বরিশালের আওয়ামী লীগ সভাপতি জহিরুলকে ঘিরে জনমনে ক্ষোভ

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
বরিশালের আওয়ামী লীগ সভাপতি জহিরুলকে ঘিরে জনমনে ক্ষোভ

জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর বরিশালে ও ঢাকায় নৃশংস হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার আসামি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কবাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বাদল তালুকদার এখনো ধরাছোঁয়ার বাহিরে রয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে পলাতক দেখালেও সম্প্রতি জহিরুল হক তালুকদারের উপস্থিতিতে প্রায় দুই হাজার লোকের সমাগম ঘটিয়ে নিজ বাড়িতে ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মিলন মেলা ঘটনানোর পর বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান। হামলায় ছাত্র ও সাধারণ মানুষ গুরুত্বর আহত হলে তার বিরুদ্ধে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় ভুক্তভোগী সুলতান খান একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৬৬) এবং ঢাকার মিরপুর থানায় নাজমুল সালাম একটি মামলা দায়ের করেন (মামলার নং-২৯)। আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হক বাদল তালুকদারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলেও এখনো পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি নিজ বাড়িতে প্রায় দুই হাজার লোকের সমাগম ঘটিয়ে ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান করেছেন। ওই অনুষ্ঠানে জহিরুল হক বাদল তালুকদারের উপস্থিতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মিলন মেলা বসেছিলো।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রহস্যজনক কারণে তাকে (জহিরুল হক) গ্রেপ্তার করছে না। যেকারণে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা বলেন, আমাদের উপর যারা হামলা করেছে তাদের শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে আর কেউ নিরাপদ থাকবে না। অথচ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যানের মতো বড় আসামি এখনও ধরা ছোয়ার বাহিরে রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তদন্ত চলছে, তবে রাজনৈতিক চাপের কারণে অনেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছেনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত ১৬ বছরের মতো এখনো ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হক বাদল তালুকদার বীরদর্পে নিজ বাড়িতে ছেলের বিয়ের নামে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে মিলন মেলা বসিয়েছিলো। এতে করে এলাকার জনসাধারণের মাঝে ফ্যাসিবাদের আতঙ্ক কাটেনি।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যের জমি দখলসহ বিগত ১৬ বছর কারখানা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তলন করে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার অবৈধ টাকায় বাড়ির পাশে গড়ে তুলেছেন গরুর খামার। যেখানে প্রায় অর্ধশতাধিক গরু রয়েছে। ওই গরুর খামার নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে সরকারি ইটসহ নদী ভাঙনে পড়া শিয়ালঘুনি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট টেকনিক্যাল কলেজের ভবনের ইট। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কবাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বাদল তালুকদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার সোহেল রানা বলেন, কবাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যেসব থানায় মামলা হয়েছে তারা যদি আমাদের কাছে লিখিত পাঠায় তাহলে আমরা অবশ্যই তাকে (জহিরুল হক বাদল তালুকদার) গ্রেপ্তার করবো।