ভারত ও ইইউ’র ‘ঐতিহাসিক’ বাণিজ্য চুক্তি সই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| আপডেট: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম | প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
ভারত ও ইইউ’র ‘ঐতিহাসিক’ বাণিজ্য চুক্তি সই

দীর্ঘ দুই দশকের আলোচনার পর মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা যৌথভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। মোদি এটিকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বা সকল বাণিজ্য চুক্তির জননী হিসেবে অভিহিত করেছেন।

চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বিশাল বাজার তৈরি হচ্ছে, যা উভয় পক্ষের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে। এই চুক্তির আওতায় ইউরোপ থেকে ভারতে আমদানি হওয়া গাড়ি, যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্য, ওষুধ, লোহা-ইস্পাত এবং অন্যান্য পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো হবে। উদাহরণস্বরূপ, ১৫ হাজার ইউরোর বেশি দামের ইউরোপীয় গাড়ির শুল্ক প্রথমে ৪০ শতাংশ এবং পরে ধাপে ধাপে ১০ শতাংশে নামানো হবে। শুল্ক হ্রাসের ফলে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা অনেক পণ্য সস্তায় পাবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের অস্থিরতার মধ্যেই এই চুক্তি ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সাবেক বাণিজ্য কর্মকর্তা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, “এই চুক্তি শ্রমনির্ভর খাতে ভারতের রপ্তানি বাড়াবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির নেতিবাচক প্রভাব আংশিকভাবে সামাল দিতে সাহায্য করবে। গাড়ির ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাস ভোক্তাদের জন্য তাৎক্ষণিক সুবিধা দেবে।”

চুক্তি কার্যকর হতে কিছু সময় লাগবে। আইনি যাচাই, বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ এবং ইইউর সদস্যরাষ্ট্র ও পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই ইউরোপীয় বাজারে ভারতের পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ হবে। ভারতের বাজারে ইউরোপীয় ব্র্যান্ড যেমন ভক্সওয়াগন, মার্সেডিজ-বেঞ্জ, রেনল্ট ও বিএমডব্লিউ’র জন্য সুবিধা তৈরি হবে, এবং ইউরোপে ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “এই চুক্তি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এবং ইউরোপের লাখ লাখ মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। উৎপাদন ও পরিষেবা খাতের প্রসার ঘটবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।” ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন বলেন, “আজ ইউরোপ ও ভারত ইতিহাস তৈরি করেছে। আমরা সব চুক্তির মধ্যে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পন্ন করেছি।”

চুক্তি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং গ্রিন এনার্জি খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, “ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং এই চুক্তি ইউরোপের জন্যও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারি।” সূত্র: এনডিটিভি