ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাচ্ছে উজানী রাজবাড়ী

এফএনএস প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১ নভেম্বর, ২০২৫, ০৪:২৯ পিএম
ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাচ্ছে উজানী রাজবাড়ী

মহারাণী ভিক্টোরিয়ার আমলে যশোর জেলা থেকে রায় গোবিন্দ ও সুর নারায়ণ নামে দুই জমিদার বংশধর গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার উজানী গ্রামে বসতি স্থাপন করেন এবং উজানীর তেলিহাটি পরগণা পত্তন নিয়ে শুরু করে জমিদারি। উজানীতে নির্মিত হয় বিভিন্ন কারুকার্য দ্বিতল- ত্রিতল বিশিস্ট জমিদারদের বসতের জন্য দালান যা বর্তমানে রাজবাড়ি নামে পরচিতি।  সেই বাড়ী এখন ইতহাসের পাতা থেকে মুছে যাচ্ছে সেই সংঙ্গে জমিদারদের নির্মাণ করা বৈঠক খানা শান বাধাঁনো ঘাট, টেরা কোটা সমাধি মঠ ও মন্দির জমিদারের এসব প্রাচীন ভার্স্কয শিল্পের নিদর্শন ধ্বংসের মুখোমুখি অবস্থায় কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আজও দর্শক পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে নেয়। এখন টিকে থাকা জমিদার দের বংশধর সুর নারায়নের পৌত্র সমরন্দ্রে চন্দ রায় দরশর্নাথীদের কাছে বলে যান সেই জমিদারি আমলের রুপ কথার ইতিহাস। প্রায় ৮৮ বছর বয়সী এই জমিদার বংশধর সমরন্দ্রে চন্দ রায় এখনও যেন র্শৌযে র্বীযে বলীয়ান এক অগ্নিপুরুষ। এলাকার হিন্দু মুসলিম সমপ্রদায়ের লোকজন তাকে কতা বলে সম্বোধন করনে। সমরন্দ্রে চন্দ্র রায জানান, অবভিক্ত ভারত বিভাগ ও জমিদারি  প্রথা বিলুপ্তি হওয়ার পর এখানকার জমিদারা ভারতে চলে গেলেও তিনি পৈত্রিক নিবাস হওয়ার কারনে এখান থেকে যায়নি। জমিদার চলে গেলেও থেকে যায় তাদের স্মৃতি চিহ্ন গুলো। সংস্কার আর সংরক্ষনরে অভাবে সে চহ্নি গুলো আজ ধ্বংসের দ্বার প্রানে—। ভেঙ্গে পড়ছে পাচিল ঘেরা দালান মন্দির, মঠ ইত্যাদি। প্রাচীন ভার্স্কয শিল্পের অনুপম টেরা কোটা শৈলির নির্মিত জমিদারদের মঠটির ছাদ ভেঙ্গে পড়ছে এছাড়া গুপ্তধনের সন্ধানে খোড়া খুড়ি, ভাংচুর করে কতিপয় লোকজন মাঠটিকে বিকৃতি করে করে ফেলেছে। এই মঠটি প্রায় ৩০ হাত মাটির নিচে দেবে গেছে। জমিদার বাড়ির সন্নিকটে কালী মন্দিরটিও ভগ্নদশায় পততি। এই মন্দিররে কষ্টি পাথরের কালী মূর্তিটি অনকে আগেই কালের গর্ভে রিলিন হয়ে গেছে। জমিদার বাড়ি সংলগ্ন বিশাল দীঘিটি ও দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার করা হয়নি। উজানীর অদূরে মহাটালী গ্রামে রয়েছে জমিদার আমলের আরও একটি প্রাচীন মন্দির ও আছে বিশাল দীঘি। দীর্ঘ দিন ধরে এগুলো কোনো সংস্কার না করায় ক্রমইে বিলুপ্ত হওয়ার পথে। সমরন্দ্রে চন্দ রায়ের কাছ থেেক আরও জানা যায়, জমিদাদের ফেলে যাওয়া সম্পদের প্রায় ৭০ ভাগ একর জমি-জায়গা এলাকার কিছু প্রভাবশালী মহল ভয়ভীতি দেখিয়ে জাল দললি ও বল প্রয়োগের মাধ্যেেম নাম মাত্র মূল্যে দখল করে নিয়েছে। বাংলা ১৩৫২ সালের ঝড়ে তহশিলের বিভিন্ন কাগজ পত্র নষ্ট হয়ে যায়। এই সুযোগে এলাকার ওই প্রভাবশালীরা নিজেদের জমি দাবি করে ওই জমিদারি সম্পত্তির বেশ কিছু অংশ দলিল করে নেয়। যা ইসলাম কাঠি দলিল বাংলাদেশ আমলে বাতিল করা হয়। পুরনো স্মৃতি চারন করে সমরন্দ্রে আরো বলেন, তৎকালীন চান্দার বলিসহ প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর এলাকা নিয়েছিল তাদের এই জমিদারি আর এই জমিদারি এলাকা বিভিন্ন অংশে এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা স্থাপনা, নিদর্শন। ইতিহাস বিজড়িত এখানকার স্মৃতি চহ্নি গুলোর  সরকারের প্রত্নতত্ব বিভাগ উজানী জমিদার আমলের নিদর্শন গুলো সংস্কার ও সংক্ষনের জন্য এগিয়ে এলে এখানেও গড়ে উঠতে পারে আর্কষনীয় পর্যটন কন্দ্রে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে