সৈয়দপুরে নির্মাণাধীন ভবনের কাঠ পড়ে শিশুসহ আহত ৩

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
সৈয়দপুরে নির্মাণাধীন ভবনের কাঠ পড়ে শিশুসহ আহত ৩

নীলফামারী-৪ আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলমের নির্মাণধীন বহুতল ভবন থেকে কাঠ পড়ে ভ্যানযাত্রী এক শিশুর মাথা ফেটে গেছে। সাথে শিশুটির মা ও ফুফুও আঘাত পেয়েছে।  ২৫ জানুয়ারি সৈয়দপুর শহরের রংপুর রোড চেলুখাঁ পেট্রোল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত শিশু সোহাগী (১২) নীলফামারী সদরের সোনারায় ইউনিয়নের জাকেরগঞ্জ ডাঙ্গাপাড়ার মো.শহীদ হোসেনের মেয়ে। আহতদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল থেকে এক প্রকার জোর করে ফিল্মি স্টাইলে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে সংবাদ কর্মীরা গেলে জাপা প্রার্থীর লোকজন বাঁধা দেয়। এ সময় জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকের চেম্বার তারা ঘিরে রেখেছিল। শিশুটির ফুফু সাবিনা বেগম বলেন, আমারা ভ্যানে করে সৈয়দপুর টার্মিনাল থেকে শহরের দিকে যাচ্ছিলাম। ঘটনাস্থলে আসা মাত্রই উপর থেকে একটা কাঠের তকতা মাথায় এসে পড়ে। এতে আমার ভাতিজির কপাল গভীরভাবে গর্ত হয়ে কেটে গেছে। আমিও মাথায় আঘাত পেয়েছি। কিন্তু ওই বিল্ডিংয়ের মালিকের লোকজন হাসপাতালে নিয়ে এসে কোনরকমে মেয়েটার কাটাস্থানে সেলাই করে দিয়েছে। আমার দিকে তাদের কোন নজর নাই। আমাকে চিকিৎসা নিতে দেয়নি। আমাদের হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা ব্যস্ত। মেয়েটির মা সেলিনা বেগম বলেন, এতবড় ঘটনা ঘটেছে অথচ তারা বলছে সামান্য ব্যাপার। মেয়েটিকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করছে। আমাদেরকে রেখেই মেয়েকে নিয়ে চলে যাচ্ছে। পুলিশ ও সাংবাদিকরা বাঁধা দেয়ায় পরে ডাক্তারের কাছে প্রেসক্রিপশন করে ওষুধ নেয়া হয়েছে। জানিনা মেয়ের পরিস্থিতি কি হবে। সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা.নাহিদ আক্তার বৃষ্টি বলেন,শিশুটির কপালের আঘাত গুরুতর হলেও হাড় পর্যন্ত পৌঁছেনি। কাটা স্থানে চামড়ায় দুই স্তরে মোট ১৫ টি সেলাই ও ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো.নাজমুল হুদা বলেন,সম্ভবত যারা শিশুটিকে নিয়ে এসেছিল তারা এখানে রাখতে চায়নি। তাই ভর্তি করা হয়নি। তবে শিশুটিকে আমি দেখিনি। ডিউটি অফিসার জানিয়েছেন পরিবারের সম্মতিতেই তাদের যেতে দেয়া হয়েছে। এলাকার লোকজন বলেন,নির্মাণাধীন বহুতল ভবনটি রেলওয়ের বাংলো নং ৩০ এর জায়গায় করা হচ্ছে। এনিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মামলা করলেও কাজ বন্ধ করেনি সাবেক এমপি ও  ত্রয়োদশ নির্বাচনে লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম। এছাড়া ওই সরকারি জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের বিষয়ে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কের সাথেই এতবড় বিল্ডিংয়ের কাজ করা হলেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যে কারণে এমন দূর্ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত শিশুটির আরও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারতো। পৌর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় দূর্ঘটনা তথা প্রাণহানি ঘটতে পারে। জাপা এমপি প্রার্থী আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম বলেন, এটা নিছক একটা দূর্ঘটনা। শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও তার মা ও ফুফুর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার বাবাকেও নিয়ে আসা হয়েছে। এনিয়ে সংবাদ করার কিছু নাই। নির্মাণ কাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে