অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে অদৃশ্য দৈব শক্তির বলে খনকারী করে ঝাড়ফুঁক, তাবিজ তুমারের তদবির দেওয়ার আড়ালে ভোলার দৌলতখানে রমরমা বাণিজ্য করছে একটি প্রতারক চক্র। অলৌকিকভাবে স্বর্ণের পুতা ও চেরা পাইয়ে দেয়ার নামে প্রতারণা করে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ জিনের বাদশা হালিমা সহ প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে। আটকৃত অপর তিন প্রতারক হচ্ছে হালিমার স্বামী আলাউদ্দিন, বোন রুমা বেগম, বাবা সাফিজল ইসলাম। স্থানীয় লোকজন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জিনের বাদশা হালিমা ও তার স্বামী আলাউদ্দিন তদবির দেয়ার নামে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে গ্রামের সরলমনা মানুষকে সর্বস্বান্ত করে রমরমা বাণিজ্য করছে। স্বামী-স্ত্রীর এ দম্পতির প্রতারণার চমকপ্রদ এমন সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দূরদূরান্ত থেকে উৎসুক নারী পুরুষ এসে গত কয়েকদিন ধরে ওই প্রতারক চক্রের বাড়িতে গিয়ে ভিড় করে। খনকারির ছ্দ্মাবরণে প্রলোভন ও প্রতারণার এমন নাটকীয় ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৯ নং ওয়ার্ড পৌরসভা সংলগ্ন সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের কাজীবাড়িতে। চাঞ্চল্যকর ও রহস্যময় এমন ঘটনাটি দৌলতখান শহরে সাধারণ মানুষের মাঝে এখন টক অফ দ্যা টাউন। এ ঘটনায় প্রতারণায় স্বীকার সুরমা বেগম থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ওই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত চার প্রতারককে আটক করে। সরজমিন গিয়ে জানা যায়, দুই সন্তানের জননী জিনের বাদশা হালিমা সৈয়দপুর ইউনিয়নের ছোটধলী গ্রামের আসকর পাটওয়ারি বাড়ি এলাকার বাসিন্দা। জিন দিয়ে বৈঠক ও তদবির করার নামে নিরীহ মানুষকে প্রলোভন দেয়ার জন্য এ দম্পতি বর্তমানে দৌলতখান আবু আবদুল্লাহ সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসা নেন। প্রতারণায় শিকার সুরমা বেগম স্বামী মিজান, নিরু বেগম স্বামী ইমাম হোসেন, কোহিনূর বেগম স্বামী মৃত হানিফ এদের বাড়ি উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের হাবু চেয়ারম্যান বাড়ি। ভুক্তভোগীরা জানায়, হালিমা বিভিন্ন রোগ বেদির তদবিরের আড়ালে তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। তিনজনের প্রত্যেককে জিনের মাধ্যমে ১টি করে স্বর্ণের পুতা ও ২টি করে স্বর্ণের চেরা পাইয়ে দেয়ার নামে তাদের থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেয়। টাকা পেয়ে সে গোপনে তাদের প্রত্যেকের হাতে কাপর মোড়ানো ১ টি করে স্বর্ণের পুতা ও ২ টি করে চেরা দেয়। এসব পুতা ও স্বর্ণের চেরা ঘরে ৩ মাস গোপনে মাটিতে পুঁতে লুকিয়ে রাখতে বলা হয়। যেন কাউকে ৩ মাসের ভিতরে না দেখানো হয়। এসব গোপন তথ্য কারো কাছে প্রকাশ করলে বা এসব জিনিস কাউকে দেখালে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। এমনকি জীবন ও সম্পদের ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করে ভয় ভীতি দেখানো হয়। তিন মাস পর ভুক্তভোগীরা গোপনে উপশহর বাংলা বাজারের জনৈক স্বর্ণের কারিগরের কাছে গেলে পুতা ও চেরাগুলোর পুরো রহস্য প্রকাশ পায়। জানতে পারে এগুলো ইট পাথরের কংক্রিটের তৈরি। উপরে উন্নত মানের গোল্ড কালার দেয়া। দৌলতখান থানার অফিসার ইনচার্জ জিল্লুর রহমান আমার দেশকে জানান, জিনের বাদশা প্রতারক হালিমা সহ চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করে ভোলা কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদেরকে জেলে পাঠিয়েছে।