নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমিতে শিশু নির্যাতন: স্কুল ব্যবস্থাপক ৪ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমিতে শিশু নির্যাতন: স্কুল ব্যবস্থাপক ৪ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর নয়াপল্টনে চার বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় শারমিন একাডেমির স্কুল ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।

গত ২১ জানুয়ারি নয়াপল্টনের মসজিদ রোডে অবস্থিত শারমিন একাডেমিতে শিশু শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরের দিন শিশুটির মা পল্টন থানায় শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান শিশুটিকে চাপে ধরে আঘাত করছেন, আর স্কুল ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার শিশুটিকে মুখে স্ট্যাপলার দিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন।

পবিত্র কুমারকে প্রথমে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) আদালতে হাজির করা হয় এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য মঙ্গলবার ধার্য করেন। তার আগে ভোরে মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার প্রধান আসামি শারমিন জাহান এখনও পলাতক।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সালেহ উদ্দিন বলেন, “শিশুটিকে নির্যাতনের ফুটেজের পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষার্থীর নির্যাতনের বিষয়ও জানতে রিমান্ড প্রয়োজন। এটি কোনো সাধারণ শাসন নয়, বরং শিক্ষার্থীর সঙ্গে বর্বর আচরণ।” রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন আদালতে বলেন, “শিশুটির ওপর স্বামী-স্ত্রী মিলে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। তাদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য রিমান্ড জরুরি।”

শুনানিতে আসামি পবিত্র কুমার নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে বলেন, “আমি ওকে মারিনি, ও দুষ্টামি করছিল। অন্য শিক্ষার্থীকে থুতু মারায় শুধু বলেছি থু মেরো না।” তবে মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটির মুখ, গাল ও কানে আঘাতের কারণে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে অন্য প্রতিষ্ঠানেও অনুরূপ ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকে যায়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে