স্মৃতি, আবেগ আর বন্ধুত্বের এক অনন্য মেলবন্ধনে রাজধানীর পূর্বাচল ক্লাবে অনুষ্ঠিত হলো ‘এসএসসি ১৯৮৬ বাংলাদেশ’ গ্রুপের পুনর্মিলনী উৎসব ৮৬ দর্পণ ২০২৬। গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার দিনব্যাপী এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে গ্রুপটির ৪০ বছর পূর্তি এবং সংগঠনের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সারা দেশের বিভিন্ন জোন ও প্রবাস থেকে আসা কয়েক হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিশেষ জোনভিত্তিক অবদান ও আকর্ষণীয় ইভেন্ট: এবারের অনুষ্ঠানে প্রতিটি জোনের উপস্থিতি ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে বসুন্ধরা জোন, খিলগাঁও জোন এবং মিরপুর জোনের বন্ধুদের বিশেষ অবদান ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি জোন থেকে বন্ধুরা বর্ণিল ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মিছিলে মিছিলে উৎসবে যোগ দেন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল মিরপুর জোনের জমকালো ও আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র, যা উপস্থিত বন্ধুদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। এছাড়াও বন্ধুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত দুটি বিশেষ খেলাধুলা পুরো অনুষ্ঠানে বাড়তি আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য যোগ করেছিল। বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানসূচি: সকাল ৮টায় বন্ধুদের আগমনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে র্যালি এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বন্ধু গাজি সিরাজের ঘোষণার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করা হয়। দিনের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনার পর সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং অসুস্থ বন্ধুদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। নেতৃত্ব ও সমন্বয়: সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী সিরাজ ও অনুণ্ঠান আহ্বায়ক আজাদ পাটোয়ারী এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদ আক্তারের নেতৃত্বে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ভারপওাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম খান দিনরাত এক করে মাঠ পর্যায়ে কাজ তদারকি করেছেন। আহ্বায়ক আজাদ পাটোয়ারী এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদ আক্তারের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে সংগঠনের লক্ষ্য ও আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা ফুটে ওঠে। এছাড়াও ‘জাতীয় দুলাভাই’ খায়রুল ভাইয়ের উপস্থিতি ও সার্বক্ষণিক তদারকি বন্ধুদের মাঝে বাড়তি উৎসাহ যোগায়। সাংস্কৃতিক আনন্দ ও সম্মাননা: দুপুরের বিরতির পর শুরু হয় জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া সম্মানিত বন্ধুদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান এবং দুই পর্বে আয়োজিত কেন্দ্রীয় র্যাফেল ড্র ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান পরিণত হয় স্মৃতি, আবেগ ও বন্ধনের এক অনন্য মিলনমেলায় আবেগঘন সমাপনী: রাত ৮টায় সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। রাকিব বসুনিয়াসহ উপস্থিত বন্ধুরা জানান, এবারের আয়োজনে ব্যবস্থাপনা ছিল অকল্পনীয় সুন্দর এবং দীর্ঘ ৪ দশক পর বন্ধুদের সাথে কাটানো এই মুহূর্তগুলো অমলিন স্মৃতি হয়ে থাকবে। পুরো অনুষ্ঠানটি বিটিভি নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়।