সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পে-কমিশনের প্রতিবেদন কেবল গ্রহণ করা হয়েছে, বাস্তবায়ন বা বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে।
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা জানান, “দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের পক্ষ থেকে পে-কমিশনের দাবি ছিল। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কমিশন গঠন করা হয়েছিল এবং প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কোনো বাস্তবায়নমূলক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, প্রতিবেদন সরাসরি বাস্তবায়ন করা হলে সর্বোচ্চ ব্যয় দাঁড়াতে পারে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। তবে বাস্তবে এটি ধাপে ধাপে করা হয়, যাতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
ফাওজুল কবির খান উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত পে-স্কেল বাস্তবায়ন বা বাতিল করা যাবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের দ্বারা। এভাবে অন্তর্বর্তী সরকার বেতন বাড়ানোর বিষয়ে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি না করে নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবে। তিনি বলেন, “সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যাতে অস্থিরতা বা আন্দোলন তৈরি না হয় এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কোনো অচলাবস্থা তৈরি না হয়, তা বিবেচনায় রাখা হয়েছে।”
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা আরও জানান, পে কমিশনের সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আর্থিক সংস্থানসহ সব দিক পর্যালোচনা করবে এবং সুপারিশ করবে। এরপর নির্বাচিত সরকার চাইলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করা মানেই সুপারিশ বাস্তবায়ন নয়। জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পে কমিশনের কোনো সম্পর্ক নেই।”
এর আগে গত বছরের ২৭ জুলাই গঠিত ২১ সদস্যের পে-কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২১ জানুয়ারি কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খান প্রতিবেদন জমা দেন। নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।