বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা ঐক্যবদ্ব থাকলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলতে পারবো। আমরা ঐক্যবদ্ব থাকলেই জনগণের শাসন কায়েম করা সম্ভভ হবে। জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী জনসভার লক্ষ্য হচ্ছে আগামী বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে পরিণত করা। আমরা এই বাংলাদেশকে জনগণের কাঙ্খিত বাংলাদেশে রূপান্তরিত করবো। শেষ কথা, ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ‘। তিনি বলেন, তাহাজ্জতের নামাজ পড়ে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিবো। কিন্তু ভোট দিলেই কিন্তু দায়িত্ব শেষ হবে না। কেন্দ্র থেকে চলে আসবো না। কেন্দ্রে থেকে রেজাল্ট নিয়ে ঘরে ফিরবো।
মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই দেশের মানুষের যে অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছিল, যে অধিকারের জন্য বহু মানুষ গত ১৬ বছর ধরে গুম, খুন, অত্যাচার, নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, যে অধিকার আদায়ের জন্য গত ২০২৪ সালের জুলাই-াাগস্টে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছে। সেই অধিকার আপনারা প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন আগামী মাসের ১২ তারিখে ভোটের মাধ্যমে। কেন এই ভোটের অধিকার দরকার এই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এই ভোটের অধিকার দরকার কারন, আমরা চাই এই দেশের মালিক জনগণের ইচ্ছামতো যাতে আগামী দিন এই দেশ চলতে পারে সেই ইচ্ছার প্রতিফলন বা বাস্তবায়ন হতে পারে সে জন্যই দরকার ভোটের অধিকার। মানুষের কথা বলার অধিকার। ন্যায্য অধিকার যাতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সেজন্যই দরকার ভোটের অধিকার।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আমি জানি, ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা-শেরপুর-জামালপুর বলুন এ অঞ্চলগুলোতে বহু সমস্যা রয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গনের সমস্যা আছে। কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে। বিভিন্ন্ন জেলা উপজেলাগুলোতে ব্রীজ, স্কুল-কলেজ নির্মাণ, রাস্তা-ঘাট-কালভার্ট এগুলোর সমস্যা রয়ে গেছে। যেহেতু বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংস্কার বা নতুন করে করার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। কারণ ঐ যে বললাম ভোটের অধিকার ছিল না। যদি ভোটের অধিকার থাকতো তাহলে জনগণের সমস্যার সমাধান হতো। যেহেতু ভোটের অধিকার ছিল না, যেহেতু দেশে নিশি রাতের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তথাকথিত নির্বাচন, যেহেতু আমি-ডামির নির্বাচন হয়েছিল, সেখানে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি ছিল না। তাই দেশের যুবক সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তৈরি করা হয় নাই। এলাকার মা-বোনদের সমস্যার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় নাই। শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সঠিকভাবে শিক্ষক প্রেরণ করা হয় নাই। উপজেলা হাসপাতালে বলুন অথবা জেলা হাসপাতালই বলুন না কেন, সঠিকভাবে ঔষধপত্র ও ডাক্তার সরবরাহ করা হয়নি। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশর মানুষ কি চায়? বাংলাদেশের মানুষ একজন অভিভাবক চায়। তার সন্তান যাতে সুশিক্ষা বা সঠিকভাবে শিক্ষা পায়। একজন অবিভাবক চায়, তার সন্তান সেই শিক্ষা পাক যেই শিক্ষার পরে সন্তান কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে। বেকার থাকবে না।
তিনি বলেন, তরুণরা, যুবকরা কি চায়? তারা চায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। দেশের মিল ফ্যাক্টরী হবে, ব্যবসা বাণিজ্য হবে, যাতে করে তারা সুন্দরভাবে নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য চাকুরি-বাকরি করতে পারবে। মানুষ অসুস্থ হতেই পারে। কিন্তু মানুষ চায় মানুষ অসুস্থ হলে তারা যাতে সময়মত চিকিৎসা সেবা পায়। মানুষের মৌলিক চাহিদার মাঝে এ গুলোই মৌলিক চাহিদা।
ময়মনসিংহের জায়গাগুলোতে কৃষকদের অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। বিশেষ করে যদি ময়মনসিংহ দেখি, মাছের পোনা চাষ আরও বড় করা যেত। মাছের পোনা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনার মাঝে রয়েছে কি করে এই মাছের পোনার বিষয়টিকে শুধু দেশের মাঝে সীমাবদ্ব না রেখে বিদেশে রপ্তানি করা যায়। যাতে করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। যাতে করে এই এলাকার মানুষ শুধু একটি নয়, এ রকম আরও প্রতিষ্ঠান তৈরি করার মাধ্যমে আরও মানুষকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের মেয়েদের জন্য, মা বোনদের শিক্ষা দেয়ার জন্য মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত ফ্রি করেছিল। সেই মা বোনরা শিক্ষিত হয়েছেন। আজকে যে কোনো স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই আমরা দেখব ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরা সমান সংখ্যাক লেখাপড়া করছে। আজকে আমরা যদি বাংলাদেশের সমস্ত জনসংখ্যা দেখি আমরা দেখব সমগ্র জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা যদি দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই তাহলে এত বৃহৎ জনগোষ্ঠী অর্থ্যাৎ অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে আমরা কোনোভাবেই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো না এবং সেজন্যই আমরা নারীদের জন্য, মায়েদের জন্য, গৃহিনীদের জন্য বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ যারা সেই পরিবারের গৃহিনীদের জন্য আমরা একটি ফ্যামিলি কার্ড নামে একটি কার্ড দিতে চাই। যাতে করে এ ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা প্রত্যোকটি পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারে। যাতে করে তারা প্রতিমাসে কিছুটা হলে স্বাচ্ছন্দে কয়েকটি দিন অতিবাহিত করতে পারে। একটু হলেও তাদের যাতে সহযোগিতা হয়। ঠিক একইভাবে ময়মনসিংহের মৎস্য চাষী নয়, মৎস্য চাষীর বাইরেও যারা ক্ষেত খামারে কাজ করেন, এইরকম কৃষক ভাইদেরও পাশে আমরা দাড়াতে চাই। এবং কৃষক ভাইদের জন্য কৃষি কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা করছি। এ কৃষক কার্ড কেন আমরা দিতে চাচ্ছি, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষির সাথে জড়িত। এই কৃষক যদি ভালো থাকে, কৃষি ভালো থাকলে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। সেজন্যই আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাড়াতে চাই। কৃষক ভাইদের সহযোগিতা করতে চাই। এ কৃষি কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষক ভাইদের কাছে সরাসরি, তার প্রয়োজনীয় অন্তত ১টি ফসলের সামগ্রিকভাবে বীজ, কীটনাশক, সার পৌঁছাতে চাই। যাতে করে সেটি তাদের সহযোগিতা করে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে মজবুত হওয়ার জন্য দৃঢ় ভিত্তির ওপর তারা দাঁড়াতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আমরা রাজনীতি করি কাদের জন্য? বাংলাদেশের মানুষের জন্য। আজকে এই যে নির্বাচনী জনসভা, এতে আমরা কি দেখি। অনেক দল আছে যারা এসে অন্য দল সর্ম্পকে বিভিন্ন রকম কথা বার্তা বলে। আজকে যদি আমি দাঁড়িয়ে আপনাদের সামনে অন্য দল সর্ম্পকে অন্য রকম কথা বলি, তাদের গীবত গাই, তাদের সর্ম্পকে সমালোচনা করি, তাতে কি জনগণের কোনো লাভ হবে? জনগণের কোনো লাভ হবে না। কারন জনগণ তাকেই ভোট দিবে যারা জনগণের জন্য কাজ করবে। এবং জনগণের যদি কাজ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই একটি রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা থাকতে হবে। পরিকল্পনা থাকতে হবে কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে। কীভাবে কি কি কাজ করবে জনগণের জন্য। সেই পরিকল্পনাগুলো থাকতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি হচ্ছে সে রকম একটি দল, যাদের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী দিনে কীভাবে দেশকে পরিচালনা করবে। কারন এই দলটির অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। কীভাবে দেশের খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুন করতে হয়। কারন বিএনপি নামক দলটিরই অভিজ্ঞতা রয়েছে, কীভাবে জেলায় জেলায় উপজেলায় গ্রাম পর্যায়ে ইউনিয়নে রাস্তা ঘাট নির্মাণ করতে হয়। বিএনপি নামক দলটির অভিজ্ঞতা রয়েছে, কীভাবে শিক্ষার আলো এদেশের সন্তাদের কাছে পৌছে দিতে হয়। বিএনপি নামক দলটিরই অভিজ্ঞতা রয়েছে, কীভাবে বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে হয়। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়। বিএনপি নামক দলর্টিই অভিজ্ঞা রয়েছে, কীভাবে দূর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়।
তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, সেই স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপি’র বিরুদ্বে। ঠিক সেই স্বৈরাচারা যেভাবে বলতো, তাদেরই ভাষা ব্যবহার করছে। তাদের বক্তব্য- বিএনপি নাকি দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। আমার প্রশ্ন- ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরওতো দুইজন সদস্য বিএনপি সরকারে ছিল। তা বিএনপি যদি এতই খারাপ হয় তাহলে ঐ দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি? এই জন্য পদত্যাগ করে তারা আসেনি, তারা সরকারের ছিল, তারা ভালো করেই জানতো, যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দূর্নীতি দমন করছে এবং যে দলটি এখন এই কথা বলছে, তাদের যে দুই সদস্য বিএনপি সরকারের অংশ ছিল, তারা ভালো করেই জানতেন, যে খালেদা জিয়া দূনীর্তিকে প্রশ্রয় দেয় না। সব ধরনের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে খালেদা জিয়ার সময় যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে তার সময় কালের চেয়ে দূর্নীতিতে দেশ নিম্নগেিতেত ছিল। এবং খালেদা জিয়া যখন ২০০১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দূর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করলো। যে দল এইভাবে বিএনপিকে দোষারোপ করে তাদের দুই সদস্যের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকাই প্রমান করে যে, নিজেরাই নিজেদের মানুষ সর্ম্পকে কত বড় মিথ্যা কথা তারা বলছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুরসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক সমস্যা আছে। আমরা এ মাদক সমস্যার সমাধান করতে চাই। কিন্তু মাদক সমস্যার সমাধান করতে হলে কীভাবে করবেন। মাদক সমস্যার সমাধান করতে হলে, আমাদেরকে সেই তরুণদের, সেই যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষের যখন কাজ থাকবে, কর্ম থাকবে, চাকুরি-বাকরি থাকবে, ব্যবসা-বাণিজ্য কমবেশি থাকবে, তখন মানুষ এগুলোর মাঝে যাবে না। আমরা সেই পরিবেশ তৈরি করতে চাই। আমরা দেশে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট বেশি করে তৈরি করবো। যাতে করে আমরা আমাদের তরুণ সদস্যদেরকে যুবসমাজের সদস্যদেরকে, আমরা বিভিন্নরকম ট্রেনিং দিব। যেই ট্রেনিংয়ের বিনিময়ে, তারা বিদেশে যেমন যেতে পারবে, একইভাবে তারা দেশের মাঝে তারা কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে। যারা আইটিতে কাজ করেন, তাদের জন্য বিভিন্ন রকম আইটি ট্রেনিং এর ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছি। যারা আইটিতে কাজ করেন, তারা ঘরে তাদের আয় রোজগার বাড়াতে পারেন।
তিনি বলেন, এই চার জলোর আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, মানুষের চিকিৎসা সমস্যা। আমরা ময়মনসিংহসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে, জেলা হাসপাতালগুলোকে আরও বড় করতে চাই, একইভাবে হেলথ কেয়ারের অ্যাপয়েন্ট করতে চাই। শিশুরা এবং মা বোনেরা চিৎিসার জন্য অনেক সময় হাসপাতালে যেতে পারে না। আমরা চাই, তারা যেন ঘরে বসে চিকিৎসা পেতে পারে। সেজন্যই আমরা চিকিৎসা ব্যব্স্থাকে উন্নত করতে চাই। আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থা ঘরের দ্বারে পৌঁছে দিতে চাই।
তিনি আরো বলেন এ ময়মনসিংহ জেলা অন্যতম কৃষি প্রধান জেলা। আমাদের এখানে অনেক খাল বিল ছিল। এ খাল বিল গুলো ভরাট হয়ে গেছে। এ খাল বিল গুলো আমরা পুর্নখনন করতে চাই। এ খাল খনন করার জন্য যারা কোদাল হাতে নিবেন আমি সেদিন আপনাদের সাথে থাকবো। তিনি বলেন, যে কথাগুলো বললাম, যদি এই কাজগুলো আমরা কমবেশি করতে সক্ষম হই, ইনশাল্লাহ ১২ তারিখে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে, এই যে কথা লো বললাম, এই কাজগুলো যদি করা হয়, আপনারা কি মনে করেন, আপনারাসহ দেশের মানুষ উপকৃত হবে? উপস্থিত লোকজন তখন হ্যাা মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কি কি করবে তা সংক্ষেপে বললাম। বিএনপি আরও অনেক কিছু করবে। তবে এর আগে ১২ তারিখে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। এ সময় তিনি ২৪ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। এ ২৪ জনকে দায়িত্ব দিয়ে গেলাম ৪ জেলার উন্নয়নের জন্য। এদেরকে জিতিয়ে আনতে পারলে দেশের উন্নয়ন করতে পারবো।
তিনি বলেন, সমাজে বিভিন্ন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় ইমাম, মোয়াজ্জিন সাহেবরা আছেন। আমরা এই সম্মানী মানুষগুলোর জন্য বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পর্যায়ক্রমে সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানী দিতে চাই। যাতেকরে উনারা সম্মানের সাথে জীবন-যাপন করতে পারেন। একইসাথে আমরা তাদেরকে বিভিন্ন রকম ট্রেনিং দিব। যাতে করে তারা ভালোভাবে জীবন যাপন করতে পারে।
তিনি বলেন, ঐদিন আপনারা তাহাজ্জতের নামায পড়ে আল্লাহর কাছে রহমত চাইবেন। যাতে সারাদেশে ধানের শীষ জয়যুক্ত হতে পারে। অন্যান্য ধর্মের ভাইয়েরা ভোরবেলা তাদের ধর্মীয় আচার পালন করবেন। এরপর মুসলমান ভাইয়েরা ফযরের নামায পড়ে ভোট কেন্দ্রের সামনে লাইন দিয়ে দাড়াবেন। ভোট শুরু হবে, সাথে সাথে ভোট দেয়া শুরু করবেন। কিন্তু ভোট দিয়ে সাথে সাথে চলে আসলে চলবে না। কেন্দ্রে থাকতে হবে। কড়ায় গন্ডায় ভোট বুঝে নিতে হবে।
তিনি বলেন, কেন এই কথা বললাম। কারন বহু বছর হয়ে গেছে, আমরা ভোট দেয়ার সুযোগ পাইনি। এর আগে আমাদের ভোট বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জন লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এবার সেই জন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে। যাতে কেউ আমাদেরে ভাট লুটপাট করে নিয়ে যেতে না পারে।
তিনি বলেন ১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। সেই যুদ্ধে বহু মানুষ শহীদ হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ৫ আগষ্ট সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে এই দেশেরই ছাত্র জনতাসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার লোকজন।
তিনি বলেন সেই ৭১ সালের যুদ্বই হউক আর ২৪ এর আন্দোলনই হউক, কে পাহাড়ী মানুষ, কে সমতলের মানুষ, কে নৃগোষ্টির মানুষ, অথবা কে বৃহত জনগোষ্টীর মানুষ এঠি কিন্তু কেই দেখেনি। রাজপথে সবাই পাশাপাশি আন্দোলন করেছে। ৭১ সালে যুদ্বের মাঠে সবাই এক সাথে যুদ্ব করেছে। কে কোন ধর্মের মানুষ কেউ দেখেনি। কাজেই এই ১২ তারিখের নির্বাচনে আমাদের সকলকে এক সাথে থাকতে হবে। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে আমাদেরকে এক সাথে ধাকতে হবে। কারন আমরা যদি একসাথে থাকি, আমরা যেভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, আমরা যদি এক সাথে তাকি সবার আগে বাংলাদেশ।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরিফুল আলম, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ও ওয়ারেছ আলী মামুন, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ আসনের বিএনপির প্রার্থী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, দূর্গাপুর-কলমাকান্দা আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফজ্জামান বাবর, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের বিএনপির প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী সিরাজুল ইসলাম, জামালপুর সরিষাবাড়ি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফরিদুল আলম তালুকদার, শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহমুদুল হক রুবেল, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার, জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সুলতান আহমেদ বাবু, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরিপুর) আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নেত্রকোনার আটপাড়া আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হেলালী, নেত্রকোনা সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. আনোয়ারুল হক, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের বিএনপির প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের বিএনপির প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, ময়মনসিংহ-৬ (নান্দাইল) ইয়াছের খান, নেত্রকোনা পূর্বধলা আসনের বিএনপির প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী আক্তারুল আলম ফারুক, ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর-১ সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. তানসিলা প্রিয়াঙ্কা, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট আফজাল এইচ খান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক বেগম নিলুফার চৌধুরী মনি, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান মিন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা আরিফা আহমেদ পিংকি, চৌধুরী আব্দুল্লাহ হেল বাকী, মহানগর বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, শেরপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক একেএম মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শামীম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দর নেতা শহিদুল আলম খসরু প্রমুখ।
এর আগে সকাল থেকেই ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার ২৪ টি সংসদীয় আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ডাক-ঢোল পিটিয়ে দলে দলে ব্যানার-ফেস্টুন ও পোট্রেট নিয়ে সার্কিট হাউজ মাঠে যোগ দেন। ২২ বছর পর প্রিয় নেতার আগমনকে ঘিরে বিকাল ৩টায় তারেক রহমান জনসভাস্থল পৌঁছার আগেই অর্ধেক মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়। প্রচন্ড রোদের কারনে অধিকাংশ কর্মী-সমর্থক আশ্রয় নেয় আশপাশের সড়ক ও জয়নুল আবেদীন পার্কের গাছের ছাঁয়ায়। এদিকে তারেক রহমান বেলা আড়াইটায় সার্কিট হাউজ মাঠের জনসভায় যোগদানের কথা থাকলেও উৎসুক জনতার ভীড় সামলিয়ে মঞ্চে উঠেন বিকাল ৪টায়।
সভাস্থল পৌঁছে প্রথমেই তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত করে মঞ্চে উঠেন। এসময় মুহু করতালি ও শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে সভাস্থল। পরে প্রধান অতিথির জন্য নির্ধারিত চেয়ার সরিয়ে সাধরন চেয়ারে বসেন। ঢাকা থেকে সড়কপথে ময়মনসিংহ সীমান্তের ভালুকা পৌঁছতেই শুরু হয় উপচেপড়া ভীড়। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য দুপুর বেলা ১২টা থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকেন। এসময় উৎসুক জনতা রাস্তার দুধারে দাড়িয়ে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান। তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবায়দা রহমান উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য শেষে তারেক রহমান চার জেলার ২৪ টি সংসদীয় আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান জানান।