২৪ শিক্ষকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
২৪ শিক্ষকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

স্কুল জাতীয়করণে দুর্নীতির অভিযোগে ২১ জন শিক্ষক এবং ছাত্রীকে যৌণ হয়রানির মিথ্যা অভিযোগে অভিভাবককে দিয়ে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় তিন শিক্ষকসহ পাঁচজনসহ বরিশালের ২৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক পৃথকভাবে এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দিয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান জানিয়েছেন, এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌণ হয়রানির মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাপ্রাপ্তরা হলেন-বরিশাল নগরীর হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধানশিক্ষক এসএম ফখরুজ্জামান, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক নাজমা বেগম, শিক্ষক শেখ জেবুন্নেছা, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল ও মামলার বাদী সেকান্দার আলী। বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান আরও জানিয়েছেন-২০২৪ সালের ৬ মে নগরীর হালিমা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ১৩ জন শিক্ষার্থীকে যৌণ হয়রানির অভিযোগ তুলে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষক মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রধানশিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠণ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কমিটির মনগড়া রিপোর্টের ভিত্তিতে শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে ম্যানেজিং কমিটি। পরে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবককে দিয়ে শিক্ষক মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করিয়েছেন প্রধানশিক্ষক। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্ত শেষে রিপোর্ট দাখিল করেন পিবিআইর উপ-পরিদর্শক মো. বাশার। তার রিপোর্টে উঠে আসে প্রকৃত ঘটনা। বাদী শিক্ষককে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন বলে তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষক মাইদুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে পুনঃতদন্তের আবেদন করেন। বিচারক বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষক ও আইসিটি) উপমা ফারিসাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। সম্প্রতি তিনি ১৪ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। তার দেওয়া রিপোর্ট পর্যালোচনা শেষে সাবেক ও বর্তমান প্রধানশিক্ষক, বাদী ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) শেষকার্যদিবসে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষক মাইদুল ইসলামের অভিযোগ, প্রধানশিক্ষক সিন্ডিকেটের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কোচিং বাণিজ্যের প্রতিবাদ করায় তাকে দফায় দফায় হয়রানি করা হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীর অভিভাবককে দিয়ে তার বিরুদ্ধে যৌণ হয়রানির মিথ্যা মামলা দায়ের করানো হয়। আগেও গণিতের এক শিক্ষককে একইভাবে ছাত্রীকে যৌণ হয়রানির অভিযোগের মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। সেই মামলার অভিযোগও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। অপরদিকে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নয়টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের মামলায় নয়টি বিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ শেখ ফারুক হোসেন। স্কুল জাতীয়করণে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন-বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক পুতুল রানী মন্ডল, কল্যানী দেবনাথ, গোলাপী রানী, সাবনিন জাহান, সুরাইয়া সুলতানা, সুবর্না আক্তার, কাওসার হোসেন, মো. মনিরুজ্জামান, ফাতেমাতুজ জোহরা, রোকসানা খানম, শহিদুল ইসলাম, রেশমা আক্তার, রহিমা খাতুন, আকতার হোসেন খোকন, নাছরিন খানম, মনির হোসেন, রেহেনা পারভীন, আহসান হাবীব, সামসুন্নাহার, আক্তারুজ্জামান মিলন ও মনিরুজ্জামান। মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী জানান, জাতীয়করণের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের ভুয়া রেকর্ডপত্র তৈরি করে নিয়োগ দেখিয়ে এক কোটি ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৩১৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন দুদক বরিশাল কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় দপ্তরের উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান। মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহা। পরবর্তীতে বিচারক চার্জশিট গ্রহণ করে উল্লেখিত ২১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন।


আপনার জেলার সংবাদ পড়তে