আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই মুহুর্তে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ততম সময় পার করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা। নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তেমন কোন উদ্দীপনা চোখে না পড়লেও নির্বাচনী মাঠ গরম রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। প্রার্থীরা নিজে এবং তাদের কর্মীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন এবং নিজেদের মার্কায় সিল মারার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন। অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নেতিবাচক কাজ সাধারণ ভোটারদের সামনে উপস্থাপন এবং তাঁদের দল ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষের জন্য কি করা হবে তা তুলে ধরে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপুর্ণ আচরণ বিধি সরকারের পক্ষ থেকে বেঁধে দেওয়ায় খুব হিসাবনিকাশ করে প্রার্থীদের প্রচারণা চালাতে হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় মোট ৬জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও ইতিমধ্যে ৩জন তাদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করায় বর্তমানে নির্বাচনের মাঠে রয়ে গেছেন ৩জন প্রার্থী। এরা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. সামসুজ্জোহা খাঁন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের ইঞ্জিনিয়ার মো. এনামুল হক এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি মনোনীত ঈগল মার্কা প্রতীকের মো. মতিবুল ইসলাম। দাঁড়িপাল্লা ও ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. এনামুল হক এবং মতিবুল ইসলাম এই আসনে ১ম বারের মতো নির্বাচন করলেও ধানের শীষের প্রার্থী মো. সামসুজ্জোহা খাঁন নওগাঁ-২ আসন থেকে ইতিপূর্বে ৩বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। নওগাঁ জেলার ৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে একমাত্র মো. সামসুজ্জোহা খাঁন হলেন পুরাতন মুখ। এছাড়াও তিনি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ছিলেন বিএনপি’র নওগাঁ জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি। পোড় খাওয়া ও ত্যাগি নেতা হিসাবে এলাকার তাঁর রয়েছে বেশ সুনাম। দলের চরম দুর্যোগকালীন সময়ে তিনি মামলা-হামলার তোয়াক্কা না করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাঠে থেকে দলের নেতাকর্মীদের মনোবল অটুট রেখেছেন। বার বার জেলে যেতে হলেও তিনি দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয়ে নেতাকর্মীদের আঁকড়ে ধরে রেখেছেন এবং নীতির সাথে কোন আপোষ করেননি। নওগাঁ জেলার ধামইরহাট-পত্নীতলা উপজেলা নিয়ে ৪৭, নওগাঁ-২ আসন। এই আসনের তৃণমুল পর্যায়ে বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মো. সামসুজ্জোহা খাঁন একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। যেহেতু তিনি এই এলাকার ৩ বারের সাবেক সংসদ সদস্য তাই বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাঁর মন্ত্রী হওয়ার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের দরকার এলাকার উন্নয়ন। এছাড়াও ধানের শীষের প্রার্থী অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে দুর্নীতীমুক্ত এলাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছেন। এ কারণে আসন্ন নির্বাচনে আমরা সামসুজ্জোহা খাঁনের উপরই ভরসা করতে চাই। আবার কোরআন ও সুন্নাহের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রতি যারা প্রদান করবেন তাকেই ভোট দেওয়া দরকার বলে অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এলাকার কয়েকজন সুধীজনের সাথে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তাঁরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, নির্বাচনে প্রচারণা হলো ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার একটা প্রক্রিয়া। এ সময় প্রার্থীরা নানা রকম কথার ফুলঝুঁরি প্রদান করবেন, প্রতিশ্রুতি দিবেন এটাই স্বাভাবিক। এর মধ্য থেকেই মানুষকে তাদের পছন্দের নেতাকে বেছে নিতে হবে। তাঁরা বলেন ঐতিহাসিকভাবেই নওগাঁ-২ আসনটি বিএনপি’র ঘাঁটি হিসাবে সুপরিচিত। মাঝে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হোচট খাওয়ায় বিএনপি এই আসনটি হারিয়ে ফেলে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি পুনুরুদ্ধার করার জন্য বিএনপি’র সামনে অপার সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে। এখানে বিএনপি’র জন্য ঝুঁকি ছিলো নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং। কিন্তু নির্বাচনী ডামাডোলে সকল গ্রুপ ভেদাভেদ ভুলে কাজ করছে। নওগঁ-২ আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় এবং দল একজন ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় এই আসনটি বিএনপি সহজেই পুনুরুদ্ধার করতে পারবে বলে আপাতদৃষ্ঠিতে মনে হচ্ছে। তবে সংখ্যালঘু এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট নওগাঁ-২ আসনের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে। খোলা চোখে বিএনপি নেতৃবৃন্দ মনে করছে সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগের সমর্থকরা দাঁড়িপাল্লা তথা জামায়াতের প্রার্থীকে কখনওই ভোট দিবে না। এদের ভোট ধানের শীষেই আসবে। কিন্তু রাজনীতির নিমর্ম বেড়াজালে পড়ে যদি এই হিসাব পাল্টে যায় তাহলে ধানের শীষের জয়ের ক্ষেত্রে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে নওগাঁ-২ আসনে ধানের শীষের সাথে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের লড়াই হবে এমনটাই আমরা মনে করছি। উল্লেখ্য আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-২ আসনে মোট ৩লক্ষ ৭২ হাজার ৪শত ৩৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১লক্ষ ৮৫ হাজার ৩শত ৭৫ জন, নারী ভোটার ১লক্ষ সাতাশি হাজার ৫৯জন এবং হিজড়া ভোটার ২জন।