সৈয়দপুরে দাম কমে যাওয়ায় আলু নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়িরা

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৫:০৭ পিএম
সৈয়দপুরে দাম কমে যাওয়ায় আলু নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়িরা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে রয়েছে বেশ কয়েকটি আলু সংরক্ষণ হিমাগার। প্রতি বছর ওই সব হিমাগারে ব্যবসায়ি এবং সাধারণ কৃষক আলু নিরাপদে মজুত রাখে। বিনিময়ে হিমাগার কর্তৃপক্ষকে এককালিন ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। তবে অনেক সময় লক্ষ্য করা যায়,মালিক পক্ষ হিমাগারগুলোর ধারণ ক্ষমতার চেয়েও বেশি পরিমাণ আলু সংরক্ষণ করে। যার কারণে অনেক হিমাগারে আলু পঁচে যায়,নষ্ঠ হয় এমন অভিযোগ ছিল অনেকের। আবার বীজ আলু ঠিক মত হিমাগারে যত্ন নেয়া না হলে ওই বীজ জমিতে রোপনের পর তা গজায় না। এতে করে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক।

বর্তমানে হিমাগারে রাখা আলু নিয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগি ব্যবসায়ি ও কৃষকরা। বাজারে কমে গেছে আলুর চাহিদা। পাইকারি বাজারে আলুর দরপতন এবং পরিবহন ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুন।

কামারপুকুর ইউনিয়নের মাজেদুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ি বলেন,হিমাগারে রাখা আলু বের করে তা বাজারে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে। লাভের আশায় হিমাগারে আলু রেখে চরম বিপদে এখন ব্যবসায়িসহ সাধারণ কৃষকরা।

সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন হিমাগারে প্রচুর পরিমাণ আলু মজুত করেছেন ব্যবসায়িসহ কিছু সাধারণ কৃষক। তবে প্রথম দিকে বাজারে আলুর দাম বেশ ভালোই ছিল। তখন হিমাগার থেকে আলু বের করলে লাভ হত কিন্তু বর্তমানে বাজারে কমে গেছে আলুর দাম। হিমাগার থেকে আলু বের করে গন্তব্যে নিয়ে যেতে যে খরচ হবে তা আলু বিক্রি করলেও উঠে আসবে না। এমন কথা জানালেন খুচরা আলু ব্যবসায়ি নুরুল ইসলাম। 

কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের আলু চাষী রবিউল ইসলাম বলেন, ৫২ কেজির এক বস্তা আলু হিমাগারে রাখলে ভাড়া দিতে হয় ৪২০ টাকা। আর ওই ৫২ কেজির এক বস্তা আলু সৈয়দপুরের বাইরের হিমাগারে রাখলে ভাড়া দিতে হয় ৩২০ টাকা। এদিক দিয়েও চাষী ও ব্যবসায়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।

সৈয়দপুরে এক হিমাগারের ম্যানেজার বলেন,খুচরা বাজারে কমেছে আলুর দাম। পাইকারি বাজারে আলুর দাম কমে তা বিক্রি হচ্ছ প্রতি কেজি ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা দরে। ফলে যারা উচ্চমূল্যে আলু ক্রয় করে হিমাগারে মজুত রেখেছেন তারা এখন আর আগের দামে আলু বিক্রি করতে পারছেন না। এখন তাদের আলু বিক্রি করতে হবে অর্ধেক দামে। এতে তাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।

ব্যবসায়িরা বলেন,বিদ্যুৎ বিল, গোডাউন ভাড়া ও শ্রমিক খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে হিমাগারে আলু রাখার ব্যয়ও বেড়েছে। এতে করে তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ব্যাংক বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আলু মজুত করেছেন এখন লোকসান গুণে সেই ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

সৈয়দপুর ঈসমাইল বীজ হিমাগার সুত্রে জানা যায়, আলুর দাম কমে যাওয়ায়,হিমাগারে মজুত আলু খালাসের পরিমাণ কমে গেছে। তবে দ্রুত সময়ে হিমাগারে মজুত আলু খালাস হবে। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে