কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি কিশোর গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া এলাকার শেখ কামালের ছেলে সোহেল (১৫) এবং একই এলাকার মোহাম্মদ ইউনুছের ছেলে ওবায়দুল্লাহ (১৪)।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সোহেল ও ওবায়দুল্লাহ নাফ নদীর সংলগ্ন কেওড়া বাগানে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ মিয়ানমারের সীমান্তের ওপারে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির কারণে ছোড়া গুলি বাংলাদেশি কিশোরদেরও লাগে। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
গুলিবিদ্ধ সোহেলের মামা মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, “দুই কিশোরের মধ্যে একজনের মাথায় এবং অন্যজনের পায়ে গুলি লেগেছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে।” হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন কান্তি রুদ্র বলেন, “নাফ নদীর সীমান্ত এলাকায় দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। আহত কিশোরদের অবস্থা নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, এর আগে ১১ জানুয়ারি একই সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা আফনান নামে এক বাংলাদেশি শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। পরের দিন ওই এলাকায় স্থল মাইন বিস্ফোরণে আবু হানিফ নামে এক জেলের পা বিচ্ছিন্ন হয়। এর ফলে সীমান্তে বসবাসকারীরা দীর্ঘদিন আতঙ্কে ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। এটি স্থানীয় শিশুদের নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগের বিষয়।