আর মাত্র সপ্তাহ দুয়েক পরেই উত্তরের ধানের জেলা দিনাজপুরে শুরু হবে পুরো দমে আমন ধান কাটা-মাড়াই। কৃষকের গোলায় উঠবে নতুন আমন ধান, এই আশায় অনেক কৃষক করেছিল ঋণ কিন্তু গত এক মাস ধরে প্রচন্ড তাপদাহে এবং মাজরা ও কারেন্ট পোকা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এদিকে গতকাল থেকে একনাগারে দমকা হাওয়া ও গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে দিনাজপুরের কৃষকের মাথায় হাত।
ধানের জেলা দিনাজপুরে প্রতি মৌসুমেই কৃষকের মুখে হাসি ফোটে এবারে শেষ সময়ে এসে পোকার আক্রমণ ও দমকা হাওয়া বাতাস ও বৃষ্টিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা।
জেলার প্রতিটি উপজেলায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রথম অবস্থায় ধানের শীষ বেশ তরতর করে বেড়ে উঠছিল কিন্তু অধিকাংশ মাঠেই পোকার আক্রমণ বেড়েছে। বেশ কিছু জমিতে এ মাসের প্রথম দিকে ধান গাছ শুকিয়ে যেতে শুরু করেছিল। কৃষকরা ফসলের মাঠে মাঠে ওষুধ স্প্রে করতে ব্যস্ত সময় পার করছিল কিন্তু ইদানিং কৃষকের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে। উপজেলা গুলোর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
কৃষকরা বলছেন, কারেন্ট পোকা ধানের নিচের অংশে কেটে দিচ্ছে। ফলে পাতা শুকিয়ে ধানের গাছ মরে যাচ্ছে । অপরদিকে মাজরা পোকার আক্রমনে পরিপক্ক হওয়ার আগেই পাতানে পরিণত হচ্ছে ধানের শীষ। এছাড়ও বৃষ্টিপাতে অধিকাংশ ধানের গোড়ায় পঁচন ধরছে। এমন অবস্থায় চরম হতাশায় দিন কাটছে তাদের। জেলার মাদীলা হাট এলাকার কৃষক আবু জাফর ও আলাদীপুর এলাকার কৃষক আবেদ আলী বলেন, জমিতে পোকার আক্রমনে আমরা চরম সমস্যায় পড়েছি। ধানের শীষ বের হয়েছে এসময় জমিতে এখন কীটনাশক ছিটানোর কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এরই মধ্যে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাতে আমরা নিরুপায় হয়ে পড়েছি। প্রতিদিন বিভিন্নরকম কীটনাশক ছিটানো হচ্ছিল, তবুও পোকার হাত থাকে রেহাই মিলছিল না। এতে করে কৃষক ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
তারা অভিযোগ করে বলেন, তালিকাভুক্ত কিছু নির্দিষ্ট কৃষক ছাড়া কৃষি কর্মকর্তা কিংবা মাঠ কর্মিরা তাদের তেমন খোজ রাখেন না। কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো উপদেশ না পাওয়ায়- কীটনাশকের দোকানদাররা যে ওষুধ দিচ্ছে তা দিয়ে জমিতে স্প্রে করছি।
জেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, জেলায় হাইব্রিড ও উপশি জাতের তেজগোল্ড, ব্রি-৯০, বিনা-১৭, সম্পাকাটারি, জাঁপাড়ি, ধানিগোল্ডসহ বিভিন্ন আগাম জাতের ধান চাষ হয়েছে। আগাম জাতের এসব আমন ধান কাটা-মাড়াই প্রায় শেষ। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফ আব্দুল্লাহর সাথে আলাপ চারিতায় জানা যায়, আবওহাওয়ার কারনে এবার একটু বেশি পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে উঠান বৈঠকসহ কৃষকদের সচেতন করতে আমরা কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে (৩৪) সুগন্ধি ধান যেহেতু শেষে পাকে তা নিয়ে একটু বেশি চিন্তিত।
কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে মাঠকর্মিরা সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে কাজ করছে। আমি নিজেও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে খোজ খবর নিয়েছি। কৃষকদের ভালো মানের কিটনাশক ব্যবহার করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষকদের বাড়ী বাড়ী যাওয়া তো আর আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।