নে বৈষম্য চলবেনা, সেনাবাহিনী, পুলিশ, পাকিস্তান রাইফেলসে বৈষম্য উঠাতে হবে। আনুপাতিক হারে শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে হবে, চাকুরিতে সিভিল সার্ভিসের (সিএসপি) কোটা প্রথা ও বৈষম্য সরাতে হবে ইত্যাদি হরেক রকমের বৈষম্যের শ্লোগান। তাছাড়া সোনার বাংলা শ্মশান কেন এই মর্মে বৈষম্যের  চিত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তির তুলনামূলক সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। যা ছিল মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্য ও প্রত্যাশার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। একটি পরিসখ্যান থেকে উঠে আসে স্বাধীনতার পর পরই ভারত এ দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার পাট নিয়ে যায় এবং ভারতের বন্ধ পাট কলগুলো যেমনি চালু করে তেমনি পাকবাহিনীর ফেলে যাওয়া গোলাবারুদ, গাড়ী, মিল ফ্যাক্টরির মূল্যবান পার্টস পর্যন্ত অরক্ষিত সীমান্ত পথে ইস্ট ইন্ডিয়া বেনিয়া কোম্পানীর মতো লুন্ঠন করে ভারতে নিয়ে যায়। এদেশের পাট রফতানীর মাধ্যমে যে বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ উপার্জিত হত, সেই জায়গায় ভারত
চলমান পাতা/২
পাতা: ২

রফতানিকারক দেশ হিসেবে বিশ্বে একচেটিয়া বাজার দখল করে নেয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জায়গায় চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি  করে। যার ফলে এদেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড খান খান হয়ে যায়। এ নিবন্ধের সংক্ষিপ্ত কলেবরে এসব কিছু তুলে ধরা সম্ভব নয় বিধায়, প্রসঙ্গটির মূল ধারায় ফিরে যেতে হল।   

                ১৯৭০ সালে ভাসানী ন্যাপের উদ্যোগে এবং ভাসানী ন্যাপ নেতা প্রয়াত অধ্যাপক আইয়ুব রেজা চৌধুরীর উপস্থিতিতে পাকুন্দিয়া উপজেলা সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দানে এক জনসভার আয়োজন করা হয়। সেই সভাতে তৎকালীন পূর্ব বাংলা ছাত্র ইউনিয়নের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে আমি সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঞা, প্রয়াত পাকুন্দিয়ার ন্যাপ নেতা রফিক ভাই, মাহবুব, হান্নান মোল্লা, প্রয়াত ন্যাপনেতা মহিবুর রহমান রঙ্গু, ময়মনসিংহ জেলা ন্যাপ নেতা প্রয়াত আলতাফ উদ্দিন তালুকদারসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু অভাক হওয়ার মতো ঘটনা, যখনই নেতৃবৃন্দ সারের দাম কমাতে হবে, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের দাম কমাতে হবে, পাটের দাম বাড়াতে হবে, পাকিস্তানের শোষণ ও ২৩ পরিবারের শোষনের বিরুদ্ধে ও পাকিস্তানের বৈষম্যের কথা তুলে ধরে বক্তৃতা করছিলেন, সেই সময় চারিদিক থেকে সভাটিকে ঘেরাও করে পুলিশ ফাঁকা গুলি চালিয়ে লাঠিপেটা ও কাঁদুনে গ্যাস ছুঁড়ে সভা লন্ডভন্ড করে দেয়। যে যেভাবে পারে পার্শ্ববর্তী সার্কেল অফিসার (উন্নয়ন) অফিস, বিএডিসি সেচ অফিসসহ আশেপাশে আশ্রয় নিয়ে থাকে। দৌড়া দৌড়িতে সভায় উপস্থিত জনতা সহ অনেকের হাত, পা ও মাথায় আঘাত পেলে অনেকেই একমাত্র পাকুন্দিয়া থানা দাতব্য চিকিৎসালয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে নেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালের ২৩ মে পাকুন্দিয়া সরকারী দাতব্য চিকিৎসালয়ের সামনে মওলানা ভাসানীর আহবানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমাতে, সারে দাম কমাতে, পাটের ন্যায্য মূল্য ও দাম বাড়াতে, লংঘরখানা করে অভোক্তাদের খাওয়াতে, বিনামূল্যে কলেরার স্যালাইন সরবরাহের দাবীতে তৎকালীন ভাসানী ন্যাপের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অন্যান্যদের সাথে সভায় উপস্থিত হলে, সভা শুরু হওয়ার পরপরই পুলিশ সভা তছনছ করে দেয়। এই সভা থেকে অনেককে গ্রেফতার করে ৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে কিশোরগঞ্জের এসডিএম কোর্টে সোপর্দ করা হলে কিশোরগঞ্জ ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাসের পর মাস ডিটেনশনে রাখার ঘটনা দারুণ বিষাদে ভরা এক নিধারুন ইতিহাস।  

                আজ গ্যাস বিদ্যুতের অসহনীয় মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যা হচ্ছে, তেমনি স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর্যন্ত যা কিছু হচ্ছে দেশের মানুষ সব কিছু সহ্য করে আসলেও মানুষের মন থেকে বিষাদের নিঃশ্বাস কখনও দুরে সরে যায়না। শ্বাস প্রশ্বাসের সুস্থ মানুষ হিসেবে মনে হলেও, অনেকের যেমন দুররোগ্য ব্যাধিতে ভোগে থাকে, তেমনি অনেক সময় দেশের মানুষও অন্তরের জ্বালা যন্ত্রণা সহ্য করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। স্বাধীনতার পর এদেশে যা হচ্ছে, তা কতটুকু সঠিক ও কতটুকু বেঠিক এ ব্যাপারে পর্যালোচনা ও উপলব্ধি করলে এ পর্যন্ত কোন সরকারের বিরুদ্ধেই আন্দোলন, হরতাল, প্রতিবাদ, দাবী দাওয়া ও আল্টিমেটাম দেয়ার যেমনি প্রয়োজন হতনা, তেমনি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে প্রকাশ, প্রচার ও দেশ বরেণ্য সাংবাদিকদের নিবন্ধে ও কলামে তা লেখালেখির প্রয়োজন হত না। এসব ব্যাপারে যথার্থ বাস্তবতার অবমূল্যায়ন, কর্তৃপক্ষ ও সরকারের উদাসীনতার কারণেই বারবার অর্থনৈতিক মুক্তি, জনগণের শান্তি, স্বস্থি, নিরাপত্তা, পুঞ্জীভূত অভাব অভিযোগ, মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের কথা উঠে আসছে। ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে কিছু চিহ্নিত লোক বিভিন্ন পর্ষদসহ সরকারী অঙ্গনে পায়রুবী, চাটুকারীতা, তোষামোদগিরি, দালালী ও স্বার্থ সিদ্ধির জন্য সত্য মিথ্যার মিশ্রণে বা সংযুক্তি করণে প্রভুদের কান বারি করলেও দেশে আজো অনেক গুণধর, নিঃশ্বার্থপরায়ন, দেশেপ্রেমে উব্দুদ্ধ স্বনামধন্য কিছু রাজনৈতিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও শ্রেণীপেশার মানুষের সংখ্যা কম লক্ষ্য করা যায়নি। তাদের গাড়ি, বাড়ি, অর্থ, বিত্ত, তেমন বেশভূষা না থাকলেও দেশের মানুষের কাছে তাদের মূল্যায়নকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তাদের দেশ প্রেম ও আত্মত্যাগের কারণেই ভারত বর্ষ থেকে ব্রিটিশদের বিতাড়ন, ভারত ও পাকিস্তান হাসিল এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানী স্বার্থপর ও শোষকদেরকে বিদায় দিয়ে বাংলাদেশের অভুৎদয় ঘটে থাকে।    

                এতকিছুর পরও আমাদের ললাটে অর্থনৈতিক মুক্তির স্বাদ ও সফলতা আসেনি। অনেকেই মনে করে থাকে এর জন্য কায়েমী স্বার্থপরতাই দায়ী ও জড়িত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দুনিয়ার যে সমস্ত দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে, সেই
চলমান পাতা/৩
পাতা: ৩

সমস্ত দেশের অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করলে আমাদের অবস্থান কোন জায়গায় এসে দাড়িয়েছে তা ভেবে দেখলে বাস্তবিকই বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এসবের জন্য অনেকেই এ দেশ ৪৬ বছরে সুসংহত গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি ও অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করে থাকে। তাই গণতন্ত্রের প্রবক্তা আব্রাহাম লিংকন বলেছেন, “ও ধস হড়ঃ নড়ঁহফ ঃড় রিহ, নঁঃ র ধস নড়ঁহফ ঃড় নব ঃৎঁব. ও ধস হড়ঃ নড়ঁহফ ঃড় ংঁপপববফ, নঁঃ র ধস নড়ঁহফ ঃড় ষরাব নু ঃযব ষরমযঃ ঃযধঃ র যধাব. ও সঁংঃ ংঃধহফ রিঃয ধহুনড়ফু ঃযধঃ ংঃধহফং ৎরমযঃ ধহফ ংঃধহফ রিঃয যরস. ঐব রং ৎরমযঃ ধহফ ঢ়ধৎঃ রিঃয যরস যিবহ যব মড়বং ৎিড়হম” এই উক্তিটিতে গণতন্ত্রের ব্যাপক মূল্যায়ন ও দিক নিদের্শনা উম্মোচিত হলেও মূলত গণতন্ত্রের মাঝে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির দিক নির্দেশনারই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

                 এটা স্বাধীনতার মাস এবং এ মাসেই পাক হানাদার বাহিনী এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলন এবং স্বাধীনতার আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে এ দেশের মানুষের ওপর ২৫ মার্চের মধ্য রাতে রাজধানীতে যে নারকীয়, দানবীর ও ভয়ানক অভিযান চালিয়ে ঘুমন্ত সাধারণ মানুষ, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, বুদ্ধিজীবী, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, ইপিআর, পুলিশ, আনসার, সেনাবাহিনী ও কোলের শিশুকে যেমনিভাবে বুলেট, কামান ও ট্যাংকের গোলার মাধ্যমে হত্যার অবর্ণনীয় ধ্বংস যজ্ঞ চালিয়ে ছিল, তা কোনদিন ভুলে যাওয়ার নয়। ২৫ মার্চের কালো অধ্যায়ের পর ২৬ মার্চ ভোরে কুখ্যাত নরঘাতক জেনারেল টিক্কা খান ও জেনারেল রাও ফরমান আলী জল্লাদ ইয়াহিয়াকে খুশি করার জন্য মানুষের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে মদ্যপ অবস্থায় হুংকার ছেড়ে বলেছিল রাজধানী ঢাকা শহর এখন মানুষের লাশ আর লাশের নগরী। বিভাগীয় শহরগুলোরও একই অবস্থা। রাজধানীতে এখন লাশ আর লাশ, শকুন, কুকুর, শিয়াল, লাশ সরানোর কাজে ট্রাক ও লাশ সরানোর কাজের লোক বৈ আর কোন কিছুর অস্থিত্ব নেই। তারপরও বলেছিল, “এরাব সব ংবাবহঃু ঃড়ি যড়ঁৎং ঃরসব ধহফ র রিষষ মরাব নধপশ ঊধংঃ চধশরংঃধহ, ভৎবব ভৎড়স ধষষ ংযধফবং ড়ভ সরংপৎবধহঃ. ঞযব মৎববহ ড়ভ ঊধংঃ চধশরংঃধহ রিষষ যধাব ঃড় নব ঢ়ধরহঃবফ ৎবফ” অর্থাৎ ৭২ ঘন্টা সময় দেয়া হলো সন্ত্রাসীদের নির্মূল করে যেমন পূর্ব পাকিস্তান ফিরিয়ে দেব, তেমনি হানাদারদের সব ইউনিটকে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছিল, এখানে মানুষ চাইনা, চাই মরা লাশ ও মানুষের রক্ত। অপরদিকে বলা হয়েছিল, পূর্ব পাকিস্তানের শ্যামল ও সবুজ চত্তরকে লাল রঙ্গে রঞ্জিত করে দিতে হবে। এত কিছুর পরও এ দেশের মানুষ তাদের অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এবং ৩ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্টা লাভ করে।

                এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সমুন্নত অন্ন, বস্ত্র, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান ও বিনোদল মৌলিক অধিকার যত তাড়াতাড়ি প্রতিষ্ঠিত হয় ইহাই দেশের মানুষের কাংখিত প্রত্যাশা। আজ মানুষের একটাই শ্লোগান, তা হল স্বাধীনতা এনেছি, অর্থনৈতিক মুক্তি আজো আসেনি। দেশের মানুষ চায় হানাহানি মুক্ত গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির বাংলাদেশ। এদেশের মানুষ কোন অবস্থাতেই মুক্তিযোদ্ধাদের যাছাই বাছাই তালিকায় হানাদারদের কোন সহায়তাকারীদের নাম দেখতে চায়না। যদিও এ নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে প্রতিবাদ প্রকাশ ও প্রচারিত হচ্ছে এবং এর অস্বচ্ছতার ব্যাপারে হাইকোর্টে রিট পিটিশান করা হলে, যাছাই বাছাই কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। এত কিছুর পরও অর্থনৈতিক মুক্তি এ দেশের মানুষের প্রত্যাশা।      
 

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
লেখক কলামিষ্ট

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
 
A- A A+ Print this E-mail this
আপনার পছন্দের এলাকার সংবাদ
পড়তে চাই:
Fairnews24.com, starting the journey from 2010, one of the most read bangla daily online newspaper worldwide. Fairnews24.com has the highest journalist among all the Bangladeshi newspapers. Fairnews24.com also has news service and providing hourly news to the highest number of online and print edition news media. Daily more then 1, 00,000 readers read Fairnews24.com online news. Fairnews24.com is considered to be the most influencing news service brand of Bangladesh. The online portal of Fairnews24.com (www.fairnews24.com) brings latest bangla news online on the go.
৪৮/১, উত্তর কমলাপুর, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন : +৮৮ ০২ ৯৩৩৫৭৬৪
E-mail: info@fns24.com
fnsbangla@gmail.com
Maintained by : fns24.net