সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু না রাখা হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। সিলেটে ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি পালন শেষে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেট অফিসের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট বন্ধ করা হলে রেমিটেন্স স্ট্রাইক, বিমান বর্জনসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা প্রবাসীদের নিয়ে বিমানের “ছিনিমিনি খেলা”বন্ধ করারও আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় ইউকে এনআরবি সোসাইটি ও ইউকে বাংলাদেশি হেরিটেজ কাউন্সিলরস ফোরামের উদ্যোগে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মজুমদারিস্থ বিমান অফিস পর্যন্ত ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক ব্রিটেনপ্রবাসী অংশ নেন। প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে তারা বিমান অফিসের সামনে সমাবেশ করেন।
ইউকে এনআরবি সোসাইটির ডিরেক্টর ও বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা মিজানুর রহমানের উপস্থাপনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
তিনি বলেন, “প্রবাসীরা আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধা। তাদের শ্রম ও ঘামের ওপর ভর করেই সিলেটসহ বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ তাদের সঙ্গে সব সময় বিমাতা সুলভ আচরণ করা হয়। যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রবাসীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে সবাই মিলে কাজ করা হবে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এই রুট বন্ধ হলে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক মানুষ মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়বেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ইউকে এনআরবি সোসাইটির ডিরেক্টর এম আহমদ জুনেদ, ডিরেক্টর ও ওল্ডহাম বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জামাল উদ্দিন, ডিরেক্টর ইসমাইল হোসেন, মোতালিব চৌধুরী, কমিউনিটি নেতা বুলবুল আমিন, বদরুল আলম, দবির মল্লিক, জামান মিয়া, রাসেল চৌধুরী, নুরুল আমিন, মাসুকউদ্দিন, শাহাবউদ্দিন, ড্যানি, আব্দুস শহীদসহ অনেকে।
সমাবেশ শেষে ইউকে এনআরবি সোসাইটির নেতৃবৃন্দ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেট অফিসের ম্যানেজারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে তারা দাবি করেন, যে রুটে বিমান কর্তৃপক্ষ ৮৩ শতাংশ ব্যবসা করে, সেই রুট কীভাবে লোকসানে পড়ে তা প্রশ্নবিদ্ধ। অধিকাংশ যাত্রী যেখানে ৭০০-৮০০ পাউন্ডের টিকিট ১২০০-১৫০০ পাউন্ডে কিনতে বাধ্য হন, সেখানে বিমানের ভেতরের একটি অসাধু চক্র এই অর্থ লোপাট করে রুটটিকে কৃত্রিমভাবে লোকসানি দেখানোর অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার প্রায় ২০ হাজার এবং ম্যানচেস্টার থেকে সিলেট প্রায় ১৮ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে-মোট যাত্রী সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। অথচ এই সময়ে মোট আসন সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে রুটটি কখনোই অলাভজনক বা যাত্রী সংকটে ছিল না।
অতএব দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রাখার জোর দাবি জানান তারা।