জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোট বিকাল ৫টায় শেষ হয়। এরপর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ব্যালট বাক্সগুলো সিনেট ভবনে আনা হয় এবং রাত ১০টার কিছু পরে ভোট গণনা শুরু হয়। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফলাফল ঘোষণায় সারারাত লেগে যেতে পারে এবং শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে তা প্রকাশ হতে পারে।
প্রথমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও মীর মশাররফ হোসেন হলের ব্যালট বাক্স খুলে গণনা শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী একসঙ্গে দুটি হলের ভোট গণনা করা হচ্ছে—প্রথমে হল সংসদের, এরপর কেন্দ্রীয় সংসদের। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে ১৭৭ জন এবং ২১টি হল সংসদের ৩১৫টি পদে ৪৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীর এই ক্যাম্পাসে এবারের ভোটে ৬৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন।
তবে ভোট শেষ হওয়ার আগেই নানা অভিযোগে কয়েকটি প্যানেল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিসিটিভি ও সরঞ্জাম সরবরাহ করায় নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। তার সঙ্গে ছিলেন প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান। একইভাবে ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) সমর্থিত ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল, ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আংশিক প্যানেলও অনিয়ম ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও এতে একাত্মতা জানান।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলামসহ তিনজন শিক্ষকও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। ভোটের দিন বিভিন্ন প্রার্থী অভিযোগ করেন, কিছু কেন্দ্রে নির্ধারিত ভোটের চেয়ে বেশি ব্যালট গেছে, পোলিং এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ভোট পরিচালনায় শিবির-ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। যদিও সরাসরি ভোট কারচুপির প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেননি।
জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১১,৮৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬,১১৫ এবং ছাত্রী ৫,৭২৮ জন। প্রতিটি ভোটার কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি এবং হল সংসদের ১৫টি পদে ভোট দেন। কেন্দ্রীয় সংসদে মোট প্রার্থী ১৭৮ জন, এর মধ্যে নারী ৪৬ এবং পুরুষ ১৩২ জন। অন্যদিকে ২১টি হলে ৪৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সিনেট ভবনকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিজিবির কড়া প্রহরা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর সিনেট ভবন থেকেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।