এক টেবিলে বসে ভোটারদের সাথে নির্বাচনী প্রচারণার মতবিনিময় করলেন বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডা: খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী ও জাতীয় পাটির মহাসচিব ও প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। গত রোববার উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা বাজারে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা করতে গেলে একই স্থানে উভয় প্রার্থীর দেখা হয়। অবশেষে একই স্থানে এক টেবিলে বসে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করেন দুই প্রার্থী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এম এ গাফ্ফার মোল্লা এবং জাতীয় পাটির সভাপতি রেজাউল হক রেজাসহ নেতাকর্মীগণ। বিষয়টি তাৎক্ষনিক ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। তবে অনেকে এই বিষয়টি রাজনৈতিক শিষ্টারের একটি ভাল দিক হিসেবে মন্তব্য করেছেন। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব থাকা উচিত।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা দিন দিন জমে উঠছে। যতই দিন ঘনিয়ে আসছে, প্রচারণা ততই তুঁঙ্গে উঠছে। প্রার্থীগণ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮জন প্রার্থী। কিন্তু মাঠে প্রচার- প্রচারণায় রয়েছেন মুলত চারজন প্রার্থী। এর মধ্যে জামায়াতের অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান, বিএনপির অধ্যাপক ডা: খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, জাতীয় পাটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. মোস্তফা মহসিন সরদার। অন্য চারজন প্রার্তীকে এখও মাঠ দেখা যায়নি। তারা হলেন পরমানন্দ দাস (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল), মো. কাওছর আজম হান্নু (আমজনতার দল), মোছা. ছালমা আক্তার (স্বতন্ত্র), মো. রমজান আলী (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)।
স্ব-স্ব প্রার্থীগণ ও দলীয় নেতা-কর্মীগণ নিজ নিজ দলের জন্য ভোট এবং দোয়া চাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত সাধারন ভোটারগণ কোন মার্কাকে ভোট দিবেন তা নিয়ে মুখফুটে বলছেন না। বিভিন্ন ঘুরে ফিরে খোজ নিয়ে সাধারন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সংখ্যালঘুসহ সাধারন ভোটারগণ কোন মার্কায় ভোট দিবেন তা বলতে নারাজ।
জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমানের দাবি এই আসটিতে এবার দাড়িপাল্লার জয় হবে ইনশাআল্লাহ। জাতীয় পাটির প্রার্থী মনে করেন এই আসনটি লাঙলের ঘাটি হিসেবে পরিচিত। এটিতে আবার লাঙনল জয়ী হবে। বিএনপির প্রার্থী মনে করেন বিএনপি একটি বড় দল। সেই হিসেবে আগামীতে তারা সরকার গঠন করবেন। সেই ধারাবাহিতকায় ভোটারগণ অবশ্যই ধাণের শীষকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পনের ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ভোট সংখ্যঅ ৪ লাখ ১৯ হাজার ১১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৫৭৩ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৫৩৫ জন, এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৩টি। মোট কক্ষের সংখ্যা ৭৭৩টি। এর মধ্যে স্থায়ী কক্ষ ৭০৫টি এবং অস্থায়ী কক্ষ ৬৮টি।