তারাগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, বেড়েছে খুন-চুরি-ডাকাতি

এফএনএস (প্রিয় তুল্লা সুমন; তারাগঞ্জ, রংপুর) : | প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:১৬ পিএম
তারাগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, বেড়েছে খুন-চুরি-ডাকাতি

রংপুরের তারাগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ৩ মাসে ৩টি খুন, ১৬টি চুরি-ডাকাতি ও ছিনতায়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। অনেকে রাত জেগে চোর-ডাকাত ধরতে পাহারা দিচ্ছেন। 

তারাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, তারাগঞ্জে আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘরে ঘরে গরু চুরি হচ্ছে। বুড়িরহাটের এক শিশুকে হত্যা করে ভেন চুরি করে নিয়ে গেছে। পুলিশ প্রশাসন কোনোভাবেই চুরি ডাকাতি ঠেকাতে পারছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল রানা বলেন, চুরি ডাকাতি ঠেকাতে ৩ আগস্ট উপজেলা পরিষদ হলরুমে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে নিয়ে সভা করা হয়েছে। সয়ার ও কুর্শা  ইউনিয়নে ২৭জন আনসার ভিডিপি সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন মোড়ে ৪০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তারাগঞ্জ থানার ১০০গজ পূর্বে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই চংড়া কাচারীপাড়া এলাকার রাকিব হোসেনর কাছে থেকে চোর চক্র অটো চুরি করে। ৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে তারাগঞ্জ বাজারের সোনালী ব্যাংক এলাকার রাধা জুয়েলার্সে টিন ও ছাদ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় দুই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায় চোরেরা। ১ সেপ্টেম্বর অনন্তপুর গ্রামের আবুল কাশেমের অটো বরাতি সেতু এলাকায় অজ্ঞান করে নিয়ে যায় চোরেরা। ২৩ আগস্ট রাতে কুর্শা ইউনিয়নের জিগারতলা গ্রামে দুলাল হোসেনের গোয়াল ঘর আড়াই লাখ টাকা মূল্যের চারটি গরু চুরি হয়। ২৪ আগস্ট রাতে বরাতী বাজার থেকে ফেরার পথে বিকাশ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে সড়কের মোড়ে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ২ আগস্ট দীঘলটারী গ্রামের মফিজার রহমানের ৩টি ও পাটোয়ারী পাড়া গ্রামের হুমায়ন আহমেদের ২টি গরু চুরি হয়। ৯ আগস্ট চোর সন্দেহে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা এলাকায় গণপিটুনি দিয়ে ঘনিরামপুর গ্রামের রুপলাল দাস ও ভাগিন জামাই প্রদীপ দাসকে হত্যা করা হয়।

 ২৯ জুলাই ঘনিরামপুর গ্রামের নিন্দালু মামুদের ২টি, মিঠু মামুদের একটি গরু চুরি হয়। ২৮ জুলাই বকশিপাড়া গ্রামের সফিকুল ইসলামের পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া ছেলে ইরফান বাবুকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা ভ্যান নিয়ে যায়। ২৭ জুলাই পলাশবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা কুর্শা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ভারতী রানি ও তার দেবর প্রদীপ চন্দ্রর বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা তাদেরকে বেঁধে রেখে দেড় লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণ অলঙ্কার নিয়ে যান। ২৫ জুলাই রাতে দোলাপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার পরিবারের সদস্যদের বেঁধে রেখে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও একটি মোটরসাইকেল ডাকাতেরা নিয়ে যায়। ৬ জুলাই কুর্শা ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের মেনারুলের ৭টি গরু নিয়ে যায় চোরেরা। এছাড়াও ১ জুন তারাগঞ্জ ঘুরতে আসা ইরানি সম্পত্তি সেলিম রেজা ও ইসাসমিন কে দিন দুপুরে  রামপুরা গ্রামে মারপিট করে তাদের কাছে থাকা ১০০ ডলারের ৫টা নোট, হাতঘড়ি ছিনতাই করা হয়। ২৯ মে ইকরচালী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতেরা মোবারকের পরিবারের সদস্যকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ২৫ লাখ টাকা ও ৩০ভরি স্বর্ণ অলঙ্কার নিয়ে যায়। এরপর থেকে মানুষ চোর ও ডাকাতের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।

তারাগঞ্জ বণিক সমবায় সমিতি সাবেক সভাপতি ও ঘনিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, আগের মত পুলিশ আর আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। ফলে চুরি-ডাকাতি তারাগঞ্জে বেড়েই চলেছে। 

তারাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, তারাগঞ্জে আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘরে ঘরে গরু চুরি হচ্ছে। বুড়িরহাটের এক শিশুকে হত্যা করে ভেন চুরি করে নিয়ে গেছে। পুলিশ প্রশাসন কোনোভাবেই চুরি ডাকাতি ঠেকাতে পারছে না।

তারাগঞ্জ থানার ওসি এম এ ফারুক বলেন, চুরি ডাকাতি ঠেকাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান এ ১৫টি  চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পুলিশের ৩টি টহল টিম কাজ করছে। চুরি রোধে প্রতিশুক্রবার মসজিদেও সচেতন করা হচ্ছে। সবার সহযোগীতায় চুরি-ডাকাতি রোধ করা হবে।