দিনাজপুরের সর্ব উত্তরে ৪টি থানা নিয়ে গঠিত হয়েছে দিনাজপুর-৬আসন। ছোট বড় কয়েকটি দলের নাম শোনা গেলেও এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বি এন পি) হেভিওয়েট প্রার্থী কেন্দ্র্র্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা.এ,জেড,এম জাহিদ হোসেন কে একক প্রাথর্ীী ঘোষনা করেছেন বি,এন,পি। বেগম খালেদা জিয়া এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তির পুর্ব পর্যন্ত তিনি দিনাজপুর-৬ আসনের ৪টি উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে দলের নেতা কর্মীদেরকে নিয়ে জোড় প্রচারনা চালিয়ে গেছেন। ডা. জাহিদ হোসেন জয়লাভ করলে এলাকায় একটি মন্ত্রি পাওয়ার সম্ভাবনার কথা প্রচার করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ভোট দ্রুত এগিয়ে আসলেও নিজ নির্বচনী এলাকায় উপস্থিত হতে পারছেন না ডা. জাহিদ হোসেন। বর্তমানে খালেদা জিয়া অসুস্থ্য থাকায় তিনি নির্বাচনী এলাকায় ফিরতে পারছেন না। অপর দিকে জামায়াতে ইসলামীর পরিক্ষিত ও সাদা মনের মানুষ মোঃ আনোয়ারুল ইসলামকে মনোনয়ন দিয়ে চ্যালেন্স ছুড়ে দিয়েছেন। তফশীল ঘোষনার ৩দিন আগে জামায়াত ভোটের মাঠ গরম করতে নির্বাচনী এলাকা বিরামপুরে বিশাল সমাবেশ করেছে। এতে করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
চারটি উপজেলা নিয়ে (ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর) বৃহত্তম দিনাজপুর-৬ আসন। চার উপজেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৫লাখ ৭৮ হাজার ৬৮৯জন। এবারে নতুন ভোটার হয়েছে ২৭ হাজার ২২৬জন। দিনাজপুর-৬ আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জমে উঠেছে উত্তাপ এক সময়ের ঘনিষ্ট মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ, বিরামপুর ও হাকিমপুর এই বৃহত্তম আসনে এবারে হেভিওয়েট প্রার্থী ভোটের মাঠে থাকায় ভোটের সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। মাঠে নামছেন খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডাঃ এ,জেড,এম,জাহিদ হোসেন। অপর দিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা,দিনাজপুর -৬ আসনের তৃনমুল পর্যায়ের জনপ্রীয় ও আস্থাভাজন নেতা আনোয়ারুল ইসলাম। এককালের শরিকের এই প্রতিদ্বন্দিতা তৃনমুল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত জোট রাজনীতিতে নতুন প্রশ্নেূর জন্ম দিয়েছে।। দিনাজপুর জেলা বি,এন,পির যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ও ঘোড়াঘাট পৌর বি,এ,পির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিলনসহ স্থানীয় নেতা কর্মীরা মনে করছেন ডাঃ জাহিদ হোসেন এই আসন থেকে নির্বাচন করলে আসনটি বি,এন,পির দখলে চলে আসবে। অপর দিকে হারানো আসন পুনরুদ্ধারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম এম,পি, প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারী জামায়াতের রোকন সভায় তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষনা করা হয়। চারটি উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর-৬ আসনে বি,এন,পি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী চুড়ান্ত হলেও নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এন,সি,পি) ও গন অধিকার পরিষদের মাঠ পর্যায়ে কোন প্রার্থী নেই। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এ,বি পার্টি)র ব্যারিষ্টার সানি আব্দুল হক,ইসলামী আন্দোলন ডাঃ নুর আলম সিদ্দিক,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ মুফতি নুরুল করিমের প্রার্থীতা ঘোষনা দিলেও মাঠ পর্যায়ে তারা খুব একটা দৃশ্যমান নয়। তাদের কার্যক্রম চলছে ঢিলেঢালা। দিনাজপুর-৬ আসনে ১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত জামায়ত ২বার,বিএনপি ১বার,আ-লীগ ৫বার (৩বার বিনা ভোটে) । ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর মোঃ আজিজুর রহমান চৌধুরী,১৯৯৬ ফেব্রুয়ারী বিএনপির আতিউর রহমান,১৯৯৬ (জুন) আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার,২০০১ সালে জামায়াতের আজিজুর রহমান চৌধুরী, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের আজিজুল হক চৌধুরী ও ২০১৪,২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের শিবলী সাদিক (বিনা ভোটে টানা ৩বার)। ২০২৪ এ গন আন্দোলনে ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতন হওয়ার পর মাঠ পর্যায়ে ভোটের সমিকরণ পাল্টে যায়। অবাধ ও নিরেপক্ষ ভোট অনুষ্ঠিত হলে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। পাল্টা লড়াইয়ে আছেন সুসংগঠিত দল জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ারুল ইসলাম। এই হারানো আসন পুনরুদ্ধার করতে জামায়াত তৃনমুল থেকে বাড়ী বাড়ী উঠান বৈঠকসহ চার থানায় গনসংযোগ অব্যাহত রেখেছে। এক কালের এই দুই শরিকের মুখোমুখি অবস্থান শুধু আসনটি নয় জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।