দিনাজপুরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতার ৪

এফএনএস (জি.এম.হিরু; দিনাজপুর) : | প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর, ২০২৫, ০৫:৩৮ পিএম
দিনাজপুরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতার ৪

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শ্বশুরবাড়ীতে প্রাণ দাস (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যার পর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছিল স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ীর লোকজন। এই ঘটনায় পিবিআই স্ত্রীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। 

গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় দিনাজপুর পিবিআই কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ মাহফুজ্জামান আশরাফ। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিপিআইয়ের এসআই মেহেদী হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

নিহত প্রাণ দাস পাশ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও জেলার আউলিয়াপুর আরাজী মাটিগাড়া গ্রামের বাসিন্দা। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন নিহত প্রাণ দাসের স্ত্রী বীরগঞ্জ উপজেলার ডাকেশ্বরী গ্রামের নিপেন্দ্র নাথ রায়ের কন্যা পুজা রানী দাস (১৯), শ্যালক দিপু রায় (২২), শ্বশুর নিপেন্দ্র নাথ রায় (৫০) ও শ্বাশুবাড়ী জোসনা রানী (৪৫)। 

ব্রিফিংয়ে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল বীরগঞ্জের শ্বশুরবাড়ীতে রহস্যজনক মৃত্যু হয় প্রাণ দাসের। সে সময় শ্বাশুড়ী জোসনা রানী প্রচার করেন যে জামাই ঈদুর মারার বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে। এই ঘটনায় বীরগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। মৃত প্রাণ দাসের মা সারতী রাণী দাস গত ৩১ জুলাই পিবিআই অফিসে ইউডি মামলার কপি নিয়ে হাজির হয়ে জানান যে, “আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু শ্বশুরবাড়ীর সবাই বলে প্রাণ বিষ খেয়েছে কিন্তু নিহতের মা বলেন, আমার বিশ্বাস হয় না, সে বিষ খাবে। কেন বিষ খাবে? তারা মৃত. প্রাণকে তাড়াহুড়া করে গোসল করায়। থানার ইউডির সংবাদ আমাদের জানায়নি। কোথাও কোন সহযোগিতা পাইনাই। তাদের পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশীর পরামর্শে পিবিআই অফিসে এসেছি। ছেলে হত্যার সঠিক তদন্ত চাই।” 

তিনি আরও জানান, প্রাণ দাসের মায়ের এমন অভিযোগের পর আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি। তদন্তকালে প্রাণ দাসকে হত্যা করা হয়েছে এমন তথ্য পেয়ে নিশ্চিত হই। পরবর্তীতে স্ত্রীসহ ৪ জনকে আটক করি। পুজা রানী এক যুবকের সাথে পরকীয়ায় জড়িত হয়ে পড়লে প্রাণ দাসের সাথে তার পারিবারিক কলোহ সৃষ্টি হয়। ঘটনার সময় স্ত্রী পুজা রানীকে নেয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ীতে আসেন প্রাণ দাস। পরে শ্বশুরবাড়ীর একটি ঘরে শ্যালক দিপু রায়ের সাথে একসাথে নেশা গ্রহণ করে। সেখানে শ্যালক দিপুর সাথে প্রাণ দাসের কথা কাটাকাটি ও ধাক্কা-ধাক্কি হয়। ধাক্কা-ধাক্কির সময় প্রাণ দাস মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। বিষয়টি গোপন করতে স্ত্রীসহ গ্রেফতারকৃতরা প্রাণ দাস ইদুর মারার বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করে। গ্রেফতারকৃত ৪ জনের মধ্যে শ্যালক দিপু রায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে