বরিশালের মুলাদীতে নির্যাতনের ২১ দিন পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা তাপস চন্দ্র মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাপস চন্দ্র মণ্ডল হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মুক্তেশ্বর মণ্ডলের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। গত ২৩ অক্টোবর রাতে পরকীয়া প্রেমের জেরে উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা তাপস চন্দ্র মন্ডলকে মারধর করা হয়। চরকালেখান ইউনিয়নের চরকালেখান নোমরহাট এলাকার জিতেন কুমার মণ্ডলের ছেলে স্বপন মণ্ডল ও তার লোকজন তাপস মন্ডলের ওপর অমানুসিক নির্যাতন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তাপসের বাবা মুক্তেশ্বর মণ্ডল।
চরকালেখান নোমরহাট এলাকার এক বাসিন্দা জানান, চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করার সময়ে তাপস মণ্ডল নোমরহাট এলাকার স্বপন মন্ডলের বাড়িতে একটি ঘরে থাকতেন। ওই সুবাদে স্বপন মন্ডলের স্ত্রীর সঙ্গে তাপসের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি স্বপন। গত অক্টোবর মাসে স্বপন মন্ডল ও তার লোকজনের সঙ্গে তাপসের সালিশ বৈঠকও হয়। পরে মুক্তেশ্বর মন্ডল তার ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠিয়ে দেন। কিন্তু তাপস সেখানে ৬ দিন থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
তাপসের দেশে ফেরার সংবাদ পেয়ে স্বপন কয়েকজন লোক নিয়ে তাদের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং তাপসকে তাদের বাড়িতে দাওয়াত দেন। তাপস গত ২৩ অক্টোবর রাতে স্বপনের বাড়িতে যান। সেখানে পৌছার সঙ্গে সঙ্গে স্বপন ও তার লোকজন তাপসের হাত-পা বেঁধে ফেলেন এবং বেধরক পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেন। এক পর্যায়ে তাপস পানি খেতে চাইলে তাকে কীটনাশক খাওয়ানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাপসের ডাকচিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম সরদারকে জানান। ইউপি চেয়ারম্যান লোকজনের সহায়তায় তাপসকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকেরা। সেখানে ২১দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরে বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
তাপসের বাবা মুক্তেশ্বর মণ্ডল জানান, ছেলের নিরাপত্তার জন্য মালয়েশিয়া পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু ছেলে সেখানে মাত্র ৬দিন পরে দেশে ফিরে আসে। পরে স্বপন মন্ডলের অনুরোধে তার বাড়িতে দাওয়াতে গিয়েছিলো। স্বপন মন্ডল তার বাড়িতে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে তাপসকে হত্যা করেছেন। এঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।
চরকালেখান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম সরদার বলেন, গত ২৩ অক্টোবর স্বপন মণ্ডলের বাড়ি থেকে তাপসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিলো। বিষয়টি থানা পুলিশকে তাৎক্ষণিক অবহিত করা হয়েছিলো।
এব্যাপারে স্বপন মণ্ডল উদ্যোক্তাকে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তাপস বাড়িতে ঢোকার আগেই কীটনাশক পান করেছিলেন। তাকে বাঁচাতে বমি করানোর চেষ্টা করা হয়েছিলো।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তাকে নির্যাতনের বিষয়টি শুনেছি। এবিষয়ে ওই পরিবারের সদস্যদের লিখিত পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।