পটুয়াখালীতে গভীর রাতে বসতঘরে ঢ়ুকে দুর্বৃত্তের এলাপাতাড়ি ছুড়িকাঘাতে অটোচালক খুন হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে জেলার সদর উপজেলার জৈনকাঠি ইউনিয়নের সেহাকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত অটোচালকের নাম মোশারফ খান (৪২) । সে গ্রামের বয়াতী বাড়ির হালিম খানের ছেলে। হত্যাকান্ডের পর ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমে পুলিশ ঘটনাস্থলের পাশ থেকে তিনজোড়া স্যান্ডেল ও ১টি রক্তমাখা জামা জব্দ করেছে।
নিহতের পিতা হালিম খান জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে তার ছেলে মোশারফ গ্রামে জমির মধ্যে নির্জন এলাকায় নতুন বাড়ি করে স্ত্রী শাহানাজ বেগম ও নবম শ্রেণিতে পড়-য়া মেয়ে মালা আক্তার কলিকে নিয়ে পৃথক বসবাস করছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সিধ খুঁড়ে দুর্বৃত্তরা মোশারফের ঘরে প্রবেশ করে। ঘরের বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিল মোশারফ এবং ঘরের ভিতরে তার স্ত্রী ও কন্যা ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ ঘরে মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে স্ত্রী শাহানাজ ও মেয়ে কলি ডাকচিৎকার শুরু করে। দুর থেকে ডাকচিৎকারের শব্দ পেয়ে এলাকার লোকজন মোশারফের বাড়িরর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। বিষয়টি দুর্বৃত্তরা টের পেয়ে সামনের দরজা দিয়ে পালাতে চেষ্টা করলে মোশারফ ঘরের লাইট জ্বালেয়ে দুর্বৃত্তদের একজনকে ঝাপটে ধরে। এসময় দুর্বৃত্তরা মোসারফকে এলাপাতাড়ি ছুড়িকাঘাত করলে মোশারফ ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে লোকজন এসে মোশারফকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায়, মোশারফকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ময়ন্তদন্তের জন্য তার মরদেহ মর্গে নেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানায়, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাররা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ মাঠে নেমেছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।