তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থানে

বাংলাদেশকে ১৫০.৭৫ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:২৫ পিএম
বাংলাদেশকে ১৫০.৭৫ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

স্বল্প আয়ের তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশকে ১৫০ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়ন অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই সহায়তায় নারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিশ্বব্যাংকের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। ‘রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট’, সংক্ষেপে রেইজ প্রকল্পের আওতায় এই অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সারা দেশে আরও প্রায় এক লাখ ছিয়াত্তর হাজার তরুণের জন্য কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক সুযোগ তৈরি হবে। এর আগে একই প্রকল্প থেকে উপকৃত হয়েছেন দুই লাখ তেত্রিশ হাজার মানুষ।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, প্রকল্পে অংশ নেওয়া তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন সহায়তা এবং ক্ষুদ্রঋণের সুযোগ পাবেন। এসব উদ্যোগ তাদের কাজ ও ব্যবসা বিস্তারের পথে থাকা বাধা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন জোরদারে মানসম্মত শিশুযত্ন সেবা চালু এবং জলবায়ু সহনশীল জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় পরিচালক গেইল মার্টিন বলেন, “একটি ভালো চাকরি একটি জীবন, একটি পরিবার ও একটি সমাজকে বদলে দিতে পারে। অথচ প্রতি বছর বহু বাংলাদেশি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও কাঙ্ক্ষিত কাজের সুযোগ পান না।” তিনি আরও বলেন, এই অতিরিক্ত অর্থায়ন স্বল্প আয়ের পরিবারের তরুণদের, বিশেষ করে নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের জন্য বাজারভিত্তিক দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করবে, যা তাদের টেকসই জীবিকার পথে এগিয়ে নেবে।

এই অর্থায়নের ফলে রেইজ প্রকল্পের কার্যক্রম শহরকেন্দ্রিক সীমার বাইরে গ্রামীণ এলাকাতেও সম্প্রসারিত হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর অংশ হিসেবে নারীদের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ঘরভিত্তিক শিশুযত্ন সেবার একটি পাইলট কার্যক্রম চালু করা হবে। এ জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রারম্ভিক অনুদান দেওয়া হবে, যা একদিকে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ বাড়াবে, অন্যদিকে পরিচর্যা খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র সামাজিক সুরক্ষা অর্থনীতিবিদ ও প্রকল্পের টিম লিডার আনিকা রহমান বলেন, “রেইজ প্রকল্প প্রমাণ করেছে যে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে সফল উদ্যোগগুলো আরও বিস্তৃত করা যাবে এবং মানসম্মত শিশুযত্নের মতো উদ্ভাবনী সমাধান চালু করা সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির আওতায় প্রশিক্ষণ শেষ করা শিক্ষানবিশদের ৮০ শতাংশের বেশি তিন মাসের মধ্যেই কর্মসংস্থান পেয়েছেন। ২০২১ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রকল্প কোভিড-১৯ এ ক্ষতিগ্রস্ত পঞ্চাশ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে পুনরুদ্ধার ঋণ ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি আড়াই লাখের বেশি বিদেশফেরত অভিবাসীকে পুনঃএকত্রীকরণ সহায়তার জন্য নিবন্ধন এবং এক লাখ বাইশ হাজারের বেশি মানুষকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ নারী।

এই অতিরিক্ত অর্থায়নের ফলে রেইজ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াল ৩৫০ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে