চাকরির প্রলোভনে ২ লক্ষাধীক টাকা নিয়ে চম্পট

এফএনএস (মহানন্দ অধিকারী মিন্টু; পাইকগাছা, খুলনা) : | প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
চাকরির প্রলোভনে ২ লক্ষাধীক টাকা নিয়ে চম্পট

খুলনার পাইকগাছায় কপিলমুনিতে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের ব্যাবহার করে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থার নামে ভূয়া এনজিওতে চাকরি প্রলোভনে একটি প্রতারক চক্র প্রায় ২ লক্ষাধীক টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগে জানানো হয়, গত ২২ জানুয়ারি মাগুরার এনজিও জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থা, যার রেজি নং-২০৮/০৩ উপজেলার কপিলমুনি ইউপিতে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিওতে হাঁস-মুরগীর উন্নয়ন প্রকল্পে লোভনীয় সম্মানিতে জনবল নিয়োগের একটি চিঠি উপস্থাপন করে। ২০ জানুয়ারি ইস্যুকৃত যার স্মারক নং-৫১/জে,ইউ.এস/২০২৬ চিঠিতে পরিষদের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের চিহ্নিত করে বলা হয়, ইউনিয়ন পর্যায়ে ওয়ার্ডভিত্তিক হাঁস-মুগীর চিকিৎসার জন্য চাহিদা মোতাবেক একজন করে মহিলা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র চেয়ারম্যানের নিকট জমা দেওয়ার জন্য বলা হল। যাতে ১ জন সুপাভাইজার ও ১১ জন মাঠকর্মী পদের কথা উল্লেখ থাকে। যার প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মাধ্যমে কাংখিত লোক নিয়োগ পূর্বক পরের দিন ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল থেকে ইউপি মিলনায়তনে ট্রেনিংয়ের কার্যক্রম শুরু করে চক্রটি। পরের দিন ২৪ জানুয়ারি শনিবার পর্যন্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের কাছ থেকে অভিনব প্রতারনার মাধ্যমে জনপ্রতি ৫/১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২২,৫০০ টাকা পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে। এবং বলা হয় পরের দিন রবিবার এনজিওর মালিক সাবেক এমপি নিতাই রায় চৌধুরী উপস্থিত হয়ে নিয়োগকৃতদের মধ্যে নিয়োগপত্রসহ ১ মাসের অগ্রীম অনারিয়াম প্রদান করবেন। সে অনুযায়ী পরের দিন ২৫ জানুয়ারি সকলে কপিলমুনি ইউপিতে উপস্থিত হলেও এনজিও কর্মকর্তারা উপস্থিত হননি। বিলম্ব দেখে জনপ্রতিনিধি ও চাকুরী প্রত্যাশীরা কতিপয় এনজিও কর্মকর্তাদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এরপরই তারা বুঝতে পারেন যে, তারা প্রতারিত হয়েছেন। ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন গাজী সংরক্ষিত ইউপি সদস্য কাকুলি বিশ্বাস এর উপস্থিতিতে বলেন ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য রবীন্দ্রনাথ অধিকারী প্রতারক চক্রকে আত্নীয় পরিচয় দেয়। এবং চেয়ারম্যান যাচাই-বাছাই না করে ভুয়া এনজিও পরিচয় অনুমোদন দিলো কেন? এ দায়ভার এ দুই জনের। এব্যাপারে কপিলমুনির ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রাজিয়া সুলতানা জানান, তিনি সুপারভাইজার পদের বিপরীতে তাদেরকে ০১৭২২-৩৮৩৯৬৪ নং মোবাইলে (নগদ) ২২ হাজার ৫ শ’ টাকা প্রদান করেন। সদর কপিলমুনি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবীন্দ্র নাথ অধিকারী জানান, তিনি তার ছেলে-মেয়েদের চাকুরীর জন্য অগ্রীম ৫ হাজার টাকা ও ২টি মুরগী প্রদান করেন। এভাবে প্রতি চাকুরী প্রত্যাশীদের কাছ থেকে নগদ কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অন্তত ২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারনার শিকার রাজিয়া সুলতানা আরোও জানান, প্রতারক চক্রের দু’জনের নাম ফারুক আহম্মেদ ও কাজল বলে পরিচয় দিলেও আসলে তাও ভূয়া। প্রকৃত পক্ষে তিনি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে জাতীয় পরিচয়পত্র সার্চ দিয়ে দেখেন মোবাইলের সিমটি ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু থানার ভেড়াখালী এলাকার এক নারীর নামে উত্তোলনকৃত। পরে গত পরশু তিনি ঐ মহিলার গ্রাম ভেড়াখালীতে গিয়ে তথ্যানুসন্ধানে জানতে পারেন, প্রতারক ফারুখ আহম্মেদ পরিচয়দানকারীর প্রকৃত নাম আব্দুর রহমান তিনি একজন চিহ্নিত প্রতারক। এরপর সন্ধ্যা নেমে আসায় তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। এদিকে কপিলমুনি ইউপির পক্ষে সোমবার (২৬জানুয়ারি) সদর ওয়ার্ডের সদস্য রবীন্দ্রনাথ অধিকারী এঘটনায় পাইকগাছা থানায় একটি অভিযোগ করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে