পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ মিছিল ও সভায় ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গন। উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে গতকাল রোববার বিকেলে পাল্টা মিছিল ও পথ সভা করেছেন উনার সমর্থকরা। এর আগে রূমিন সমর্থক একদল লোক গত শনিবার বিকালে আনোয়ার হোসেনের বিরূদ্ধে নানা অশ্লীল স্লোগান দিয়ে বাসভবনের সামনে অবস্থান করেছে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ২-৩ দিন ধরে উপজেলা বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যরিস্টার রূমিন ফারহানার সমর্থকদের মধ্যে চলছে এই বিরোধ। যদিও বিএনপি’র সভাপতি বলছেন এসব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। ২০১২ সালের অক্টোবরে এমন কিছু ঘটনার পরই খুন হয়েছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের পরিচ্ছন্ন নেতা এ কে এম ইকবাল আজাদ। তখন তছনছ হয়ে গিয়েছিল সাজানো গোছানো সরাইল। তাই বর্তমানে রূমিন ও বিএনপি’র সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়ছে এখানকার সাধারণ মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় লোকজন জানায়, ভাষা দিবসের প্রথম প্রখরে সরাইল কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে স্থানীয় এমপি ব্যরিস্টার রূমিন ফারহানা প্রথম ফুল দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে বাঁধ সাদে বিএনপি। এতে শহিদ মিনার চত্বরে ধাক্কাধাক্কি ও হট্রগোলের সৃষ্টি হয়। ফুল দিতে না পেরে চলে যান রূমিন। এ সময় শহিদ মিনার চত্বরে ছিলেন জেলা বিএনপি’র সদস্য ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন। রূমিন ফারহানা অভিযোগ করেন আনোয়ার হোসেন ও বিএনপি’র বিরূদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার বিকালে রূমিন সমর্থক প্রায় দেড়-দুই শতাধিক লোক উপজেলা সদরে মিছিল ও পথসভা করেন। মিছিলে তারা আনোয়ার হোসেনের বিরূদ্ধে বিভিন্ন ধরণের অশ্লীল ও আপত্তিজনক স্লোগান দেন। এক পর্যায়ে মিছিলকারীরা আনোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনের খালি জায়গায় অবস্থান নেন। সেখান থেকে তারা শহিদ মিনার চত্বরে এক পথসভায় মিলিত হন। পথসভায় বক্তারা আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে শহিদ মিনারে মব করে এমপিকে ফুল দিতে না দেওয়া ও হামলা করার প্রতিবাদ করেন। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরূদ্ধে দ্রূত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবীও জানান। এই ঘটনায় ক্ষীপ্ত হন আনোয়ার হোসেন ও উনার সমর্থকরা। এর প্রতিবাদে গতকাল রোববার বিকেলে প্রায় দুই শতাধিক লোক পাল্টা আরেকটি মিছিল বের করেন। আনোয়ার হোসেনের বিরূদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও বানোয়াট মামলা দায়েরের প্রস্তুতির তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানানো হয়। তারা স্লোগানে বলেন, ‘আনোয়ার ভাইয়ের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে।’ ‘আনোয়ার ভাইয়ের ভয় নাই রাজপথ ছাড়ি নাই।’ ‘আওয়ামী লীগের দালালরা হুঁশিয়ার সাবধান।’এই মিছিলে তারা রূমিন ফারহানাকে নিয়েও আপত্তিকর স্লোগান দেন। শহিদ মিনার চত্বরে তারা এক পথসভায় মিলিত হন। সেখানে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা যুবদলের সাবেক নেতা মো. জহিরূল ইসলাম, যুবদল নেতা মো. সাইফুল ইসলাম, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জামাল লস্কর, বিএনপি নেতা আব্দুল হাফিজ মাখন, উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক মো. মশিউর রহমান খান প্রমূখ। বক্তারা বলেন, ভাষা দিবসে শহিদ মিনারে কিছু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। এই ঘটনাটিকে পুঁজি করে একটি মহল ষড়যন্ত্র করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। ওই সন্ত্রাসীরা বিএনপি’র সূর্য সন্তান আনোয়ার হোসেনের বিরূদ্ধে মিছিল করেছে। উনার বাড়িতে হামলা করেছে। ওই সন্ত্রাসীদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে ও প্রতিবাদে আজকে আমরা রাজপথে নেমে আসছি। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ওই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। এর বিচার না পেলে আমরা দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব। আমাদের বিরূদ্ধে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ওই আমাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে হরতাল দিয়ে গোটা সরাইলকে অচল করে দেব। আনোয়ারের নামে কোন ধরণের উস্কানিমূলক বক্তব্য দিলে কাউকে ছাড়ব না। রূমিন ফারহানার বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে বক্তারা বলেন, ওইদিন শহিদ মিনারে বিএনপি’র সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক উপস্থিত থাকার পরও তিনি (এমপি) বলেছেন ওই সময়ে বিএনপি’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দেখেননি। এটাও মিথ্যা কথা। জেলা বিএনপি’র সহসভাপতি ও উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর বলেন, আজকে (গতকাল রোববার) আমাদের দলীয় কোন কর্মসূচি নেই। শুক্রবার রাত সোয়া ১২টার দিকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। কোন সংঘাত বা সংঘর্ষ নয়। আমরা বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাসী। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, নিয়মমাফিক এমপি মহোদয়ই শহিদ মিনারে প্রথম ফুল দিবেন। ওই দিনের ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত ও দু:খজনক। যেকোন ধরণের আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। মিছিল চলাকালে পুলিশ সেখানে অবস্থান করছিল। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার বলেন, পাল্টাপাল্টি মিছিল ও পথসভার বিষয়টি লোক মুখে শুনেছি। সকল পক্ষকে শান্ত রাখার প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করতে অফিসার ইনচার্জেকে বলেছি।