ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মোবারকগঞ্জ চিনিকলে চিনি খেতে নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। বুধবার বেলা ১২ টার দিকে চিনিকলের কারখানার ভিতরে এমন ঘটনা ঘটেছে। মোচিকের একজন শ্রমিক জানান, ওজনকৃত চিনির বস্তা থেকে আখ বহনকারী ট্রলি চালকেরা চিনি খেতে গেলে সেখানে দায়িত্বরত শ্রমিকরা তাদের নিষেধ করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতন্ড এবং পরবর্তীতে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে আখ বহনের ট্রলি চালকরা বাইরে বের হয়ে সঙ্গবদ্ধ হয়ে দেশিয় অস্ত্র এবং লোহার রড নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে চিনিকলের শ্রমিকদের উপর। এসময় তাদের আক্রমণে কারখানার বোয়িং হাউস ফোরম্যান আবদার হোসেন গুরুতর জখম হয়। তাৎক্ষণিক ভাবে সেখানে থাকা শ্রমিকদের প্রতিরোধে আখ বহনের ট্রলি চালকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও দুইজকে ধরে ফেলে শ্রমিকরা। ওই দুজনকে কারখানা গেটে অবস্থিত টাইম অফিসের মধ্যে আটকে রাখে তারা।এই দুইজন কালীগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে আকাশ এবং একই গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে রকি ইসলাম। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে থানা পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাই। অপরদিকে আহত শ্রমিক আবদার হোসেন কে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তার যশোরে সদর হাসপাতালে রেফাড করেন।
মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম মারামারি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন,খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে মারামারির ঘটনায় জড়িত থাকা শ্রমিক কর্তৃক আটককৃত দুজনকে থানায় নিয়ে আসি। এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় চিনিকল কর্তৃপক্ষ কোন লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেনি। তবে আমি মিলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলে এসেছি আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় আসার জন্য।