তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরার রায়ে ভোটাধিকার রক্ষায় আশাবাদ অ্যাটর্নি জেনারেলের

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ০১:২৮ পিএম
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরার রায়ে ভোটাধিকার রক্ষায় আশাবাদ অ্যাটর্নি জেনারেলের
ফাইল ছবি

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের ঐতিহাসিক রায়কে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য নতুন যাত্রা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি মনে করেন, এই ব্যবস্থা ফিরে আসায় ভোটের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের পথ আরও সুদৃঢ় হবে এবং ভোটের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরিয়ে দেয়। রায়ের পরই দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার নতুন স্রোত বইতে শুরু করে। এর আগে ২০১১ সালের রায়ের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, যা নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলতে থাকে।

রায়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরেছে, তবে এটি আগের কাঠামো অনুযায়ী হবে নাকি জুলাই সনদের ভিত্তিতে হবে, তা সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সংসদ। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আরও স্পষ্ট হবে প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন এবং কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে।

তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সহায়তা করবে। তার ভাষায়, “মানুষ এখন নিজেই নিজের ভোট দেবে, দিনের ভোট রাতে হবে না, মৃত মানুষ এসে ভোট দেবে না। আমরা গণতান্ত্রিক মহাসড়কে চলা শুরু করেছি।” তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বের আপিল বিভাগ যে রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেছিল, তা ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং সেই রায় প্রণয়নকারীরা দণ্ডবিধির ২১৯ ধারার অপরাধ করেছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে যুক্তি তুলে ধরে।

এদিন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে। অন্যান্য বিচারপতি ছিলেন মো. আশফাকুল ইসলাম, জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মো. রেজাউল হক, এস এম ইমদাদুল হক, এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং ফারাহ মাহবুব। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকসহ বিভিন্ন পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সর্বসম্মত রায়ে পূর্বের বাতিলকৃত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে।

রায়ে বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। চতুর্দশ জাতীয় নির্বাচন থেকে পুনর্বহাল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক কাঠামো কার্যকর হবে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্কের পর এই রায় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে।

২০১১ সালের রায়ের পর পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করা হয়। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর এই ব্যবস্থা পুনর্বহাল নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। চলতি বছরের ২৭ আগস্ট পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণের পর আপিল বিভাগ ১০ দিনের শুনানি নিয়ে এই রায় ঘোষণা করে। এতে দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি এবং আইনি লড়াইয়ের ফলাফল এবার নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক আস্থার সংকট এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বছরের পর বছর যে বিতর্ক চলছিল, এই রায় সেটির নতুন সমাধানের পথ দেখিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে আগামী সংসদ তত্ত্বাবধায়ক কাঠামো কেমন হবে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সেটিই এখন মূল রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্র।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে