পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক ইউপি সদস্যের বসতঘরের সামনে স্বামীর স্বীকৃতি ও সন্তানদের পিতৃপরিচয় দাবিতে দুই নারী সন্তানসহ অবস্থান নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রনগোপালদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আসাদুজ্জামান নওফেল। ভুক্তভোগী পপি বেগম ও মিম জানান, ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কাবিননামা রেজিস্ট্রির মাধ্যমে নওফেল তাদের বিয়ে করেন। পপি বেগম ঢাকার কালীয়াকৈর উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. বাবুল মিয়ার মেয়ে এবং মিম বরিশাল জেলার কদমতলী থানার মৃত ছাদেল হাওলাদারের মেয়ে। বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে নওফেল তাদের বাবার বাড়ি ও ভাড়া বাসায় রেখে সংসার করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। প্রায় এক বছর ধরে নওফেল তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করায় গত রোববার তারা সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বাড়িতে আসেন। এ সময় পপি বেগম তার তিন বছরের কন্যা নওরিন এবং মিম তার তিন বছরের পুত্র সন্তানকে সঙ্গে আনেন। বাড়িতে এসে তারা জানতে পারেন, তাদের অনুপস্থিতিতে নওফেল গলাচিপা উপজেলার এক নারীকে ‘লামিয়া’ নামে স্ত্রী হিসেবে সংসারে রেখেছেন। পপি ও মিমের অভিযোগ, বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে নওফেল তাদের মারধর করে তাড়িয়ে দেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ভুক্তভোগী নারীরা বলেন, নওফেল একাধিক বিয়ে ও পরকীয়ার মাধ্যমে নারীদের নানা ফাদে ফেলে বিয়ে করে এবং এর আগেও বহু নারীকে বিয়ে ও তালাক দিয়েছেন। পপি ও মিম আরো বলেন, “আমাদের গর্ভে তার ঔরসে দুটি সন্তান জন্মেছে। সন্তানেরা বড় হলে বাবার পরিচয় কোথায় পাবে? আমরা স্বামী ও সন্তানের পিতার স্বীকৃতি চাই। তা না পেলে আইনের আশ্রয় নেব।” অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান নওফেল বলেন, “এটি পারিবারিক বিষয়। আমরা পারিবারিকভাবেই সমাধানের চেষ্টা করছি।” পুলিশ এসে ভুক্তভোগীদের মতামতের ভিত্তিতে তাদের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যের বাসায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়। দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা সামাজিকভাবে সমাধানে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে তারা চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন এবং সে ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।