জন মনোরঞ্জন না

বাস্তব পরিবর্তন চাই উত্তরবঙ্গবাসীর প্রত্যাশা তারেক রহমানের অঙ্গীকার

এফএনএস ( মো: রাজিবুল ইসলাম রক্তিম; বগুড়া) : | প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
বাস্তব পরিবর্তন চাই উত্তরবঙ্গবাসীর প্রত্যাশা তারেক রহমানের অঙ্গীকার

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফরে এসে ব্যাপক সমর্থন ও আশার সুর অনুভব করছেন। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় রাজনীতিক হিসেবে ঘুরে বেড়ানো তার নির্বাচনী প্রচারণা ইতোমধ্যেই আদর্শ-আশা ও বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি তৈরি করেছে। তারেক রহমান গত (২৯ জানুয়ারি) উত্তরবঙ্গের তিনদিনের নির্বাচনী সফরে ঢাকা থেকে রাজশাহী হয়ে বগুড়া, রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জনসভায় অংশ নেন। অনুসারী ও সমর্থকের ভিড়ে এসব সভা মুখরিত ছিল। রাজশাহী এলাকায় বিশাল জনতার সামনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি অঙ্গীকার করেন যে, কৃষি উন্নয়ন, বেকারত্ব কমানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনবেন। এখানে তিনি বলেন, রাজশাহী থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের সমস্ত কৃষকের জন্য পরিবারিক কার্ড, কৃষি কার্ড পর্যন্ত দেওয়া হবে, যাতে ঋণ, বীমা, সার, বীজসহ সব সহযোগিতা সুনিশ্চিত হয়।  জনসাধারণের প্রত্যাশা ও বিন্দুভিত্তিক দাবি  নাগরিকরা তারেক রহমানের কাছ থেকে শুধু নির্বাচনী বক্তৃতা চান না। তাদের প্রত্যাশা বাস্তব কর্মপরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন। উত্তরবঙ্গের অনেক মানুষ চান যে কৃষকের ঋণ মওকুফ, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে। রাজশাহী, বগুড়া ও রংপুরের জনসভায় এসব দাবি দৃশ্যমান ছিল।  এক বৃদ্ধ কৃষক বলেন, আমাদের সর্বাধিক দরকার পানি ব্যবস্থাপনা ও নিকাশের সমস্যা সমাধান, যেন আমরা নিয়মিত শস্য ফলাতে পারি। তারেক রহমানের পরিকল্পনায় আধুনিক খাল খনন ও নদীর নিকাশি সঠিকভাবে পরিচালনার প্রস্তাব থাকায় কৃষকেরা তা ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন। অনেকে আশা করেন আইটি পার্ক, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো হলে যুবসমাজের কর্মসংস্থান বাস্তবে সিদ্ধ হবে। এছাড়া নিরাপদ পরিবেশ, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সরকারি দায়িত্বে অন্যতম দাবি। 

তারেক রহমানের অঙ্গীকার: বাস্তব পরিকল্পনা তারেক রহমান তার নির্বাচনী বক্তব্যে বেশ কিছু বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি “ধানের শীষ”প্রতীকে ভোট পেয়ে সরকার গঠন হয় তাহলে-কৃষি ঋণ মওকুফ সহ খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের সেবা শক্তিশালী করা হবে। পদ্মা ব্যারেজ ও খাল খননের কাজ আবার শুরু করে পানি ব্যবস্থায় উন্নয়ন আনবে। আইটি পার্ক ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করে যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।প্রতিটি পরিবারের জন্য পরিবারিক কার্ড নিয়মিত সহায়তা নিশ্চিত করবে। নারীদের দক্ষ করে তোলার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যেখানে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে কেন্দ্র করে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নাগরিক ও রাজনৈতিক সমালোচনা নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সমালোচনাও এসেছে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে যে বিএনপি-জোটের প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল জনপ্রিয়তা অর্জনের কৌশল, এবং বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে তা প্রশ্নবিদ্ধ। কিছু সমালোচক বিএনপির বক্তব্যকে “সুবিধাভোগীশূন্য, বাস্তবসম্মত নয়”বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন।  দ্বিধাহীনভাবে, ভোটাররা জানতে চান যে নতুন সরকারের সময় আইন-শৃঙ্খলা ও সৌজন্যমূলক পরিবেশ কতটা সুনিশ্চিত হবে যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও নাগরিক নিরাপত্তা উন্নত হয়। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ এই নির্বাচন বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় চিহ্নিত করছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ রাষ্ট্র নতুন নেতৃত্বে দেবেন কি না তা নির্ধারণ হবে। তারেক রহমান বার্তা দিচ্ছেন যে তাদের পরিকল্পনা দেশকে গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ও মানবিক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেবে, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবন উন্নত হবে। জনসাধারণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারেক রহমানের আগের অভিজ্ঞতা ও দলের পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে তা সময়ই বলবে। তবে উত্তরবঙ্গের এই নির্বাচনী প্রচারণা ইতোমধ্যেই মানুষের মনে আশা ও প্রয়োজনে বিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে