ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। যাচাই-বাছাই শেষে অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, আবার কেউ কেউ বৈধতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া অবস্থায় তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে গিয়ে নানা জটিলতায় পড়েছেন। ভোটারদের স্বাক্ষরসংক্রান্ত নিয়ম মানতে না পারা কিংবা দলীয় মনোনয়ন ছাড়াই দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কারণে অনেকেই বাদ পড়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের বড় অংশ এখনো মামলার বোঝা বইছেন। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কিছু মামলা প্রত্যাহার হলেও বহু মামলা এখনো বিচারাধীন। বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা চলমান থাকায় তাঁদের নির্বাচনী প্রচারণা ব্যাহত হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিচ্ছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ততই অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্রার্থীদের হত্যার হুমকি, গুলিবিদ্ধ হয়ে নেতাদের মৃত্যু কিংবা আহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে নির্বাচনী সহিংসতা এখনো আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে। অস্ত্র চোরাচালান, লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার না হওয়া এবং জামিনে বেরিয়ে আসা সন্ত্রাসীদের পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠা- সব মিলিয়ে নির্বাচনী সহিংসতার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়েছে। অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতা এবং গোয়েন্দা তৎপরতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। আমরা মনে করি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সময়ের দাবি। রাজনৈতিক দলগুলোকে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদার করতে হবে, প্রতিহিংসামূলক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আসন্ন নির্বাচন যেন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে- সেই প্রত্যাশাই আমাদের।