মাসিক খরচ অপরিবর্তিত রেখে সব বিদ্যমান ইন্টারনেট প্যাকেজে তিন গুণ পর্যন্ত গতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। গ্রাহকদের দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সেবা দিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে দেশের ডিজিটাল সেবায় বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, নতুন গতির প্যাকেজ কার্যকর হলে একই মূল্যে গ্রাহকরা আগের তুলনায় অনেক বেশি গতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। এতে অনলাইন শিক্ষা, দাপ্তরিক কাজ, ভিডিও স্ট্রিমিং ও গেমিংয়ের অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন হবে।
বিটিসিএল সূত্র জানায়, পুরোনো প্যাকেজগুলোকে নতুন নামে ও উন্নত গতিতে রূপান্তর করা হয়েছে। মাসিক ৩৯৯ টাকার প্যাকেজে যেখানে আগে ৫ এমবিপিএস গতি পাওয়া যেত, সেখানে এখন মিলবে ২০ এমবিপিএস। একইভাবে ৫০০ টাকার প্যাকেজে গতি বেড়ে হয়েছে ২৫ এমবিপিএস, আর শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা ক্যাম্পাস প্যাকেজে গতি উন্নীত হয়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ এমবিপিএস। মধ্যম ও উচ্চমূল্যের প্যাকেজগুলোতেও গতি বাড়িয়ে ১০০, ১২০, ১৩০, এমনকি সর্বোচ্চ ১৭০ এমবিপিএস পর্যন্ত করা হয়েছে, তবে মাসিক বিল আগের মতোই থাকছে।
বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ইন্টারনেট ব্যবহার এখন কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষা, অফিসিয়াল কাজ ও স্মার্ট সেবার ওপর মানুষের নির্ভরতা বেড়েছে। সে কারণেই গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দ্রুতগতির ও মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও গতিশীল করাই আমাদের লক্ষ্য।”
টেলিযোগাযোগ খাতের বিশ্লেষকদের মতে, একই দামে গতি বাড়ানোর এই উদ্যোগ বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং সরকারি সংস্থা হিসেবে বিটিসিএলের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের সঙ্গে এই গতি বৃদ্ধি কার্যকর হলে অনেক নতুন গ্রাহকও বিটিসিএলের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
বিটিসিএল জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও গ্রাহকবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।