আশাশুনি উপজেলার বেউলা শেখ আব্দুস সোবহান কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আরেফিন শান্তর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের ডাঃ জয়ন্ত কুমার মন্ডল, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ফরহাদ জামিল ও ইপিআই কর্মকর্তা মহিবুর রহমান তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
সিএইচসিপি আরেফিন শান্ত ২০২৩ সালে যোগদানের পর থেকে ঠিকমত অফিসে না আসা, ঔষধের সরবরাহ নেই বলে ঔষধ না দেওয়া, খারাপ আচারণ করা, অফিস টাইমে মোবাইলে ভিডিও কলে কথা বলা, রোগী প্রতি ৫ টাকা করে উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্তকালে অভিযুক্ত সিএইচসিপি আরেফিন শরাফী লিখিত বক্তব্য জমা দেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, "আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি সরকারি বিধি মোতাবেক অর্পিত সকল কার্যক্রম যথাযথ পালন, সময়মত ক্লিনিক খোলা ও বন্ধ করে থাকি। কোন রোগির সাথে খারাপ আচরন বা অসংলগ্ন কোন কিছুই আমি করিনি। কিছু স্বার্থান্বেষী কুচক্রী তাদের মনমত কাজ না করায় যোগসাজস করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ১০০ জনের নাম স্বাক্ষর করিয়ে অভিযোগ করা হলেও তদন্তের সময় মাত্র ২/৩ জন আসে। তিনি স্ষ্ঠুু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেন।
ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা রোগি সাবিনা খাতুন জানান, আমার বাড়ি বেউলায়। আমি যখন ঔষধ নিতে আসি দেয়া হয়। ভাল ব্যবহার করে। কোনদিন কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করতে দেখিনি। কখনো তাকে মদপান করতে দেখিনি বা শুনিনি। যারা ঔষধ নিতে আসে নিয়ে চলে যায়, কাউকে গল্প করতে দেখিনি। ডাক্তার খুব ভাল মানুষ।
মাহবুবর রহমান জানান, ক্লিনিকের সামনেই আমার বাড়ি। ক্লিনিকের সেবার মান ভাল। আমরা কখনো ঔষধ ছাড়া খালিহাতে ফিরিনি। ডাক্তার ভাল ব্যবহার করে। খারাপ আচরনের কোন কিছু আমি দেখিনি। যখন যা চেয়েছি, সেবা পেয়েছি। আমাদের সাথে কখনো খারাপ আচারন করেনি, করতেও দেখিনি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।
ইউপি সদস্য শীষ মোহাম্মদ জেরী বলেন, আমাকে ঐ ক্লিনিকের পরিচালনা কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বলে জেনেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো মিটিংয়ে আমাকে ডাকা হয়নি। কোন রেজুলেশন না করেই অবৈধভাবে ৫ টাকা করে উত্তোলন করা হচ্ছে, তার আচারণ ভালো না। একজন সরকারি কর্মকর্তা রাষ্ট্রের সেবক। তাঁর কাছ থেকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিকতা প্রত্যাশিত। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা যাচাই করলে দেখা যায়, উক্ত কর্মকাণ্ড জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে এবং সুশাসনের পরিপন্থী একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। আমি মনে করি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শুধু নাগরিক অধিকার নয়, এটি নাগরিক দায়িত্বও। তাই তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এলাকার মানুষ তার অপসারণ চায়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ডাঃ জয়ন্ত কুমার মন্ডল জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা প্রাথমিক তদন্তে কয়েকজন অভিযোগকারীর বক্তব্য শুনেছি, তদন্ত প্রতিবেদন সিভিল সার্জন স্যারের কাছে প্রেরণ করবো, তিনি ব্যবস্থা নিবেন।