তাজা খবর:

রাজশাহীতে স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ তিনজনের ফাঁসি                    চারঘাটে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত চারজন                    দৌলতপুরে বালিভর্তি ট্রলির ধাক্কায় পথচারী নিহত                    রাজশাহীতে ট্রেনের নিচে কাঁটা পড়ে রেলওয়ে কর্মকর্তা নিহত                    উলিপুরে শীতের আগুন পোয়াতে গিয়ে পুড়ে গেল দুঃস্থ প্রসুতি                    ডোমারে বালু মিশ্রিতএক শত বস্তা নকল সার উদ্ধার                    রাজশাহীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চালক ও হেলপার নিহত                    আখেরি মোনাজাতে শেষ ইজতেমার প্রথম পর্ব                    সারা দেশে ঘন কুয়াশা, পারাপারে বিঘ্ন                    মুরগি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে লাখ টাকা ছিনতাই                    
  • মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৮, ৩ মাঘ ১৪২৪

গাংনীতে অস্ত্র ও গুলি সহ চাঁদাবাজ গ্রেফতার

গাংনীতে অস্ত্র ও গুলি সহ চাঁদাবাজ গ্রেফতার

 মেহেরপুরের গাংনীতে অস্ত্র ও গুলি সহ জুয়েল হোসেন (৩৫) নামের এক চাঁদাবাজ কে

মুক্তাগাছায় বন্ধুদের ছুরিকাঘাতে স্কুল ছাত্র নিহত

মুক্তাগাছায় বন্ধুদের ছুরিকাঘাতে স্কুল ছাত্র নিহত

 মুক্তাগাছায় বন্ধুদের ছুরিকাঘাতে এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে

১১ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করল ছয় বছরের শিশু!

১১ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করল ছয় বছরের শিশু!

অনলাইনে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি নিয়ে অনেকেই চেষ্টা করেন। কিন্তু এ কাজটিতে সবাই যেমন সফল হতে

মাংশের টুকরোত আল্লাহর নাম

মাংশের টুকরোত আল্লাহর নাম

কোন কাল্পনিক গল্প নয়, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য পাবনার আটঘরিয়ায় কোরবানির মাংশের একটি টুকরোও

জাতির জনককে কোনভাবেই বিক্রির পক্ষে নই

মোমিন মেহেদী

15 Aug 2017   08:16:19 PM   Tuesday BdST
A- A A+ Print this E-mail this
 জাতির জনককে কোনভাবেই বিক্রির পক্ষে নই

যদিও আমার রাজনৈতিক দর্শন ভিন্ন, ধারা ভিন্ন; তবু আমি মনে করি সর্বকালের সর্বশ্রেষœঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীসহ জাতির সকল শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো নাগরিক হিসেবে, নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ববোধ ছিলো বলেই আমার বয়স যখন নয় বছর; তখন লিখেছিলাম-
আমাদের পিতা তিনি আমাদের মিতাও
আমাদের চলা-বলা আমাদের জিতাও
আমাদের রাজনীতি
আমাদের কাজনীতি
আমাদের আলো যে
আমাদের সুখ তিনি
আলোকিত মুখ তিনি
ভালো আর ভালো যে
এত ভালো নিয়ে আজ আমাদের চলা তাই
প্রতিদিন সাহসের সাথে কথা বলা চাই...

এই লেখাটি ১৯৯৫ সাথে দৈনিক ইত্তেফাকে কচিকাঁচার আসরে প্রকাশ করেছিলেন আমারই শুধু নয়; আমাদের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিরন্তর এগিয়ে চলা প্রিয় মানুষ রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই। এরপর ২০০৮ সালেন ১৫ আগস্ট উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে ‘আমাদের পিতা তিনি আমাদের মিতাও’ শীর্ষক এক দীর্ঘ কবিতা প্রকাশ করেন দৈনিক সংবাদের বিভাগীয় সম্পাদক ড. জ্যোৎ¯œা লিপি। বঙ্গবন্ধু কা মওলানা ভাসানীকে ভালোবেসেছি, শ্রদ্ধা করেছি কিছু পাওয়ার আশা থেকে নয়; আমার দায়িত্ববোধ থেকে। কেননা, নতুনতন্ত্র বা নতুনবাদ নিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে এতটুকু অন্তত বুঝেছি যে, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদেরকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এগিয়ে গেলে লোভি-লুটেরা না হলে বিজয় অনিবার্য। এখন যারা রাজপথে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে শ্লোগান দিয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আস্থাভাজন বা ¯েœহ ভাজন হওয়ার চেষ্টা করেন, তাদের অধিকাংশই ওয়ান ইলেভেন-এর সেই দু:সময়ে ছিলেন লোক চক্ষুর আড়ালে; দলীয় কর্মসূচী বা শেখ হাসিনার মুক্তি দাবীতে তখন কেবলমাত্র আমরা ছিলাম। আমরা বলতে আওয়ামী লীগের জন্য নিরন্তর এগিয়ে চলা মানুষ শেখ হাফিজুর রহমান, মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তারানা হালিম, অরুণ সরকার রানা, আয়াত আলী পাটোয়ারী আর আমার মত মুষ্টিমেয় কিছু নিস্বার্থ রাজনীতিক। আজ যারা বড় বড় লেকচার দিচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের দু:সময়ে আরাম আয়েশ করেছেন ভারতে বা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থেকে। আজ তাদেরই একটি অংশ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পোশাকি লোকদের পোশাকি আচরণ অনেক বেড়ে গেছে, তা দেখে এখন নিভৃতে থাকা ভালো-তাতে বঙ্গবন্ধুর ওপর শ্রদ্ধা কমবে না অনেকের মত আমারও! বঙ্গবন্ধুর ওপর শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কারো অনুকম্পা ও সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই বলে মনে করি।

আমার ভাবনার সাথে অনেকটাই মিলে যায় আলোর মানুষ, ভালোর মানুষ হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে আমি যাকে পছন্দ করি, সেই প্রিয় কবি গোলাম কিবরিয়া পিনুর মাথে। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে নব্য আওয়ামী লীগার আর চাটুকারদের বিরুদ্ধে সাহসের সাথে লিখেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী কালজ্ঞ-সময মোকাবিলা করার সাহস নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ওপর ধারাবাহিকভাবে কবিতা লিখেছি, যা ছাপা হয়েছে পত্রপত্রিকায়, আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ (১৯৮৪) সহ পরবর্তী কাব্যগ্রন্থে। ছড়া,প্রবন্ধ ও কলামও লিখেছি। অনেক সংকলনেও বঙ্গবন্ধুর ওপর আমার কবিতা স্থান পেয়েছে । সেসব কবিতার ক’টি এখানে দেওয়া হলো-

‘মুজিবের জন্য হৃদয়ের রজনীগন্ধা’ শীর্ষক কবিতায় বুনন তৈরি করেছেন এভাবে-
এসো, আমরা মাটির সাথে মিশে যাই
লজ্জায়! লজ্জায়!
তাঁর মৃত্যুদিনে কীভাবে দাঁড়াই
রঙিন সজ্জায়!
আমরা কি এত দীনহীন।
যে দিল বুকের রক্ত, যে দিল পরিচয়ের ভিতমাখা মাটি
যে দিল মন্ত্রী, নেতা ও জেনারেলদের পতাকাশোভিত দিন
তাঁকে কেন করতে চেয়েছি বারবার অমাবস্যায় বিলীন।
আমরা এতটা কেন কাঙাল-ভিখিরি
নিজের ঝোলায় সব টেনে নিতে নিতে
নিজের ও ইতিহাসের কী করেছি ছিরি!

আমরা মাথাটা রাখি - বিবেক রাখিনা নিজের মাথায়
ক্ষমতা ও স্বার্থের হিসেব শুধু নিজের খাতায়,
যে দিল গোলাটা ভরিয়ে সোনালী ধানে
সে তো নেয়নি কিছুই নিজেকে ছাড়া তাঁর অন্তর্ধানে
প্রিয় দেশ ও জনতা শুধু ছিল তাঁর বুকভরা অভিধানে।

কোথায় রেখিছি বলো তাঁকে?
ইতিহাস একা একা তাঁর ছবি আঁকে
অন্ধকারে জ্বালিয়ে মোমবাতি,
নিভাতে পারেনা সেই আলো কোনো মাতাল হাতি।

ভালোবাসার বিপরীতে
হিংসুটে বিষকালো ডেঁয়োপিঁপড়েরা
লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে কোন্ মরণদেবীর গীতে,
যতই হোক না সময় ও কাল বন্ধ্যা
মুজিবের জন্য নষ্ট হবে না হৃদয়ের রজনীগন্ধা ।

এত সুন্দর করে লেখা এই কবিতা যাকে নিয়ে রচিত, সেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে লক্ষ্য থেকে কখনও বিচ্যুত হননি। ১৯৬৬ সালে যখন তিনি ছয় দফার আন্দোলন শুরু করেন, পাকিস্তানি শাসকরা তাকে নিষ্ক্রিয় করতে নেমেছিল। তাকে কারাগারে পাঠানো হল, তার ওপর জুলুম হল, কিন্তু তিনি ভয় পাননি অথবা ছয় দফার কোনো দফাকে একটুখানি কাটছাঁট করেননি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এ ছয় দফার আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত আমাদের একাত্তরে নিয়ে গেছে। পাকিস্তানিদের দমন-পীড়নকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি বাঙালির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করেছেন। পাকিস্তানিরা তাকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে, আগরতলা মামলায় তাকে রাজনীতির মঞ্চ থেকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছে, কিন্তু প্রতিটি ষড়যন্ত্রই তাকে নতুন থেকে নতুনতর উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ১৯৭০-এর নির্বাচন প্রতিষ্ঠা করল, তিনিই বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা এবং বাঙালির ভবিষ্যৎ রচনা হবে তারই নেতৃত্বে।

এত বিরোধিতা, কোনো কোনো মহলে সন্দেহ সত্ত্বেও কীভাবে বঙ্গবন্ধু এগিয়ে গেলেন ছয় দফা এবং স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম নিয়ে? এর কারণ খুঁজতে গেলে বঙ্গবন্ধুর জীবনে, দর্শনে, রাজনৈতিক চিন্তা ও কর্মপরিকল্পনায় আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। তাহলে অনেক বিষয় আমাদের কাছে স্পষ্ট হবে। প্রথমত ছিল, বঙ্গবন্ধুর অবিচল আত্মবিশ্বাস, দৃঢ়প্রত্যয়, তার প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতা। দ্বিতীয়ত ছিল, তৃণমূলে তার আস্থা, তৃণমূলে তার বিপুল গ্রহণযোগ্যতা, তার বিস্ময়কর সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং তৃতীয়ত ইতিহাস, সংস্কৃতি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও মানুষের উদ্ভাবনী ক্ষমতায় তার আস্থা। তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে আছে, তিনি নানা প্রতিকূলতার মাঝেও এ সত্যকে ধারণ করে এগিয়েছেন যে, উদ্দেশ্য সৎ, জনহিতৈষী হলে এবং তাতে মানুষের সমর্থন থাকলে যে কোনো শক্তিকে অবজ্ঞা করে এগিয়ে যাওয়া যায়। যারা ঢাকা বা শহরকেন্দ্রিক রাজনীতি করতেন, তারা এ বিষয়টি বুঝতে পারতেন না, তারা সরকারের শক্তি ও ক্ষমতাকে উদ্বেগ নিয়ে দেখতেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সহযোগীরা জানতেন, এ উদ্বেগ সংগ্রামের পথটাকে বন্ধুর করে দেয় এবং সংগ্রামে অবিচল নিষ্ঠা সেই পথকে কাক্সিক্ষত গন্তব্যে নিয়ে যায়। আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রজ্ঞা ছিল, দূরদৃষ্টি ছিল। তিনি পরিষ্কার চোখে ভবিষ্যৎকে দেখতে পেতেন। অনেক রাজনীতিবিদ সাময়িক বাধার ও সংকটের বৃক্ষের জন্য বৃহত্তর সংগ্রামের বনটাকে দেখতে পেতেন না। বঙ্গবন্ধু দেখতেন। জাতির জন্য ঠিক যখন যে দিকনির্দেশনা ও কর্মসূচির প্রয়োজন, তা তিনি দিয়েছেন। ১৯৪৬-৪৭-এ পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম করেছেন, কিন্তু ১৯৫২-এ পাকাপাকিভাবে তিনি বাঙালির আত্ম-অধিকারের সংগ্রামে নামলেন। তিনি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছিলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রের মধ্যে আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তার অনেক সহকর্মীও তখন তার মতো স্বচ্ছ দৃষ্টি নিয়ে ইতিহাসকে পড়তে পারেননি, তারা বুঝেছেন আরও পরে- ১৯৫৮তে সামরিক শাসন জারির পর।

১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট যখন নির্বাচনে জিতল, পাকিস্তানের রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে বাঙালির নিজস্ব রাজনীতির অভ্যুদয় ঘটল। সেই অভ্যুদয়ের একজন রূপকার এবং রূপান্তরের কারিগর ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার পরের ইতিহাস তো আমাদের জানা। ১৯৫৮ সালের পর বাঙালির রাজনীতি, সংগ্রাম ও কর্মসূচি ছিল পাকিস্তানের সবকিছু থেকে পৃথক। এজন্য আওয়ামী লীগ একটি সর্ব-পাকিস্তান রাজনৈতিক সংগঠন হলেও পশ্চিম পাকিস্তানে এর কার্যক্রম ছিল সীমিত। কারণ বঙ্গবন্ধুর চিন্তার মাঝখানে ছিল বাংলাদেশ ও বাঙালি।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বাঙালিকেন্দ্রিকতা তাকে একটি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ থেকে বিরত রাখেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আন্দোলনের নয় মাস তিনি পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পেছনে তিনি জুগিয়েছেন প্রেরণা ও শক্তি। এটি সম্ভব ছিল দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তার দীর্ঘদিন রাজনীতি করার কারণে। মানুষ তাকে বিশ্বাস করত, তার ডাকে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ত। ১৯৭১-এর ৭ মার্চ তিনি যে ভাষণ দেন, তাকেই দেশের মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামের নির্দেশ ও রূপরেখা হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর বৈশ্বিক দৃষ্টির কারণে তিনি বাংলাদেশের সম্ভাবনাগুলো এবং সমকালীন বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুচিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। সেই লক্ষ্যেই তিনি এগোচ্ছিলেন, কিন্তু তার ঘাত০করা সেই সুযোগ তাকে দিল না। তারা দেশটাকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল - এখনও তারা আছে, তাদের পেছনে সক্রিয় নানা শক্তি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু যে বাঙালিকে বিশ্বাস করতেন, সেই বাঙালি আবার জেগেছে এবং তাদের প্রতিহত করছে।

এত এত অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে গত ৭ বছরে যে, জাতির জনক ও বঙ্গবন্ধুকে বিক্রি করতে দেখলেই ক্ষেপে যাই; কিন্তু তাতেও কোন প্রতিকার নেই। কেননা, এর পেছনে রয়েছে ‘নব্য বঙ্গবন্ধু পাগল কবি-সুবিধাবাদী`-দের দাপট ও দখল প্রক্রিয়া। এখন স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের পৃষ্টপোষকগণ নির্ধারণ করছেন বা খারিজ করছেন কারা বঙ্গবন্ধুর পক্ষের কবি, কারা নন, তারা ‘প্রবেশপত্র’ দিচ্ছেন অনেক স্থানের! করুণা হয় উচ্ছিষ্টভোজীদের জন্য। মাপ করবেন বঙ্গবন্ধু, মাপ করবেন পাঠক! আক্ষেপের সাথে বলা কবি গোলাম কিবরিয়া পিনুর কথাগুলো একটি মন দিয়ে খেয়াল করলেই দেখবেন যে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে কিভাবে বিক্রি করছে নব্য আওয়ামী লীগাররা। তিনি লিখেছেন- ‘এই আমলেও বিটিভিতে বঙ্গবন্ধুর ওপর অনুষ্ঠানের ডাক এসেছে, যাইনি ! এক সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ফোনে দাওয়াত দিয়ে বলেছিল-- এলে ১০০০ টাকা দেওয়া হবে, রুচিতে লাগল, সে অনুষ্ঠানে যাইনি! বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পোশাকি লোকদের পোশাকি আচরণ অনেক বেড়ে গেছে, তা দেখে এখন নিভৃতে থাকা ভালো - তাতে বঙ্গবন্ধুর ওপর শ্রদ্ধা কমবে না অনেকের মত আমারও! বঙ্গবন্ধুর ওপর শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কারো অনুকম্পা ও সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই বলে মনে করি । নিজের কবিতার পংক্তি উচ্চারণ করি-
‘যতই হোক না সময় ও কাল বন্ধ্যা
মুজিবের জন্য নষ্ট হবে না হৃদয়ের রজনীগন্ধা ।’

পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ের কথা বাদই দিলাম, ২০০৭-২০০৮ সালে এক-এগারোর সময় ১৫ই আগস্টে ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য অনেক কবিকে ডাকা হয়েছিল সেদিন, কেউ সাড়া দেয়নি সেভাবে, আমরা হাতেগোনা চার-পাঁচজন গিয়েছিলাম। এসময়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক কবি-সাহিত্যিকের নিশ্চুপ-ভূমিকা দেখেছি! আমি তখন প্রতিকূল পরিবেশে জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। সে-সময়ে কবিতা উৎসবের মঞ্চেও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা পড়া সঙ্কুচিত ছিল! এনিয়ে হট্রগোলও হয়েছিল! অনেক কাহিনী! অতঃপরৃ, অনেক কিছ্ ুমনে পড়ছে!

এই মনে পড়ার রাস্তায় আমরা হেঁটে যাবো বঙ্গবন্ধুকে, বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে। কিন্তু তারা? তারা রয়ে যাবেন নিকৃষ্টতর স্বার্থপরতার রাস্তায় অনবরত। কেননা, তারা কখনোই বঙ্গবন্ধুকে, বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে কিছু করেন নি। যা করেছেন, তা কেবলই নিজের আখের গোছানোর চেষ্টা, পদক-পুরস্কার-সম্মাননা বা অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা। আমরা কনৈাই ছিলাম না এই সারিতে। যে কারনে আজো আমাদের বাড়ি নেই, গাড়ি নেই, নেই কোন নিশ্চিত ভবিষ্যৎ; যা আছে তা হলো ছাপ্পান্ন হাজারা বর্গমাইলব্যাপী ভালোবাসা-শ্রদ্ধা আর সম্ভাবনা। যা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই আরো দৃঢ়তর ভালোবাসায়-আলোয় আশায়...

মোমিন মেহেদী : চেয়ারম্যান, নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি এবং উপদেষ্টা, জাতীয় শিক্ষাধারা

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
 
A- A A+ Print this E-mail this
আপনার পছন্দের এলাকার সংবাদ
পড়তে চাই:
Fairnews24.com, starting the journey from 2010, one of the most read bangla daily online newspaper worldwide. Fairnews24.com has the highest journalist among all the Bangladeshi newspapers. Fairnews24.com also has news service and providing hourly news to the highest number of online and print edition news media. Daily more then 1, 00,000 readers read Fairnews24.com online news. Fairnews24.com is considered to be the most influencing news service brand of Bangladesh. The online portal of Fairnews24.com (www.fairnews24.com) brings latest bangla news online on the go.
৪৮/১, উত্তর কমলাপুর, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন : +৮৮ ০২ ৯৩৩৫৭৬৪
E-mail: info@fns24.com
fnsbangla@gmail.com
Maintained by : fns24.net