নওগাঁর পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম এর একটি আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি যা লিখেছেন তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ফলাও ভাবে প্রচার হয়েছে। সোমবার তিনি ছাওড় ইউনিয়নের কুশোরপাড়া গ্রামের কয়েকজন পাষন্ড কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়ে তাদের হাতে নিহত ৯ বছরের ছোট্ট শিশু সুমাইয়ার বাড়ি পরিদর্শন শেষে একইদিন সন্ধ্যার আগে তিনি তার ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাসটি লেখেন। অনেকেই স্ট্যাটাসটি লাইক, কমেন্টস এবং শেয়ার করেছেন। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
"আমাদের পোরশা কি আসলেই শান্তিপ্রিয় মানুষের আবাসস্থল? আমাদের সুমাইয়ার (৯) এর কথা কি আপনাদের মনে আছে? কয়েকদিন আগে কয়েকজন নরপিশাচের হাতে ধর্ষিতা হয়ে মুখে লাল মাটি গুঁজে ও গলায় গামছা পেঁচিয়ে যে শিশুটিকে হত্যা করা হলো, আমি তার কথা বলছি। নৃশংস এ ঘটনা আমার মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। আমি ভেবেছি পোরশা অঞ্চলের শান্তিপ্রিয় যুবকেরা কি তাহলে আসলেই এমন অমানবিক হায়নার মতো হয়ে উঠছে! একজন শিশুর প্রতি এমন পৈশাচিক আচরণ কিভাবে তারা দেখাতে পারলো। এ অঞ্চলের মানুষ শান্তিপ্রিয়-নিরিবিলি এসব কী তাহলে কেবলই জনশ্রুতি। তবে হতাশার মধ্যেও আশার কথা হলো, আসামিরা দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছে। এজন্য পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এখন এটাই চাওয়া। আজ ভুক্তভুগী পরিবারের অনুমতি নিয়ে ছাওড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও পিআইও কে সাথে নিয়ে তাদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ভিক্টিমের মা বাবার ক্ষোভ, কান্না আর আহাজারীতে যে হৃদয় বিদারক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো তাতে ছবি/ভিডিও রাখার কথা মাথায় আসেনি বা ইচ্ছা করেনি। ফিরবার সময় সামান্য কিছু আর্থিক সাহায্য ও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহমর্মিতা জানিয়েছি। শান্তি প্রিয় পোরশা দিনদিন অশান্ত হয়ে উঠছে। এর নেপথ্যে অনেক কারণের মধ্যে একটি মাদক। আমার অন্তত তাই মনে হচ্ছে।
এ বিষয়ে কাজ করতে চাই। আপনাদের সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। সুমাইয়ারা ভালো থাকুক, প্রার্থনা করি।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, তিনি নিজে ইচ্ছে করেই সহানুভূতি দেখানোর জন্য সুমাইয়ার পরিবারের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তার পরিবার এবং স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে সুমাইয়ার মৃত্যু সম্পর্কে যা জেনেছেন সে অনুভূতি থেকে তিনি এই লেখাটি লিখেছেন। ভবিষ্যতে এ উপজেলায় আর যেন এরকম কোন হৃদয় বিদারক ঘটনা না ঘটে সেদিকে সজাগ থাকার জন্য উপজেলাবাসি, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে কাজ করার আহ্বান জানান।