পুষ্টি পরিপূরক আমদানিতে নীতি ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব

এফএনএস | প্রকাশ: ২৪ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
পুষ্টি পরিপূরক আমদানিতে নীতি ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব

দেশে ডায়েটারি ও হারবাল সাপ্লিমেন্টকে ওষুধ হিসেবে গণ্য করে নিবন্ধন ছাড়া আমদানি ও বিক্রি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ঔষধ ও কসমেটিকস আইন-২০২৩ অনুযায়ী এসব পণ্য এখন ওষুধের আওতায় পড়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল প্রতিরোধ এবং নিরাপদ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, আইনের প্রয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতি এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রতিষ্ঠান বিশেষ অনুমোদন নিয়ে পুষ্টি পরিপূরক আমদানি করছে। নিয়ম অনুযায়ী জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া এসব পণ্যের জন্য ছাড়পত্র দেওয়ার বিধান নেই। অথচ নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার প্রশ্ন তৈরি করেছে। এতে বাজারে বৈষম্য তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নীতির প্রতি আস্থাও ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পুষ্টি পরিপূরক পণ্যগুলো অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে আইসিইউতে থাকা রোগী, কিডনি বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, শিশু কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীর জন্য নির্দিষ্ট পুষ্টি সম্পূরক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সুতরাং এসব পণ্যের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু প্রয়োজনের যুক্তি দেখিয়ে যদি নীতিমালার বাইরে গিয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়, তাহলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় অনিয়মের পথ তৈরি করতে পারে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আইন কার্যকর হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়নি। ফলে একদিকে নিবন্ধন ছাড়া আমদানি অবৈধ, অন্যদিকে নিবন্ধনের কার্যকর প্রক্রিয়াও পুরোপুরি চালু হয়নি। এই নীতিগত শূন্যতার সুযোগে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই হয়ে উঠছে প্রধান নিয়ামক, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য অনুকূল নয়। স্বাস্থ্যখাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ্লিমেন্টকে ওষুধ হিসেবে ঘোষণা করা একটি কঠোর নীতি, যা বাজার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে এর প্রয়োগে স্বচ্ছতা, সমতা এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিশ্চিত করা জরুরি। নতুবা এটি সীমিত কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করার অভিযোগকে আরও জোরালো করে তুলতে পারে। এক্ষেত্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডায়েটারি ও হারবাল সাপ্লিমেন্টের জন্য পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করা। এবং আমদানি অনুমোদন বা ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা শুধু অর্থনৈতিক নয়, জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নও। তাই নীতিমালা প্রণয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং কঠোর নজরদারির সমন্বয়েই কেবল এই খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।