জালিমকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না, নারীদের প্রতি অসম্মান হলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে—এমন দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সাতক্ষীরায় একাধিক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতেই দেশ পরিচালিত হবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং একই দিনে সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে অন্যদিকে মায়েদের গায়ে হাত তোলা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। নারীরা মায়ের জাতি, তাদের অসম্মান করা হলে তা সহ্য করা হবে না।
জামায়াত আমির বলেন, যুবসমাজকে বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করার রাজনীতি তারা করতে চান না। বরং যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত মানুষের জন্য আলাদা পারিশ্রমিক কাঠামো থাকবে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একটি গণভোট, অন্যটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি আর ‘না’ মানে গোলামি। এ দেশের মানুষ আজাদি চায়। যুবসমাজ বুক পেতে দিয়ে লড়াই করে প্রমাণ করেছে, অন্যায় ও আধিপত্যবাদের কাছে তারা মাথা নত করবে না।
নারীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ যদি জনগণের ভোটে সেবা করার সুযোগ দেন, তাহলে নারীদের চলাফেরা, কর্মস্থলে মর্যাদা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিজের মাকে সম্মান করতে পারে না, সে কখনোই জাতিকে সম্মান করতে পারে না।
সাতক্ষীরার উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, অতীতে এই জেলার সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে। গুম-খুনসহ নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছে এ জেলার মানুষ। ক্ষমতায় গেলে জলাবদ্ধতা নিরসন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নসহ সব প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
খেলাধুলা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে মিথ্যা অজুহাতে ভারতে খেলতে দেওয়া হয়নি, যা নজিরবিহীন। জামায়াত প্রতিবেশীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করতে চায় এবং একই ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। কালো টাকা ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মজীবী ও চাকরিজীবীদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা হবে। ইনসাফের প্রশ্নে জামায়াত কোনো আপোষ করবে না।
জনসভা শেষে তিনি সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোট ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।