পীরগাছায় এক মাসে ১২টি বিদ্যুতের ট্রান্সর্ফামার চুরি

এফএনএস (শাহ কামাল ফারুক লাবু; পীরগাছা, রংপুর) : | প্রকাশ: ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ০৫:৪৯ পিএম
পীরগাছায় এক মাসে ১২টি বিদ্যুতের ট্রান্সর্ফামার চুরি

রংপুরের পীরগাছায় একে একে চুরি হয়ে যাচ্ছে ইটভাটার খুঁটিতে লাগানো বিদ্যুতের ট্রান্সর্ফামার। ভাটার নৈশ্য প্রহরীকে বেঁধে রেখে এসব ট্রান্সর্ফামার খুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভিতরের তামার কয়েল। বৃহস্পতিবার রাতেও উপজেলার সদরের একটি ইটভাটা থেকে ৩টি ট্রান্সর্ফামার খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে করে ভোগান্তি আর চরম আতংকে রয়েছে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করছেন সংশ্লিষ্ট ইটভাটা মালিকরা।

জানা গেছে, পীরগাছা উপজেলায় গত ১ মাসে ১২টি বিদ্যুতের ট্রান্সর্ফামার চুরি হয়েছে। উপজেলার পারুল ইউনিয়নে ওকড়াবাড়ী মোড় মেসার্স মিতা ব্রিকস ইটভাটার ৩টি, পার্শ্ববর্তী মনুরছড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পানি সেচের কাজে ব্যবহৃত ২টি, পীরগাছা সদর ইউনিয়নের কতমতলী নামক স্থানে মেসার্স এসএ ব্রিকস এর ৩টি, কালিঘঞ্জ এলাকার একটি আবাসিক বাড়ির একটি এবং বৃহস্পতিবার উপজেলার সদরের মেসার্স জুঁই ব্রিকস নামে ইটভাটা থেকে ৩টি ট্রান্সর্ফামার খুঁলে নিয়ে যায়। প্রতিটি ইটভাটার নৈশ্য প্রহরীকে বেঁধে রেখে এসব ট্রান্সর্ফামার খুলে ভিতরের তামার কয়েল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যার প্রতিটি ট্রান্সর্ফামারের মুল্য ৯০ হাজার টাকা করে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। ফলে ওই ইটভাটাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।  

মেসার্স জুঁই ব্রিকস ইটভাটার নৈশ্য প্রহরী আইদুল ইসলাম (৫০) বলেন, রাত ৩ টার দিকে ১০ থেকে ১২ জন লোক মোটর সাইকেল যোগে এসে আমার ও পার্শ্ববর্তী রাশেদ নামে এক অর্ধ পাগল যুবককে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ভাটার চিমনির নিচে ফেলে রাখে। পরে তারা বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ৩টি ট্রান্সর্ফামার খুলে তামার কয়েল বের করে নিয়ে যায়। একই কায়দায় বাকিগুলোও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ভাটার মালিকরা। 

মিতা ইটভাটার নৈশ্য প্রহরী হোসেন আলী বলেন, মুখোশধারী ৫-৬জন লোক হাত-পা বেঁধে ঘরে রাখে। সকালবেলা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ছাড়া পাই। তবে ট্রান্সফরমারের ভেতরের তামার কয়েল নিয়ে বাকি অংশ ফেলে চলে যায় চোর চক্র।

মেসার্স জুঁই ব্রিকস ইটভাটার ম্যানেজার আলমগীর হোসেন বলেন, সব চুরিই একই ধরনের। যারা এসব চুরি করছে, তাঁরা বিদ্যুতের কাজে অভিজ্ঞ। এছাড়া এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ অন্য কেউ করতে পারবে না। 

জানতে চাইলে উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রনজু বলেন, সিসি ক্যামেরা লাগানো থেকেও চুরি হয়েছে। সিসি ক্যামেরার সরঞ্জামও খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা মামলা দায়ের করেছি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।  

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর পীরগাছা জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন ঠিকাদারের লোকজন বাড়িতে এসে এ ধরনের কাজ করছে। যার অধিকাংশের বাড়ি পীরগাছা উপজেলায়। তামার কয়েলের দাম বেশি হওয়ায় তাঁরা শুধু কয়েল খুলে নিয়ে যাচ্ছে। চুরি হওয়া এসব ট্রান্সর্ফামারের ৯টি গ্রাহকের ক্রয় করা। বাকি তিনটি বিদ্যুৎ অফিসের।  পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বলেন, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে