দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা বগুড়া যা ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই জেলার রাজনীতিতে "ধানের শীষ" প্রতীকের জনপ্রিয়তা ও প্রভাব আজও যে অটুট সে কথাই জোরালোভাবে উঠে এলো যুবদল বগুড়া শহর শাখার সভাপতি আহসান হাবীব মমির বক্তব্যে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বগুড়ার সাধারণ মানুষ ধানের শীষের প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো বিকল্পের কথা ভাবতেই পারে না। এটি কেবল একটি প্রতীক নয়, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্বাসেরও প্রতীক।
তার এই বক্তব্য বগুড়ার চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মানুষের দলীয় আনুগত্যের গভীরতাকে তুলে ধরে। তিনি উল্লেখ করে বলেন, দেশের এই অঞ্চলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দলটির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার যে শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়েছিল তা এখনো অক্ষুণ্ন। বগুড়াকে প্রায়শই বিএনপির ‘দুর্গ’ বলা হয় এবং এই উপাধি যে কেবল কথার কথা নয় এটা বগুড়ার আবেগ তা বরাবর বগুড়ার মানুষ প্রমাণ করেছে।
আহসান হাবীব মমি বলেন, বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি। এখানকার মানুষ বছরের পর বছর ধরে ধানের শীষকে ভালোবেসে আসছে। তারা দেখছে ধানের শীষ কেবল ক্ষমতার প্রতীক নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং উন্নয়নেরও প্রতীক। তিনি আরও যোগ করেন, বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও যখন দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছিল, তখনও সাধারণ মানুষের সমর্থন ধানের শীষের প্রতি চির অবিচল ছিল যা এখনো আছে। এটি প্রমাণ করে, বগুড়াবাসীর হৃদয়ে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ গভীরভাবে প্রোথিত। বিএনপি একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন, যার মূল লক্ষ্য জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনা। বগুড়া শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডের বিএনপির কর্মীরা জনগণের পাশে আছে, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার। আমরা ভয় পাই না জনগণের ভালোবাসা আমাদের শক্তি। ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করতে বগুড়ার প্রতিটি ঘরে আমরা পৌঁছে যাব, দৃঢ় কণ্ঠে এমনটাই বলেন তিনি।
যুবদলের এই নেতা বিশ্বাস করেন, স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে জাতীয়তাবাদের আদর্শের নিবিড় সম্পর্ক, দলের আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জনকল্যাণমুখী ভাবমূর্তি বগুড়ার ভোটারদের মধ্যে এমন এক গভীর সম্পর্ক তৈরি করেছে যে, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রতীক এখানে সহজে সুবিধা করতে পারে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতীতেও যেমন বগুড়ার মানুষ স্বৈরাচারী মনোভাবাপন্ন বা জনস্বার্থ বিরোধী কোনো শক্তিকে গ্রহণ করেনি, ভবিষ্যতেও তারা তাদের প্রিয় প্রতীকের বাইরে অন্য কিছুকে মেনে নেবে না।
মমির এই দৃঢ় বক্তব্য শুধু বগুড়ার যুবদলের কর্মীদের মধ্যে নয় পুরো জেলা বিএনপিতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তার মতে, জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে যখনই জনগণের ভোটে সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ আসবে, বগুড়ার মানুষ আবারও বিপুল ভোটে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করে তাদের এই দীর্ঘদিনের ভালোবাসার প্রমাণ দেবে। তার মন্তব্যে এই বার্তাই স্পষ্ট, বগুড়ার রাজনীতিতে ধানের শীষের যে একচ্ছত্র আধিপত্য, তা সহজে টলানো সম্ভব নয়। আমার যুবদল শহীদ জিয়াউর রহমানের পরিবারের ভ্যানগার্ড হয়ে পাশে আছি শরীরের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত পাশে থাকবো।