নিখোঁজের ৩ দিন পর পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলায় এক শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। সোমবার দিনগত রাত ১ টার দিকে প্রতিবেশীর গোয়াল ঘরের খড়ের গাদার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পাঁচ বছর বয়সী নিহত শিশু উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের আতরখালী গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসি রাসেল মল্লিক এর ছেলে মোঃ রাইয়ান মল্লিক।
রাইয়ান ভাণ্ডারিয়ার পশুরিবুনীয়া আফছারিয়া নূরানী কিণ্ডার গার্টেন এর শিশু শ্রেণির ছাত্র ছিল। পরিবারের অভিযোগ শিশুটির চাচা প্রতিপক্ষ আব্দুল কাদের মল্লিক শিশুটিকে হত্যার পর লাশ খড়ের গাদায় লুকিয়ে রেখেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে ৪ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো: মিজান মল্লিকের ছেলে রিয়াদ মল্লিক, আ : হক মল্লিকের ছেলে মিজান মল্লিক, মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদারের ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম ও মিজান মল্লিকের স্ত্রী পারভীন বেগম। এ ঘটনায় নিহত শিশুর দাদা আব্দুল হক মল্লিক বাদী হয়ে ভান্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটায় পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহম্মেদ সিদ্দিকী তার অফিসে এক প্রেস ব্রিফিং এ জানান, গত শুক্রবার দুপুরে শিশু রাইয়ান নিখোঁজ হয়। দিন রাত খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে শিশুটির মা তন্নী আক্তার ভাণ্ডারিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ভাণ্ডারিয়া থানা পুিলশ ও ডিবি পুলিশের একটি দল অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতিবেশী কাদের মল্লিকের খড়ের গাদার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি জানান, অভিযানের সময় স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটির বাড়ির পাশের একটি মসজিদের বারান্দা থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। চিরকুটটির হাতের লেখার সূত্র ধরে শিশুটির চাচাতো ভাই মোহাম্মদ রিয়াদ মল্লিককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে চিরকুটটি তারই লেখা বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। জানান, আটক রিয়াদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুব দ্রুত অন্য তিন আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।