নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান এম.কে. সবুর তালুকদারের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গোপনে একত্রিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, তার নিজ বাড়ি সাগরকান্দা গ্রামে রাত ৯টার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এ ধরনের ঘরোয়া সভা। গ্রামের একাধিক বাসিন্দা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সবুর তালুকদার ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি পুরোনো লোহারপুল, একটি ব্রিজের গাইড ওয়ালের ইট বিক্রি এবং ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে দেড় থেকে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে গত ৫ আগস্টের পর তিনি এলাকা ছেড়ে বরিশাল শহরের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তবে সম্প্রতি নতুন করে এলাকায় ফিরে গোপনে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
মো. সেলিম হোসেন বলেন, “সাবেক চেয়ারম্যান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনুদান ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থও আত্মসাৎ করেছিলেন। এ কারণে ইউএনও’র কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী চেয়ারম্যান ছিলেন"।
সাগরকান্দা গ্রামের প্রবীণ নাগরিক মো. নিয়াজ তালুকদার বলেন, “তিনি ইউনিয়নের লোহারপুল, ব্রিজের ইট, টিআর, কাবিখা, জিআর, ভিজিডি, এডিবি প্রকল্প থেকে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এমনকি সাগরকান্দা স্কুল মাঠের বালু ভরাটের টাকাও হজম করেছেন। তার আমলে অনেক নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন। পাচ আগষ্টের পর এলাকা থেকে বরিশালে থাকতেন মাঝে-মধ্যে বাড়তে এসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নিয়ে গোপন বৈঠক করছেন।"
বর্তমান চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির বেপারি অভিযোগ করে বলেন, “সবুর তালুকদার বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে দলীয় প্রভাবে চেয়ারম্যান হন। পরে ভোট কারচুপি ও দুর্নীতির মাধ্যমে ইউনিয়নের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। সরকারি মালামাল গভীর রাতে বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়ার ঘটনাও আছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান এম.কে. সবুর তালুকদার দাবি করেন, “আমার বাড়িতে ছাত্রলীগের কোনো সভা হয় না। সব অভিযোগ মিথ্যা। পরিষদের পুরোনো লোহারপুলের মালামাল আমি ব্যক্তিগত গুদামে রেখেছিলাম নিরাপত্তার জন্য। পরে সেগুলো নতুন চেয়ারম্যানকে বুঝিয়ে দিয়েছি।”