ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদি- পাকুন্দিয়া) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এখন তৃণমূল পর্যায়ে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন কর্মীবান্ধব ও সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য পরিচিত নেতা জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা মুহাম্মদ আবুল হোসেন মুশাহিদ ।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসা মাঠপর্যায়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন-যা তাকে কর্মীদের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও কর্মী বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশকে উষ্ণ করে তুলেছেন।ফ্যাসিষ্ট সরকারের রোষানলে পরে তিনি বর্তমানে নিউইয়র্ক থাকলেও ভার্চুয়ালি নেতা কর্মী সমর্থকদর সাথে যোগাযোগ রাখছেন নিয়মিত । তার অনুসারীরা জানায় কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি দেশে আসছেন এবং নির্বাচনী মাঠে কাজ করবেন । স্থানীয়দের মতে, শুধু দলীয় রাজনীতির মুখ্য নন; তিনি সমাজসেবামূলক কার্যক্রম, শিক্ষা ও কৃষি উন্নয়নের উদ্যোগেও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।গ্রামীণ অর্থনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে ভোটারদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।তরুণদের একাংশ বলছে,“তিনি এমন একজন নেতা, যিনি শুধু বক্তব্য দেন না-কাজও করেন। আমরা তার মতো শিক্ষিত ও বাস্তবভিত্তিক নেতৃত্ব চাই।”
মুশাহিদ বলেন “আমি রাজনীতি করি মানুষের ভালোবাসা ও দলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে। উন্নয়নের নামে বৈষম্য, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তৃণমূলের কণ্ঠস্বর হতে চাই।”
তিনি আরও জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এ অঞ্চলে শিক্ষা, কৃষি, শিল্প এবং কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।
এছাড়াও মনোনয়নের প্রত্যাশায় রয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো: জালাল উদ্দীন, সহ-সভাপতি আশফাক আহমেদ জুন, সহ-সভাপতি রুহুল আমিন আকিল ও সুইডেন প্রবাসী জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান কাকন, পাকুন্দিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমদ ফারুক খোকন , যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ মামুন , কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খাঁন দিলীপ। এছাড়াও উপজেলা বিএনপির সদস্য রেজাউল করিম বজলু পোস্টার সাঁটিয়ে ও গনসংযোগ চালিয়ে প্রার্থীতার আভাস দিচ্ছেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কটিয়াদী উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল , খেলাফত মজলিশের মাওলানা ছাঈদ আহমদ , গণ অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম , জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা রশীদ আহমদ জাহাঙ্গীর হোছাইনী । ১৮ নির্বাচনে এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন আলোচিত ,সমালোচিত বর্তমানে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত সাবেক এমপি মেজর (অব:) আক্তারুজ্জামান রঞ্জন ।
জেলা বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন,“তিনি একজন ক্লিন ইমেজের নেতা। তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। ভোটারদের মধ্যে এখন পরিবর্তনের আগ্রহ প্রবল। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ উন্নয়নই স্থানীয়দের মূল দাবি। এলাকাবাসী মনে করে, এই পরিবর্তনের পথে নেতৃত্ব দিতে পারেন তিনি।
তার মধ্যে নেতৃত্বের সততা ও বাস্তব ভাবনা আছে।”নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে ততই স্পষ্ট হচ্ছে নতুন এক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত।