লৌহজংয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাবসায়ীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান

এফএনএস (আবু নাসের খান লিমন; লৌহজং, মুন্সীগঞ্জ) : | প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:০২ এএম
লৌহজংয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাবসায়ীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কুমারভোগে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাবসায়ীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫ ঘটিকায় লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নেছার উদ্দিন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাবসায়ীদের কাছে আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করেন।

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের মাওয়া-লৌহজং সড়কের পাশে কুমারভোগে কারখানা, দোকান ও ওয়ার্কশপসহ ৬ টি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে যাওয়া কারখানা, দোকান ও ওয়ার্কশপসহ ৬ টি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিজন মালিকের হাতে ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হস্তান্তর করা হয়। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. শহিদুজ্জামান, কুমারভোগ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কাউসার তালুকদার, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা আসলাম ঢালী, দিনার মেম্বার, স্বপন বেপারী, আল আমীন ঢালী, নাসির খানসহ স্থানীয় ব্যাবসায়ীগন।

উল্লেখ্য যে, রোববার দিবাগত গভীর রাত দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে বলে স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে।

পুড়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে-সুমন ঢালীর একটি ফলের দোকান ও চায়ের দোকান, আরিফ ঢালীর সেলুন, একটি প্লাস্টিক কারখানা, একটি লোহার স্ক্র্যাব কারখানা এবং নাসির খানের একটি ওয়ার্কশপ ও আল আমিন ঢালীর একটি ওয়ার্কশপ। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত আড়াইটার দিকে শিমুলিয়া ঘাটের দিকে ঘুরতে যাওয়া কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে লৌহজং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা দুটি ইউনিট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর সাড়ে চারটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। খবর পেয়ে পার্শ্বতর্তী শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট এসময় যোগ দিয়ে আগুন নেভাতে সহযোগিতা করে।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নাসির খান বলেন, “আমি রাত সাড়ে তিনটার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি আমার ওয়ার্কশপ জ্বলছে। মালামালসহ আমার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

এদিন সকালে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. শহিদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, লৌহজং ও শ্রীনগরের মোট চারটি ইউনিট একসাথে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। 

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কুমারভোগ পুনর্বাসন এলাকার সুমি বেগম (৩৮) নামের এক নারী ভস্মীভূত দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, “আমার দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রুজি-রোজগারের সব শেষ। মাত্র ১০-১২ দিন আগে কিস্তিতে নতুন ফ্রিজ কিনেছিলাম, সেটিও পুড়ে গেছে। এখন আমি কোথায় যাব?”

স্থানীয়রা জানান, জীবিকা হারিয়ে সুমি বেগমসহ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নেছার উদ্দিন অগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাবসায়ীদের সমবেদনা জানিয়ে বলেন, আপনাদের যে পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা সত্যি অপুরনীয় ও অত্যান্ত দূঃখজনক। এই পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্থদের প্রাথমিক ভাবে কিছুটা সহযোগিতা করা হলো। তাছাড়া লৌহজং উপজেলা প্রশাসন যেকোন প্রয়োজনে সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে