চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় যুবদল কর্মী আমান উল্লাহ (৩৮) গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে ইফতার মাহফিলে যাওয়ার পথে পূর্বের কথা কাটাকাটির জেরে এলাকার কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত আমান উল্লাহ উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হারিছচাঁদ চৌধুরী বাড়ির মো. শাহ আলমের ছেলে। হামলাকারীরা তাকে ফেলে গেলে পরিবার খবর পেয়ে দ্রুত রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তার মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং পায়ের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ রেফার করা হয়েছে। আহতের মা দাবি করেন, “আমার ছেলে যুবদল করে। কী কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে, আমরা জানি না। মহিউদ্দিন, আনোয়ারসহ কয়েকজন তাকে পিটিয়েছে বলে শুনেছি।” আমান উল্লাহ অভিযোগ করেন, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর রাজনীতি করেন এবং গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী। অপর পক্ষ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সমর্থক হওয়ায় রাজনৈতিক বিরোধ থেকেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তার দাবি। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এবং থানায়ও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অতীতে তিনি কয়েকটি মারামারির ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এদিকে ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলে জানা গেছে, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে। স্থানীয়দের বরাতে রাউজান থানার সেকেন্ড অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে নানা অপকর্সের অভিযোগ রয়েছে এব। কে বা কারা তাকে মারধর করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় চেয়ারম্যানের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।