কোটিপতি প্রার্থী থেকে তথ্য গোপন, টিআইবির প্রতিবেদনে উঠে এলো চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম | প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
কোটিপতি প্রার্থী থেকে তথ্য গোপন, টিআইবির প্রতিবেদনে উঠে এলো চিত্র

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বড় একটি অংশই কোটিপতি। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য বিবেচনায় মোট প্রার্থীর মধ্যে ৮৯১ জন কোটিপতি এবং তাঁদের মধ্যে ২৭ জন শতকোটিপতি। নির্বাচনী হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ টিআইবি।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়। তথ্য উপস্থাপন করেন টিআইবির কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। এ সময় সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বক্তব্য দেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মোট ৫১টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে ২৪৯ জন, অর্থাৎ প্রায় ১৩ শতাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী। বাকিরা দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছেন। টিআইবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি পেশায় ব্যবসায়ী। আইন ও শিক্ষকতা পেশার প্রার্থী যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬১ এবং ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। রাজনীতিক হিসেবে পেশা দেখিয়েছেন মাত্র ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

নির্বাচনী ব্যয়ের দিক থেকেও বড় অঙ্কের হিসাব সামনে এসেছে। সব দলের প্রার্থীদের ঘোষিত মোট নির্বাচনী ব্যয় ৪৬৩ দশমিক ৭ কোটি টাকা। গড়ে প্রতিটি প্রার্থীর ব্যয় সাড়ে ২২ লাখ টাকা। ঘোষিত হিসাবে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে বিএনপি, ১১৯ দশমিক ৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, তাদের ব্যয় ৮০ দশমিক ৬ কোটি টাকা।

ঋণ ও দায়ের চিত্রও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। মোট প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশের কোনো না কোনো ঋণ বা দায় রয়েছে। প্রার্থীদের সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ দশমিক ৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণই ১৭ হাজার ৪৭১ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা। সর্বশেষ পাঁচ নির্বাচনের তুলনায় এবার ঋণগ্রস্ত প্রার্থীর সংখ্যা কম হলেও মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি। দলভিত্তিক হিসাবে বিএনপির ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত, যা সর্বোচ্চ। এরপর রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবং জাতীয় পার্টি।

আইনগত জটিলতাও নির্বাচনের একটি বড় বাস্তবতা হিসেবে উঠে এসেছে। বর্তমানে ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অতীতে মামলা ছিল ৭৪০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে, যা মোটের ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কয়েকজন প্রার্থী হলফনামায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দুজন প্রার্থী ব্রিটিশ নাগরিক হলেও দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেননি। নাম প্রকাশ না করার বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “নীতিমালার কারণে আমরা নাম প্রকাশ করছি না। তবে আমাদের কাছে থাকা তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

এ ছাড়া এক প্রার্থীর ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে নির্ভরশীলদের নামে কেনা এক দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের বাড়ির তথ্য, আরেকজনের ক্ষেত্রে দুবাইয়ে স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং বিদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপনের অভিযোগের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামপন্থি দলগুলোর অংশগ্রহণও এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর, যা বিগত পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে