বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে বরাবরই ইতিবাচক থাকলেও, ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। একইভাবে বিসিবি নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালে আইসিসি তা মানেনি। উল্টো বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে যুক্ত করা হয়েছে। এরই মাঝে বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদেরও বিশ্বকাপের সংবাদ কাভারের জন্য অ্যাক্রেডিটেশন দেয়নি আইসিসি। গত সোমবার বাংলাদেশের সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন না দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে আবেদন করা সাংবাদিকদের মেইল করেছে আইসিসি। যেখানে সাংবাদিকদের ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ কাভারে অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গ কেবল জানানো হয়েছে। যা নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে ক্রিকেটাঙ্গনে। তবে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে নিজেদের অবস্থানে নমনীয় হচ্ছে আইসিসি। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বাংলাদেশি সংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশনের অনুরোধ বাতিল হয়েছে দাবি করার পর আবেদন প্রক্রিয়া বদলাচ্ছে আইসিসি। সংস্থাটির সূত্র বলছে- ‘আবেদনের সংখ্যা ও সূচিতে পরিবর্তন আনার পর থেকে পুনরায় (অ্যাক্রেডিটেশন) প্রক্রিয়া চলছে। যথাক্রমে অ্যাক্রেডিটেশন তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।’ সূত্রমতে, বাংলাদেশ থেকে ৮০-৯০ জন সাংবাদিক মিডিয়া অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য আবেদন করেছে। যদি তাদের দল আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণও করে, তবুও সবার অনুমতি মিলবে না। সূত্রের বরাতে পিটিআই বলছে, ‘প্রতিটি দেশের জন্য একটা নির্দিষ্ট কোটা থাকে। ৪০ জনের বেশি সাংবাদিককে কার্ড দেওয়া যায় না। বাংলাদেশ থেকে অনেক বেশি সাংবাদিক আবেদন করেছেন। প্রত্যেককে দেওয়া যাবে না। কাদের কার্ড দেওয়া হবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারপর তাদের অনুমতি দেওয়া হবে।’ সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ কাভারেজের সুযোগ না দেওয়া প্রসঙ্গে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, ‘গত সোমবার সিদ্ধান্তটা এসেছে। এরপর আমরা জানতে চেয়েছি, ব্যাখ্যা চেয়েছি। ওটা ভেতরের গোপনীয় বিষয়, কিন্তু আমরা জানতে চেয়েছি। গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় যে (তার দেশ) অংশ্রগ্রহণ করতেই হবে। (২০১৩) চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ অংশ নেয়নি তারপরও আমাদের সাংবাদিকরা সেখানে গিয়েছিলেন কাভার করতে। এ ছাড়া ফিফা বিশ্বকাপে আমাদের দল কখনো অংশ নেয়নি কিন্তু সাংবাদিকরা নিয়মিত যান কাভার করতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে এটা (কাভার) করতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু এটা তাদের সিদ্ধান্ত, আমাদের আসলেই কিছু করার নেই। তবে আমরা মনে করি আমাদের গণমাধ্যমকর্মীদের সেই সুযোগটা দেওয়া উচিত ছিল। আমরা তৃতীয় সর্বোচ্চ ভিউয়ার, আমরা না খেললেও তো বিশ্বকাপ হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের গণমাধ্যমকর্মীরা সেটা আমাদের দর্শকদের কাছে উপস্থাপন করতে পারতেন। আমরা বিশ্বকাপে শর্ত দিয়েছি যে নিরাপত্তা ইস্যুতে আমরা একটা নির্দিষ্ট ভেন্যুতে (দেশ) খেলতে পারব না, এমন নয় যে পুরো বিশ্বকাপেই খেলব না।’