মাদারীপুর-২ আসনে গণসংযোগ, সভা, সমাবেশে ব্যস্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

এফএনএস (এস. এম. রাসেল; মাদারীপুর) : | প্রকাশ: ২০ অক্টোবর, ২০২৫, ০৩:২৫ পিএম
মাদারীপুর-২ আসনে গণসংযোগ, সভা, সমাবেশে ব্যস্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

মাদারীপুর-২ আসন আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত হলেও সরকার পতনের পর নেতা-কর্মীরা কেউ কারাগারে, কেউ গা ঢাকা দিয়েছেন। এই আসন থেকে ৮বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত। তাই মাঠে সরব বিএনপির একাধিক মনোয়ন প্রত্যাশী, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোয়ন প্রত্যাশীরা ইউনিয়ন, পৌর এলাকাসহ গ্রামীণ জনপদে গণসংযোগ করছেন। তারা ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন।

মাদারীপুর সদরের ১০টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা ও রাজৈর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে মাদারীপুর-২ আসন গঠিত। মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠের নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে সার্বক্ষণিক সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং থেকে শুরু করে প্রতিটি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে যোগ দিচ্ছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী দলের সহ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি, ইডেন কলেজের সাবেক ভিপি হেলেন জেরিন খান, জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট মোঃ জাফর আলী মিয়া, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহান, মাদারীপুর জেলা বিএনপির সদস্য মিল্টন বৈদ্য, সাবেক ছাত্রদল নেতা ব্যারিস্টার শহীদুল ইসলাম খান, মাদারীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ও মাদারীপুর সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ। জেলার সংসদীয় আসনের মধ্যে এই আসনটি বড় এবং ভোটার সংখ্যা বেশি।

মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. মোঃ জাফর আলী মিয়া ১৯৯০ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির আহবায়কের দ্বায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মাদারীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির চারবারের সাধারন সম্পাদক ও একবার সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হন। মোঃ জাফর আলী মিয়া বলেন, ‘আমি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের নানামুখী হয়রানীর শিকার হয়ে আমরা মাঠে নামতে পারিনি। সাধারণ ভোটাররা দীর্ঘ দিন তাদের ভোট প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত ছিলো। আশা করি আগামী নির্বাচনে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। সে লক্ষ্যে আমি দীর্ঘদিন শহর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। আমাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।’

মাদারীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহান ১৯৭৯ সাল থেকে ৯৩ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের কলেজ কমিটি, পৌসসভা কমিটি, থানা কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮১-৮২ সেশনে সরকারী নাজিমউদ্দিন কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংসদের জিএস নির্বাচিত হন। জেলা বিএনপির ২বারের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। জাহান্দার আলী জাহান জেলা বিএনপির দু:সময়ের কাণ্ডারী হয়ে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন। তিনি মাদারীপুর-২ আসনের  বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী  হিসাবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ৪৬ বছর রাজনীতি করি। দলের বাইরে যাইনি এবং যাওয়ার কোন সুযোগ নাই। আমি দুইবার পৌরসভার নির্বাচন করেছি। আমাকে দুইবারই পরাজিত করানো হয়েছে। আমি তৃণমূলের একজন কর্মী হিসেবে মনোনয়নের দাবীদার। এতোগুলো পদ-পজিশন নিয়ে আমি আছি, আমার মতো এতো পদ নিয়ে কেউ নাই। দীর্ঘ ১৭ বছরে আমি মোট ১৭বার কারাবরণ করেছি। আমার মতো কোন নেতা-নেত্রী জেল খাটে নাই।’

কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে দিন রাত গণসংযোগসহ সভা-সমাবেশ করে চলছেন। তিনি মাদারীপুর-২ আসনে একবার বিএনপির টিকিটে এমপি নির্বাচন করেছেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর বাংলাদেশের মানুষ তাদের মূল্যবান ভোট প্রয়োগ করতে পারে নাই, জনগণ হচ্ছে বাংলাদেশের মালিক এই মালিকানা প্রমাণ করার প্রথম ধাপ হচ্ছে তাদের মূল্যবান ভোট প্রয়োগ। আগামী নির্বাচনে জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিতে পারবে। আমি আশাবাদি দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে পারবো। তবে আমি দলের বাইরে যাবো না। দলের সিদ্ধান্তই আমার কাছে বড়। আমার সততা, রাজনৈতিক দুরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার কারণে ইডেন কলেজের ভিপি থেকে আজ আমি বিএনপির কেন্দ্রীয় কিিমিটতে স্থান করে নিতে পেরেছি। দলের কাছে আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। আমি মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করতে চাই। আমি আমার বাবার আদর্শে ভাই ও স্বামীর অর্থ দিয়ে মানুষের সেবা করি। আমি চরমুগরিয়া কলেজ করেছি, নারী উন্নয়নের জন্য কাজ আগেও করেছি এখনো করছি এবং আগামীতেও করবো। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি আশা করি বিপুল ভোটে বিজযী হবো।’

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মিল্টন বৈদ্য ২০১৪ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়ে রাজৈর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ গ্রহণ করেন ও ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী হয়ে মাদারীপুর-২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে তার নির্বাচনী এলাকায় তিনি নিয়মিত গণসংযোগ, সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী যেহেতু বিএনপির দুর্দিনে একজন কর্মী হিসাবে দেশ নায়ক তারেক রহমানের একজন কর্মী হিসাবে মাঠে ছিলাম এবং এখনো আছি। সে কারণে দল আমাকে মনোনয়ন দিবে। দল মনোনয়ন দিলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো এবং আমি মাদারীপুর-২ আসনের জনগণকে সাথে নিয়ে নানামুখি উন্নয়ন কাজ করতে পারবো। ’

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদল মাদারীপুর জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ও মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ স্কুল জীবন থেকে শুরু করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মাদারীপুর জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সহসভাপতি, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-২ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে মাঠে রয়েছেন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ,সভা ও সমাবেশ করছেন। দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি আশাবাদী বিজয়ী হবেন। তিনি দেশ নায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে জন্য কাজ করবেন বলে তিনি জানান।

ব্যারিস্টার শহীদুল ইসলাম বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী সরকার জনগণকে ন্যায্য ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই গণতন্ত্র পূনরুদ্ধার এবং জনগণের অবিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তবে আগামী নির্বাচনে দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেবে আমি তার পক্ষেই কাজ করবো।’

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মাওলানা আব্দুস সোবাহান খান ১৯৮১ সালে ছাত্র শিবিরের  রাজনীতিতে যোগদান করেন। তিনি মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের ছাত্র শিবিরের সভাপতি, মাদারীপুর সদর পৌরসভার ছাত্র শিবিরের সভাপতি, মাদারীপুর জেলা ছাত্র শিবিরের সাধারন সম্পাদক, কেরানীগঞ্জ  উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাধারন সম্পাদক হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৮ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করে  প্রথমে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাধারন সম্পাদক, সভাপতি ও দীর্ঘ ২৩ বছর মাদারীপুর জেলা জামায়াতের আমীরের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর অঞ্চলের টিম সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন। মাদারীপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসাবে তিনি মিছিল, মিটিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে মাঠে গণসংযোগ করছেন। তিনি বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণপরিবর্তনের বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছি। যুব ও সাধারণ জনগণের বিপুল সাড়া পাচ্ছেন এবং সংগঠিকভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচিত হবে।’

মাদারীপুর ২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মোঃ লোকমান হোসেন জাফরীকে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ মাদারীপুর জেলার সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় সদস্য, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বর্তমান তিনি কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘আমরা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। ইসলামী দলগুলো জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার সম্ভাবনা আছে। আমি নির্বাচিত হলে প্রাধান্য দিবো মাদক, সন্ত্রাস দমনে। বিগত ১৬ বছর যারা ক্ষমতায় ছিলো তারা মাদারীপুর-রাজৈরের গ্রামাঞ্চলে তেমন কোন উন্নয়ন করেনি। সেই সব রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ কালভার্ড করবো। বাস্তবতা হলো তৃণমূলের সব কাজ করা সম্ভব; যদি আমরা দুনীতি মুক্ত করতে পারি। আমাদের বড় টার্গেট থাকবে দুর্নীতি মুক্ত করা।’

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে