রাজশাহীর তানোর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বদলি আদেশের এক মাসেও কর্মস্থল ছাড়েনি। কিন্তু এখান থেকেই নিয়মিত নিচ্ছেন বেতন-ভাতাও। সরকারি আদেশ অমান্য করে দিব্যি চাকরি করে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তানোর উপজেলা ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, সার্ভেয়ার মাসুম তানোর ভূমি অফিসে বহাল তবিয়তে কর্মরত থাকতে বদলি আদেশ বাতিল করাতে নানা তদবির চালাচ্ছেন। এই ভূমি অফিসে কানুনগোর পদটি শূন্য হওয়ার সুবাদে সার্ভেয়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ‘কানুনগো’ পদেও রয়েছেন। এসিল্যান্ড না থাকার কারণে পুরো অফিসটি তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে তিনি দুহাতে অবৈধভাবে টাকা কমাচ্ছেন। এজন্য বদলি আদেশ ঠেকানোর চেষ্টা করছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তানোর ভূমি অফিসে কর্মরত সার্ভেয়ার মাসুমকে নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলা ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। একই আদেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুল মালেককে তানোর উপজেলা ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলা হলেও কিন্তু রহস্যজনক কারণে আদেশটি এখনো কার্যকর হয়নি। একই আদেশ বলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সার্ভেয়ার মালেক তানোরে যোগদান করেন। কিন্তু সার্ভেয়ার মাসুম তাকে চেয়ার ছেড়ে দেয়নি। ফলে প্রতিদিন অফিসে এসে বসার জায়গা পাচ্ছেন না তিনি। এতে স্বাভাবিক কাজকর্মে মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। বদলি আদেশ পাওয়ার পর প্রায় এক মাস চলে গেছে। এরপরও রিলিজ নেননি মাসুম। আগের পদেই তানোরে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ভূমি অফিসে আসা সেবাপ্রার্থী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, তানোর ভূমি অফিসের প্রভাবশালী ও দাপুটে সার্ভেয়ার মাসুম ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না। অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বদলি হলেও তানোর ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষ তাকে রিলিজ দেননি। ফলে সার্ভেয়ার মাসুম ছাড়পত্র নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো একই স্থানে থাকতে উপর মহলে তদবির করছেন। এব্যাপারে তানোর ভূমি অফিসে এসিল্যান্ডের অতিরিক্ত দায়িত্বরত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খানের সরকারি মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও রিসিভ হয়নি। পরে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসানকে ফোন দেয়া হলে তিনি বলেন, তানোরে সার্ভেয়ার মাসুমের বদলি ব্যাপারে অবগত নন। তবে, খোঁজখবর নিয়ে রিলিজ দেওয়ার জন্য এসিল্যান্ডের অতিরিক্ত দায়িত্বরত ইউএনওকে বলা হচ্ছে। এরপরও তাকে রিলিজ না দেয়া হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। ই/তা