গত ২০ নভেম্বর খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার চলতি বছরের ধান চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্ভোধন করেন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সংগ্রহের মেয়াদ থাকলেও নির্বাচনের আগে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান সমাপ্ত করতে নির্দেশনা দেন খাদ্য মন্ত্রনালয়। কিন্তু সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে একমাস পেরিয়ে গেলেও ধান সংগ্রহ শুরু করেনি উপজেলার হিলি সরকারি খাদ্যগুদাম। দিনাজপুর জেলার সব উপজেলার সরকারি খাদ্য গুদামে ২২ ডিসেম্বররের মধ্যে ধান চাল সংগ্রহের নির্দেশনা ছিল। সে হিসেবে গত সোমবার ছিল ধান চাল সংগ্রহের শেষ দিন। কিন্তু হিলি সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ শুরু করেনি উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক। এদিকে কৃষকের অভিযোগ অনলাইনে নিবন্ধন করে ধান দিতে গুদামে গেলে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাদের ফিরিয়ে দেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধান ক্রয় না করায় উদ্ধর্তন কর্তপক্ষ ধান কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। একাধিক কৃষক জানান, হিলি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান একজন দূর্ণীতিগ্রস্থ। তিনি এখানে যোগদানের পর কৃষক ধান দিতে গেলে নানা ধরনের টালবাহানা করে থাকে। হতে হয় হয়রানীর স্বীকার। কৃষকের কাছ থেকে ধান না কিনে ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে ধান কিনে থাকেন। উপজেলার বিষাপাড়া গ্রামের কৃষক এমরান আলী অভিযোগ করে বলেন, তিনি সরকারী খাদ্যগুদামে ধান দেওয়ার জন্য ১২ ডিসেম্বর অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার ২ টন ধান নিয়ে খাদ্যগুদামে যান। ধান এখনো কেনা কাট শুরু হয়নি বলে তাঁকে ৪ দিন পর আসতে বলা হয়। বাধ্য হয়ে তিনি ফিরে যান। এরপর সোমবার আবারও ধান নিয়ে গেলে ধান কেনার সময় শেষ হয়েছে বলে তাকে জানান গুদাম কর্মকর্তা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একমাস আগে ধান ধরে এসেছে। বাজারে দাম নেই। দু পয়সা বেশী পাওয়ার আশায় কষ্ট করে হলেও ধান ঘরে রেখেছিলাম। এখন আগের দামও নেই। এছাড়াও দুইবার ভ্যানে ধান নিয়ে গুদামে যেতে তার ভাড়াবাবদ খরচ হয়েছে এক হাজার টাকা। সরকার ধান কেনাও বন্ধ করে দিয়েছেন। ধান না বিক্রি করলে কিভাবে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া খরচ বহন চলবে। এ বিষয়ে হিলি খাদ্যগুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান জানান, চাল সংগ্রহে ব্যাস্ত থাকায় ধান সংগ্রহ শুরু করা হয়নি। ইতোমধ্যে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিস থেকে ধান সংগ্রহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই ইচ্ছে থাকলেও এখন ধান কেনা যাচ্ছেনা। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আতিকুর রহমান জানান, কৃষকরা অনলাইনে আবেদন বিলম্বে করার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবছর বছর ধান সংগ্রহের জন্য এলাকায় মাইকিং করা হলেও এবার হয়নি। সমকাল প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মাইকিং করার জন্য সরকার নির্দিষ্ট ফি দিয়ে থাকেন। কিন্তু এ বছর সে বরাদ্দ না থাকায় এলাকায় মাইকিং করা হয়নি। এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, ৩৫ জন কৃষক অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন। এখন পর্যন্ত ধান কেনা হয়নি বিষয়টি দু:খজনক। ধান সংগ্রহের বিষয়টি খাদ্য বিভাগের বিষয়।দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, ২২ ডিসেম্বরের পর্যন্ত ধান চাল সংগ্রহের সময়সীমা ছিল। কিন্তু হিলি সরকারি খাদ্যগুদামে ৮৬ টন ধান সংগ্রহের বরাদ্দ ছিল। বারবার তাগাদা দিলেও তাঁরা একটনও ধান সংগ্রহ করেনি। বাধ্য হয়ে ওই বরাদ্দকৃত ধানসহ জেলায় ২ হাজার ৬৬১ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ইতোমধ্যে তা অর্জিত হয়েছে। হিলি সরকারী খাদ্যগুদামে ধান না ক্রয় করায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আতিকুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমানকে কারন দর্শনো নেটিশ দেওয়া হয়েছে। উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৮ হাজার ১১৮ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ১১৮ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছিল ২৭ হাজার ৪২৪ মেট্রিকটন। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ২৭ হাজার ৬৮৬ মেট্রিকটন। আর তালিকাভ্ক্তু কৃষক রয়েছেন ১২ হাজার ৩৩ জন।